টিকে থাকার দুশ্চিন্তায় মোবাইল ফোন অপারেটররা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নতুন বাজেটে আরোপিত করের বোঝায় কীভাবে টিকে থাকবেন তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় মোবাইল ফোন অপারেটররা।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে মঙ্গলবার মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়িক এ শঙ্কার কথা জানান।

অ্যামটব মহাসচিব বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব) এস এম ফরহাদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাদাত হোসেন ও টেলিটকের উপ-মহাব্যবস্থাপক সাইফুল আলম।

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো বছরেই ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনের সঙ্গে পলিসির কোনো মিল থাকে না। কিছু মানা হয় না। উল্টো নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

‘লাভ করা তো গুনাহ না। মার্জারের কয়েক বছর রবি এবার লাভ করলো। এখন এই বাজেটের প্রভাবে আর লাভের মুখ দেখা হবে না। বরং ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাদ দিয়ে বিনিয়োগের পরিবর্তে ব্যবসা সংকুচিত করে ফেলার চিন্তা করতে হবে’ বলছিলেন তিনি।

রবির শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সবখাতে খরচ কমিয়ে আনতে হবে। সেটা প্রচার-প্রচারণা হতে শুরু করে লোকবল কমিয়ে ফেলা পর্যন্ত।

তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন রবি প্রফিট করছে কিন্তু সেটা দেখায় না। টাকা পাচার করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসিসহ নানা নিয়ন্ত্রণে অডিট ও কোনো অনুসন্ধানে কেউ এটা বের করতে পারেনি যে লাভ গোপন করা হচ্ছে, টাকা পাচার করা হচ্ছে।

‌’লাভ না করার পরও বাধ্যতামূলকভাবে সর্বনিম্ন শুল্কের বোঝা টেলিকম খাতের জন্য চাপানো রয়েছে। এটা আগের পৌনে এক শতাংশ হতে এখন ২ শতাংশ করে দেয়া হয়েছে। লস করে এই কর তো মূলধন হতে দিতে হবে। তাহলে এ দেশে বিনিয়োগের চিন্তা করা কীভাবে সম্ভব? উল্লেখ করেন রবি সিইও।

সংবাদ সম্মেলনে এস এম ফরহাদ হোসেন এক উপস্থাপনায় জানান, নতুন অর্থবছরে মোবাইল ফোনে সিম ও রিম কার্ডের উপর আরোপিত সম্পূরক শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে, সিম কার্ডের উপর আরোপিত শুল্ক ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা হয়েছে, পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর রিটেইনড আর্নিং বা আয়ের সঞ্চিতির উপর ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা, মোবাইল কোম্পানির আয়ের উপর সর্বনিম্ন শুল্ক ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ হয়েছে এবং স্মার্টফোন আমদানিতে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।  

পরে বক্তব্যে অ্যামটব মহাসচিব বলেন, প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক নীতিমালা বর্তমান ও নতুন গ্রাহকদের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত খরচের বোঝা বাড়াবে।

‘অবিবেচনাপ্রসূত হারে কর হার বৃদ্ধি ও নতুন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপ ফোরজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও ফাইভজি নেটওয়ার্ক স্থাপনের পুরো প্রক্রিয়াটিকেই হুমকির মুখে ফেলবে’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আয়ের সঞ্চিতির উপর আরোপিত ১৫ শতাংশ হারে করারোপ করায় তা পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্পোরেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নতুন করে আরোপিত এই করের বোঝা কমিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠানগুলো নূন্যতম রিজার্ভে অতিরিক্তি লভ্যাংশ প্রদানে বাধ্য করবে। যা ভবিষ্যত বিনিয়োগ কমিয়ে আনবে। আয়ের সঞ্চিতির উপর করারোপ মূলত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দ্বৈত করারোপ করবে। যেহেতু ইতোমধ্যেই নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কর্পোরেট কর দিয়ে আসছে, নতুন করে আরোপিত করের ফলে প্রতিষ্ঠানসমূহকে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে।

প্রস্তাবিত কর ও শুল্ক কাঠামো আরোপের মাধ্যমে এই খাতটিকেই পঙ্গু করে দেবে বলে মনে করছেন তিনি।

অ্যামটব মহাসচিবের মতে, মোবাইল সেবাখাতে ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের ফলে তা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকেই বাধাগ্রস্ত করবে। এছাড়া নতুন সিম কার্ড ও প্রতিস্থাপনের উপর আরোপিত শুল্ক ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা বৃদ্ধি করায় নতুন গ্রাহকদের খরচের বোঝা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি করবে।

টেলিযোগাযোগ খাত সরকারের জন্য রাজহাঁস, এটি সোনার ডিম দেয় উল্লেখ করে এস এম ফরহাদ বলেন, বাজেট বক্তৃতায় রাজহাঁসকে ব্যথা না দিয়ে পালক তোলার কথা বলা হয়েছে। ৬ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপিতে অবদান রাখা খাতটিতে পালক তোলার যে আয়োজন হয়েছে তাতে রাজহাঁসের মরণ দশা হয়েছে।

তাইমুর রহমান বলেন, আগে সিম ট্যাক্স ১০০ টাকা ভর্তুকি দিতো মোবাইল ফোন অপারেটরা। এখন এই ট্যাক্স ২০০ টাকা করা এটি তো আর সম্ভব হবে না।

এডি/জুন১৮/২০১৯/২২০০

*

*

আরও পড়ুন