গ্যালাক্সি এ৩০ : মিডরেঞ্জের অ্যাকশন ফোন কাজেও তাই

samsung-galaxy-techshohor-2
Robi Before feture image

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে স্মার্টফোনের বাজার দিন দিন তুমুল প্রতিযোগীতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মাঝারি বাজেটের ক্ষেত্রে তা এখন সবচেয়ে বেশি।

জনপ্রিয় ব্রান্ডগুলো অপেক্ষাকৃত কম দামে উন্নত কনফিগারেশনের হ্যান্ডসেট দিয়ে বাজার দখলে রাখার চেষ্টা করছে। সেই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে স্যামসাংও দেশের বাজের সম্প্রতি ‘এম’ এবং ‘এ’ সিরিজের বেশ কিছু ফোন উন্মোচন করেছে।

রেডি, অ্যাকশন, ট্যাগলাইন দেওয়া ফোনগুলোকে দক্ষিণ কোরিয়ান ব্র্যান্ড বলছে ‘অ্যাকশন ফোন’। এরই ধারাবাহিকতায়  গ্যালাক্সি এ৩০ মডেলের হ্যান্ডসেট এনেছে।

ফোনটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাক এটি কতটুকু কার্যকর। 

ফোনের ফিচার

  • হাইব্রিড সিমকার্ড স্লট
  • ৬ দশমিক ৪ ইঞ্চির ফুল এইচডি সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে
  • স্যামসাংয়ের নিজস্ব এক্সাইনোস ৭৯০৪ প্রসেসর
  • ৪ গিগাবাইট র‌্যাম
  • ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ
  • অ্যান্ড্রয়েড ৯.০ পাই
  • ৫১২ গিগাবাইট পর্যন্ত মেমরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা
  • ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট
  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ডাবল ক্যামেরা : পেছনে ১৬ ও ৫ মেগাপিক্সেল
  • ১৬ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ব্যাটারি ৪০০০ এমএএইচ

ডিজাইন

প্লাস্টিক বডির ডিজাইনের পরও ফোনটি দেখতে বেশ হলেও নতুনত্ব চোখে পড়বে না।

এটির পেছনে বামে উপরের কোনার দিকে রয়েছে ডুয়েল ক‍্যামেরা সেটআপ ও ফ্ল‍্যাশ। ক‍্যামেরার ঠিক পাশে মাঝ বরাবর রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।

ডানে রয়েছে ভলিউম আপ ডাউন ও পাওয়ার বাটন এবং বামে হাইব্রিড সিম কার্ড স্লট। নিচের দিকে রয়েছে স্পিকার, টাইপ সি পোর্ট ও ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ‍্যাক।

টিয়ারড্রপ নচ ডিসপ্লের ডিভাইসটির চারপাশে বেজেল বেশ কম। ফোনটির ওজন ১৬৫ গ্রাম। এটি দেশের বাজারে প্রিজম ব্লাক ও প্রিজম ব্লু রঙে পাওয়া যাচ্ছে।

ডিসপ্লে

ফোনটিতে ৬.৪ ইঞ্চির ইউ-ইনফিনিটি টাইম অ্যামোলেড ফুল এইডি রেজুলেশন ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে অনেক ভালো অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। ডিসপ্লের রঙ এক কথায় এ বাজেটে অসাধারণ।

অ্যামোলেড ডিসপ্লে হওয়ার কারণে রোদে ব্যবহার করতে খুব বেশি সমস্যার সম্মুক্ষীণ হতে হবে না। টিয়ারড্রপ নচটি ফোনের ডিসপ্লের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

পারফরমেন্স

গ্যালাক্সি এ৩০ মডেলটিতে স্যামসাং তাদের এক্সাইনোস সিরিজের ৭৯০৪ প্রসেসর ব্যবহার করেছে, সঙ্গে রয়েছে ৪ গিগাবাইট র‍্যাম। এটির সিপিইউয়ের ধরন অক্টা কোর।

এ কনফিগারেশন মাঝারি ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক হলেও যারা মোবাইলে ফুলএইডি গেইম খেলে থাকেন তাদের বেশ বেগ পেতে হবে পারফরমেন্স নিয়ে।

গেইমার ছাড়া সাধারণ ব্যবহারকারীরা মাল্টিটাস্কিংসহ অনায়েসেই প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে পারবেন।

গিকবেঞ্চ বেঞ্চমার্ক টেস্টে এটির সিঙ্গেল ও মাল্টি-কোর স্কোর যথাক্রমে ১৩১৮ ও ৪১০৩ পয়েন্ট।

ক্যামেরা

ডিভাইসটির পিছনে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের মেইন সেন্সর ও ৫ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড লেন্সের ডুয়েল ক‍্যামেরা সেটআপ ও ফ্ল‍্যাশ।

ক‍্যামেরা দুটির অ‍্যাপার্চার যথাক্রমে এফ/১.৭ ও এফ/২.২। আলট্রা ওয়াইড লেন্সটি স্যামসাংয়ের ‘এস’ সিরিজের অনুরূপ ১২৩ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল পর্যন্ত ছবি তুলতে সক্ষম।

সেলফি তোলার জন্য রয়েছে এফ২.০ অ‍্যাপার্চারের ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

সবমিলিয়ে এ বাজেটের ফোন হিসেবে বেশ ভালো মানের ছবি তোলার অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। ক্যামেরা ইউআইতে অটো সেলফিসহ অন্যান্য কিছু কাস্টমাইজড ফিচার যোগ করেছে স্যামসাং, যা ব্যবহারকারীকে দারুন অভিজ্ঞতা দেবে।

ব্যাটারি

ডিভাইসটিতে রয়েছে ৪ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। এটি অনেক উচ্চ শক্তির ব্যাটারি বলা যায়।

একবার চার্জে স্বাভাবিক ব্যবহারের টানা একদিন অনায়াসে চলবে। এতে ১৫ ওয়াটের ‘সি টু সি’ টাইপ চার্জার ব্যবহার করা হয়েছে, যা ফোনটিকে অনেকটা দ্রুত ফুল চার্জ করে দেবে।

মূল্য

দেশের বাজারে এক বছরের বিক্রোয়ত্তর সেবাসহ ফোনটি ২২ হাজার ৯৯০ টাকায় টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • নজড়কাড়া ডিসপ্লে
  • যুতসই ক্যামেরা
  • দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি
  • চলনসই ডিজাইন

এক নজরে খারাপ

  • পারফরমেন্সে কিছুটা পিছিয়ে

আরএ/ইএইচ/আরআর/মে ১/২০১৯/০৩.৫৫

*

*

আরও পড়ুন