বাজেট সন্তুষ্টিতে একগাদা পুনর্বিবেচনার দাবি চার তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনের

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  নতুন বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলো সন্তুষ্টি প্রকাশ করে অনেককিছুর পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।   

রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছেরর বাজেট প্রতিক্রিয়া জানায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের চার শীর্ষ পর্যায়ের সংগঠন বেসিস, বিসিএস, আইএসপিএবি এবং বাক্য।  

এতে বেসিসের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বিসিএসের পক্ষে সভাপতি শাহীদ-উল-মুনির, আইএসপিএবি’র পক্ষে সভাপতি এম এ হাকিম এবং বাক্যের মহাসচিব তৌহিদ হোসেন বাজেট প্রতিক্রয়া জানান।  

আলমাস কবীর বলেন, আইসিটি খাতে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাজেটে বারাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ সর্বশেষ অর্থবছরের চেয়ে ২১৭৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, গতবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বরাদ্দ এ বছর ১৯৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের  জন্য সরকার ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ করা হয়েছে। এজন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। 

ভার্চুয়াল বিজনেস ও ডিজিটাল কমার্সের উপর ভ্যাট ০ শতাংশ থেকে বেড়ে সাড়ে সাত শতাংশ হয়েছে যা বিকাশমান খাতটির অগ্রগতির জন্য অন্তরায় উল্লেখ করে তিনি আগামী কয়েক অর্থবছরের জন্য পুনরায় ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানান। 

বেসিস সভাপতি বলেন, সরকারের কাছে সামগ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি ছিল। আউটসোর্সিং খাতে গবেষণা ও উন্নয়নে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। এছাড়াও টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোজেক্টের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব ছিল।

সংশোধিত বাজেটে এই প্রস্তাবগুলো পুনরায় বিবেচনা করার দাবি জানান তিনি। 

আইটিইএস খাতে ৫ শতাংশ মূসক আরোপ এ খাতের বিকাশের অন্তরায়। এ খাত থেকে পুরোপুরি মূসক প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।  এছাড়া আইটিইএসের সংজ্ঞা পরিবর্তনের দাবিও জানান তিনি। যেখানে সফওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তির বেশ কিছু বিষয়কে অন্তভূক্ত করার দাবি করা হয়েছে। 

বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর বলেন, ব্যবসায়ী পর্যায়ে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশের উপর মূসক অব্যহতি বহাল রাখা হয়েছে। এটি অবশ্যই ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবে।

কিন্তু এতে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট যাবতীয় হার্ডওয়্যার সামগ্রীর উপর অতিরিক্ত করের চাপ ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে বিবেচনায় এ কর হতে অব্যাহতির দাবি তোলেন তিনি। 

শাহিদ-উল-মুনীর বলেন, কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানি পরবর্তী পর্যায়ে সরবরাহ বা যেকোনো ভাবে সরবরাহ বা বিক্রির উপর প্রস্তাবিত বাজেটে মূসক ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে সাড়ে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের স্বার্থে তা পূর্বের ন্যায় ৫ শতাংশ বহাল রাখা হোক।

আইএসপিএবি সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তির প্রচার ও প্রসারের বিষয়ে অত্যন্ত তৎপর। এটি সুবিদিত যে, প্রতি ১ হাজার ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে প্রায় ১০ জন কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এছাড়াও বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুসারে প্রতি ১০ শতাংশ  ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পেনিট্রেশনের মাধ্যমে ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ  জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঘটে।

তিনি বলছেন, এমন অবস্থায় ফাইবার অপটিক ক্যাবলের উপর ৫ শতাংশ  রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ ও প্রসারে এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট জনমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। যার প্রভাব সরকারি মেগা প্রজেক্টগুলোতেও পড়বে।

এই শুল্কে প্রত্যাহারের দাবি জানান আইএসপিএবি সভাপতি। 

বাক্যের মহাসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, আইটিইএসের সংজ্ঞায় বিপিও এর কথা উল্লেখ থাকলেও, বিপিও এর মধ্যে বিভিন্ন সেবা রয়েছে। তাই বিপিও এর সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা জরুরি।

পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা আইটিইএস ওপর বাজেটে ৫ শতাংশ মূসক রয়েছে। এটি প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। 

 সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান, সহ-সভাপতি(অর্থ) মুশফিকুর রহমান, পরিচালক জনাব দিদারুল আলম, বিসিএসের সহ-সভাপতি ইউসুফ আলী শামীম, মহাসচিব মোশারফ হোসেন সুমন, কোষাধ্যক্ষ মো. জাবেদুর রহমান শাহীন, পরিচালক মো. আছাব উল্লাহ খান জুয়েল।

ছিলেন আইএসপিএবির  মহাসচিব ইমদাদুল হক।

এডি/জুন১৬/২০১৯/১৬০০

*

*

আরও পড়ুন