STE 2019 (summer) in news page

হুয়াওয়ে-গুগল নিষেধাজ্ঞা কোথায় গিয়ে ঠেকবে

 

Laptop fair 2019 (in page)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তি বিশ্বে এখন চলছে গুগল ও হুয়াওয়ে বিতর্ক। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে হুয়াওয়ের বিষয়ে খড়গ হাতে নামলে শুরু হয় এ আলোচনার।

সেরা স্মার্টফোন হওয়ার দৌড়ে থাকা হুয়াওয়ে ফােনে সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করা না গেলে কী হবে সেই আলোচনা ডালপালা মেলছে সোমবার থেকে।

প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন গণমাধ্যম ঘেটে সেটাই জানার চেষ্টা করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

হাতের হুয়াওয়ে ফোনের কী হবে
আপনার হাতের কিংবা বাজারে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা সার্টিফাইড স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারিয়া নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েডের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় জানানো হয়েছে, পুরনো ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে স্টোরসহ অন্যান্য সব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তবে বড় আপডেটগুলোর ক্ষেত্রে কী হবে তা সুস্পষ্ট করে বলা হয়নি। অবশ্য অ্যান্ডয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্ট সকলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় হুয়াওয়ে নিজেরা কিংবা তৃতীয় পক্ষ কোনো কোম্পানির সহয়তা নিয়ে এমন আপডেটগুলো অবমুক্ত করতে পারবে। এমন ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের যদিও আপডেট পেতে বেশ কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জের এক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে হুয়াওয়ের পক্ষ থেকেও এমনটা জানানো হয়েছে

কেমন হবে হুয়াওয়ের ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন ব্যবসা
গুগলের নিষেধাজ্ঞার পরপরই শুরু হয়েছে হুয়াওয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা। এটি বলবৎ থাকলে ব্র্যান্ডটির স্মার্টফোন ব্যবসায় ধস নামতে পারে বলেও আশংকা করছেন অনেকে।

অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে স্মার্টফোনে বাজারে বেশ শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে তারা। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে নতুন স্মার্টফোন আনতে চীনা কোম্পানিটি শুধু অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্লাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবে।

অন্যদিকে গুগল প্লে, জিমেইল, ইউটিউবসহ গুগলের জনপ্রিয় সেবা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তখন এসব অ্যাপ ছাড়া অনেক ব্যবহারকারী হুয়াওয়ে ফোন কেনায় আগ্রহ হারাবেন। তা ছাড়া গুগুলের গুরুত্বপূর্ন নিরাপত্তা আপডেটগুলোও পাওয়া যাবে না।

এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে হার্ডওয়্যারও কিনতে পারবে না হুয়াওয়ে। মোবাইল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম, ব্রডকম ও ইন্টেলের উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল ছিল। এই দিক দিয়েও ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত বছর মার্কিন বাজারে জেডটিই নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর হুয়াওয়ে আগে থেকেই এমন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আঁচ করতে পেরেছিল। তাই নিজেদের মোবাইল চিপ উন্নয়নেও বেশ কাজ করেছে। এর পাশাপাশি নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম নিয়েও বেশ জোরেশোরে গবেষণা করেছে।

হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে নানা সময়ে তাই ‘প্লান বি’র কথাও বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, জরুরি সংকট মোকাবেলায় হার্ডওয়্যারের বর্তমান মজুদ দিয়ে আগামী ৩ মাস তারা অনায়েসেই চালিয়ে নিতে পারবে।

চলমান এ পরিস্থিতিতে হুয়াওয়ে যে শুধু একা ক্ষতির মুখে পড়বে, তা নয়। মার্কিন হার্ডওয়্যার প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম, ইন্টেলও বিক্রি কমে যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।

এ ছাড়া ৫জি নেটওয়ার্কের জন্য যেসব প্রযুক্তি দরকার সেগুলোও হুয়াওয়ের চেয়ে অনেক বেশি দামে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কিনতে হবে মার্কিন সরকারকে।

তাই প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উভয়ের স্বার্থে কঠোর এ পরিস্থিতি বদলে যেতে খুব বেশি সময় নাও লাগতে পারে।

আরও পড়ুন
হুয়াওয়ের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা!
ট্রাম্পের আঘাতের পর…
অ্যাপল বয়কটের ঘোষণা দিচ্ছে চীনারা
হুয়াওয়ের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘হংমেং
চুক্তি বাতিল, ৩ মাসের জন্য প্রস্তুত হুয়াওয়ে

দ্য ভার্জ ও ব্লুমবার্গ অবলম্বনে

আরএ/আরআর/ ২১ মে/২০১৯/২.২০

*

*

আরও পড়ুন