লাভে বছর শুরু রবির

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সাড়ে ১১ কোটি টাকা মুনাফা করেছে রবি।

এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণ ও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে দুই বছর টানা লোকসানের পর ২০১৮ সালের শেষে লাভে ফেরে অপারেটরটি। ২০১৯ এর শুরুতে সেই ধারাবাহিকতায় থাকলো তারা।    

যদিও অপারেটরটি বলছে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (আইএফআরএস) সিক্সটিন বাস্তবায়ন করায় অর্জিত স্বল্প মুনাফা ২৪ দশমিক ৬ কোটি টাকা লোকসানে পরিণত হয়েছে।

রবি জানায়, সেবা খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব এবং কোম্পানির নেয়া ব্যয় ব্যবস্থাপনার ফলে এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্বল্প মুনাফা মার্জিন ও ইবিআইটিডিএ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই হিসাবে আইএফআরএস সিক্সটিন এর ইমপ্লিকেশনগুলো বিবেচনায় রাখা হয়নি।

রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, একীভূতকরণ ও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে আর্থিক চাপ সামলে মুনাফার ঘরে আসতে পেরে তারা খুশি। ফোরজি নেটওয়ার্কের উপর ভিত্তি করে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল জীবনধারার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। এমএনপির মাধ্যমে গ্রাহকরা ক্রমাগত রবিতে আসতে থাকায় এটা স্পষ্ট যে উদ্ভাবনী ডিজিটাল ব্র্যান্ড হিসেবে বাজারে জায়গা করে নিয়েছে রবি। তবে তাদের অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে ভারসাম্যহীন বাজার প্রতিযোগিতা নিরসনে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ আছে।

এবার ডেটা ও ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস থেকে রাজস্ব বৃদ্ধিকে কোম্পানির ডিজিটাল রূপান্তরের কারণ হিসেবে দেখছে অপারেটরটি।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রবির আয় ১ হাজার ৮২৯ দশমিক ১ কোটি টাকা। এটি গত প্রান্তিকের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালের একই প্রান্তিকের তুলনায় রাজস্ব বৃদ্ধির হার ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।

২০১৮ সালের সর্বশেষ প্রান্তিকের তুলনায় ভয়েস থেকে রবির রাজস্ব ০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বছরটির একই প্রান্তিকের তুলনায় তা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই হিসেবে যথাক্রমে ডেটা থেকে রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৩২ দশমিক ১ শতাংশ।

গ্রাহক সংখ্যা ২০১৮ সালের সর্বশেষ প্রান্তিকের তুলনায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অপারেটরটির গ্রাহক ৪ কোটি ৭৩ লাখে দাঁড়িয়েছে। এট দেশের মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অপারেটরটির ২ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন যা মোট গ্রাহকের ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ।

আইএফআরএস সিক্সটিন এর ইমপ্লিকেশনগুলো বিবেচনায় না নিয়ে ২৯ দশমিক ১ শতাংশ মার্জিনসহ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের রবির ইবিআইটিডিএ দাঁড়িয়েছে ৫৩১ দশমিক ৭ কোটি টাকায়।

ফোরজি নেটওয়ার্ক আরও বাড়াতে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের রবির মূলধনী বিনিয়োগ হয়েছে ৩০৪ দশমিক ৮ কোটি টাকা।

এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৭ হাজার ৮৭৮টি সক্রিয় সাইট নিয়ে দেশের সবচেয় বড় ফোরজি নেটওয়ার্ক গড়েছে অপারেটরটি।  

কার্যক্রম শুরুর পর থেকে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত রবির মোট মূলধনী বিনিয়োগের পরিমান ২৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। একই সময়ে তারা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে প্রদান করেছে মাত্র ২৯০ কোটি টাকা।

চলতি প্রান্তিকের ৬৫৪ দশমিক ১ কোটি টাকাসহ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ২৪ হাজার ৫১০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে তারা।

এডি/মে২৮/২০১৯/১৭৩০

আরও পড়ুন – 

টেলিনর-আজিয়াটা একীভূতিকরণের উদ্যোগ বিটিআরসিকে জানাল রবি

ব্যবসার অগ্রগতী তুলে ধরলেন রবির উদ্যোক্তারা

*

*

আরও পড়ুন