এত অসন্তুষ্টি মোবাইল অপারেটরদের নিয়ে!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবা নিয়ে যেনো কারও কোনো সন্তুষ্টি নেই। 

অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার গণশুনানিতে তাদের বিরুদ্ধে দেখা গেল গণ মানুষের অভিযোগ, উষ্মা আর ক্ষোভ। অপারেটরদের কোনো সেবা নিয়ে কারও মুখে শোনা গেল না তেমন কোনো সন্তুষ্টি।

মানুষের অসন্তুষ্টির সঙ্গে স্বয়ং বিটিআরসির চেয়ারম্যানও নিজের ভোগান্তি ও অসন্তুষ্টির কথা জানান। 

সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, মোবাইলে বিজ্ঞাপন নিয়ে আমিও ভুক্তভোগী। ফোনে আমাকে ফ্লাট, গাড়ি বিক্রির কথা বলা হয়।

এ বিষয়ে অপারেটরদের কাছে সাহায্য চান তিনি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন।

‘সার্ভিসের বিষয়ে আমি  নিজেও সন্থুষ্ট না। প্রযুক্তির বিষয়ে কেউ সন্তুষ্ট হয় না। সন্তুষ্ট হলে উন্নয়ন হতো না। প্রযুক্তি চলমান, আজ যে প্রযুক্তিতে আছেন কাল আরেক প্রযুক্তিতে যাবেন’ উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান। 

সমস্যা হলে তা নিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। এসব সমস্যা সবাইকে নিয়ে বসে সমাধান করার কথা বলেন জহুরুল হক। 

সাধারণ মানুষের বক্তব্য-অভিযোগ-দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ডি-অ্যাক্টিভেটেড নম্বর দিয়ে ইমো-ভাইবারের মতো অ্যাপস ব্যবহার বন্ধ করা, অযাচিত নম্বর থেকে কল আসা , যেখানে-সেখানে টাওয়ার বসানো, কলড্রপের ভোগান্তি না কমা, ইন্টারনেটের কাঙ্খিত গতি না পাওয়া, নেটওয়ার্ক না পাওয়া, ফোরজি  না পাওয়া, কলে-ইন্টারনেটে বেশি টাকা কেটে নেয়া, ঘোষণা অনুযায়ী সেবা ঠিকঠাক না দেয়া, অনলাইনে সিম কেনার টাকা নিয়ে সেবা না দেয়া, টেলিটকের খারাপ সেবার মতো বিষয়।  

এছাড়া বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন, সাইবার অপরাধ, মোবাইলফোনে হুমকি, ফেইসবুক ব্যবহারে নিরাপত্তা, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ফাইভ জি, অ্যামেচার রেডিও সার্ভিস, মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি, ওয়াইম্যাক্সে অন্যায়ভাবে টাকা কেটে রাখা নিয়েও অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা জানান সাধারণ মানুষ।

তিন ঘন্টার এই গণশুনানিতে ৫০টির মতো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। 

বুধবার সকাল ১১ টায় রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে এই শুনানি শুরু হয়। এতে প্রায় ৩০০ জনের মতো উপস্থিতি দেখা গেছে।

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মোঃ জহুরুল হক, কমিশনার (স্পেকট্রাম) মোঃ আমিনুল হাসান, কমিশনার (ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স) মোঃ রেজাউল কাদের, কমিশনার (সিস্টেম এন্ড সার্ভিসেস) প্রকৌশলী মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ এবং কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের মহাপরিচালকরা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন। 

অভিযোগসমূহ ১৫-২০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির করা হবে বলে উল্লেখ করেন তারা। 

বিটিআরসি বলছে, এবারের শুনানিতে  নিবন্ধনের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৩১৯ প্রশ্ন, অভিযোগ বা মতামত পেয়েছে তারা।  পরবর্তীতে গণশুনানি সংশ্লিষ্ট কমিটি যাচাই-বাছাই করে ১৬৫ জনকে শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানায়।

কিন্তু প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি, সম্পূর্ণ নয়, প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় মাত্র ১২০টি বাছাইয়ে টেকে। 

সময়ের অভাবে নিবন্ধিত ও সম্পূরক যেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায়নি তা পরবর্তীতে বিটিআরসির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেয়ার কথা জানান বিটিআরসির কর্মকর্তারা। 

এডি/২০১৯/জুন১২/১৭৩০

*

*

আরও পড়ুন