শুধুই হতাশ মোবাইল ফোন অপারেটররা

টেলিকম-নেটওয়ার্ক-টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নতুন অর্থবছরের বাজেটে টেলিকম খাতের প্রাপ্তি নিয়ে একরাশ হতাশায় মোবাইল অপারেটররা। 

এবার দাবিদাওয়ার কিছু তো মেলেইনি উল্টো বিভিন্ন জায়গায় কর বৃদ্ধির বোঝা চেপেছে তাদের ঘাড়ে।  

রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম টেকশহরডটকমকে বলছেন, লোকসান গুনলেও বাধ্য হয়ে এতদিন অপারেটররা পৌনে এক শতাংশ হারে নূন্যতম কর দিতো। খুব হতাশাজনক যে সেটা প্রত্যাহারের পরিবর্তে এবার ২ শতাংশ করা হয়েছে। অথচ বিদ্যমান কর কাঠামো তাতে কোনো মতে বাজারে টিকে আছে অপারেটরগুলো।

‘সব ধরনের মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে ডিজিটাল সেবা গ্রহণে আগ্রহী সব গ্রাহককে নিঃসন্দেহে বাড়তি চাপে ফেলবে’ বলেন তিনি। 

অপারেটরটির এই কর্মকর্তা জানান, মোবাইল ফোনের সিম কর কমার বদলে উল্টো ‍দ্বিগুণ করা হয়েছে।  ২০০ টাকা সিম কর করার প্রস্তাব নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট করার খরচ দ্বিগুণ বাড়াবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কর ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতের গুরুত্ব একটি বড় হোঁচট খাবে । আর উচ্চ করের বোঝা নিয়ে এ শিল্প সামনে কতোদিন টিকে থাকতে পারবে সেটি নিয়ে আশংকা রয়েছে।

‘এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চালিকাশক্তি হিসেবে ফাইভজি, আইওটি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো সেবা প্রদানে আগামীতে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এ বিনিয়োগের সংস্থান নিশ্চিত করতে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে টেলিযোগাযোগ খাতের স্থিতিশীল অবস্থা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি’

‘টিকে থাকার যুদ্ধে হিমশিম খাওয়া মোবাইল টেলিযোগাযোগ শিল্পের যখন প্রয়োজন সহযোগিতা ঠিক সে সময়ে এমন কর হার আরোপ আত্মঘাতী’ বলছিলেন তিনি। 

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান টেকশহরডটকমকে বলেন,  সম্পূরক শুল্ক ও সিম করের এই বৃদ্ধি দেশে ডিজিটাল সেবার প্রসারকে ব্যাপক ভাবে বাধাগ্রস্ত করবে ।  সর্বনিম্ন কর বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করবে। 

‘স্মার্টফোনকে উচ্চবিত্তদের ব্যবহারযোগ্য পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে এর উপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ফোরজি সেবা চালু হবার পর থেকে দেশের জনসাধারণের মধ্যে স্মার্টফোনের ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। কারণ সকল শ্রেণীর মানুষ বিভিন্ন ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যম হিসেবে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এই শুল্ক এই অগ্রগতিকে শ্লথ করে দেবে’ বলছিলেন তিনি। 

টেলিকম বিশেষজ্ঞ ও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, দেশ নিয়ে সরকারের যে মূল লক্ষ্য তার সঙ্গে বাজেটে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুলভ মূল্যে ডিজিটাল সেবা দেয়া হবে কিন্তু সেই প্রযুক্তিতে ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের উপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। এগুলো গ্রাহকের অ্যাফোর্টেবিলিটির উপর চাপ তৈরি করবে।  

‘এগুলো সুফল বয়ে আনবে না। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটা নেগেটিভ সিগনাল। দেশে এমনিতেই বড় করদাতাদের সংখ্যা কমে আসছে। অনেকে কোম্পানি বিক্রি করে চলে গেছে। এই যখন অবস্থা তখন বিষয়টা ভাবতে হবে’ বলছিলেন তিনি। 

নূরুল কবীর বলেন, দেশে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সামনে ফাইভজি, আইওটি, ব্লকচেইনের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। বাজেটে ব্লকচেইনের মতো প্রযুক্তি চালুর ঘোষণা এসেছে সেখানে এগুলো সহজলভ্য করা ও রাস্তা তৈরির বিষয়টি ভাবা হয়নি। 

স্মার্টফোনের পেনিট্রেশন মাত্র ৩০ শতাংশ। প্রযুক্তি যেভাবে এগুচ্ছে তাতে এই পেনিট্রেশন ৭০-৮০ শতাংশ হতে হবে। স্থানীয় উদ্যোগের পরিসরও এখন এমন বড় হয়নি স্মার্টফোন আমদানিতে এমন পরিসরে করারোপ করা যেতে পারে। এখানে আড়াইগুণ কর বৃদ্ধি স্মার্টফোনের পেনিট্রেশনে বৃদ্ধি বড় বাধা হবে বলে মনে করেন তিনি। 

তিনি বলছেন, সরকারের আইসিটি পলিসি, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্পে, টেলিকম পলিসিতে যা বলা হয়েছে, যা ভিশন রয়েছে তার সঙ্গে মিল করলে বাজেটে এমন চিত্র আসার কথা না। 

টেলিকম খাতের এই বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করার আহবান জানিয়ে এই টেলিকম বিশেষজ্ঞ বলেন, বিষয়গুলো ঠিক না হলে স্বল্প মেয়াদেই হোঁচোট খাবে জনগণ ও ডিজিটাল গন্তব্যের পথ চলা। 

এদিকে অ্যামটব এক বিবৃতিতে বাজেটে যে সব খাতে করারোপ করা হয়েছে তাকে দু:খজনক উল্লেখ করে জানায়, এমন করারোপ জাতিসংঘ ঘোষিত এবং সরকার অনুমোদিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথকে রুদ্ধ করবে।

সংগঠনটি প্রস্তাবিত কর হার প্রত্যাহার করে এ খাতের জন্য একটি ইতিবাচক কর নীতি প্রণয়নের আহবান জানিয়েছে। 

এডি/জুন১৩/২০১৯/২২২২  

*

*

আরও পড়ুন