চাকরি প্রত্যাশী হাজার তরুণ বিপিও সামিটে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মো. শামীম আহমেদ। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনাওগাঁও হোটেলে দুই দিনের বিপিও সম্মেলনে এসেছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। এখন থাকছেন মিরপুরে। টিউশনি করেন নিজের খরচ যোগাতে। পাশাপাশি ইসলামি ডেভলপমেন্ট ব্যাংক আ আইডিবি থেকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দেওয়া স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

শামীম নিজেকে তৈরি করছেন চাকরির বাজারের জন্য। কিন্তু ২০১৬ সালে পড়াশোনা শেষ করেও এখন পর্যন্ত তার দেখা পাননি। নিজের তাগাদা থেকেই জেনেছেন বিপিও সম্মেলন সম্পর্কে। জেনেছেন দুইদিনের সম্মেলন থেকে অন্তত ৮০০ লোক নেবে এই খাতে।

অনেক আগে থেকেই তথ্যপ্রযুক্তিতে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ দেয় তাদের সম্পর্কে জেনেছি। সরকারের এলআইসিটি থেকে প্রশিক্ষণ নেবার জন্য যোগাযোগও করেছি। তারা আমরা সম্পর্কে বিস্তারিত নিয়েছে। পরে কোন প্রশিক্ষণ শুরু হলে জানাতে চেয়েছে, বলেন শামীম।

বেশ কয়েক সেট সিভি প্রিন্ট করে এনেছেন বিপিও প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেবার জন্য। শামীম বলেন, ‘আমার এখন একটা চাকরি চাই। শুধু টিউশনি করে টিকে থাকা খুব কষ্টদায়ক। আশা করছি এবার আমি বিপিও খাতে চাকরি পাবো’।

শামীমের মতো হাজারের বেশি তরুণ তরুণী অংশ নিয়েছে বিপিও সামিটের প্রথম দিনের প্রথম সেশনে। প্রথম সেশনে ‘তরুণদের পেশা হিসেবে বিপিও এবং বিপিওতে কর্মসংস্থান’ বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিতে হয়েছে। সেমিনারটিতে ছিল তরুণ-তরুণীদের উপচে পড়া ভীড়।

সেমিনারটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সেমিনারটিতে বক্তা এবং প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব জিয়াউল আলম, ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্সের মহাসচিব জেমস পয়সান্ট, আইসিটি বিভাগের ডিজি এএমএ আরশাদ হোসেন, দ্য উইনারস সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ওয়াজেদ সালাম, সিএনসি ডেটা (এলএলসি) এমডি রাজ মহান ভাইরামুথু, রেডিসন টেকনোলজিসের এমডি দেলোয়ার হোসেন ফারুক। সেশনটি পরিচালনা করেন বাক্যর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, বিপিওতে চার হাজার ৮০০ রকমের কাজ আছে। আমাদের তরুণরা যে এর মধ্যে কোন একটি কাজ করতে পারবে না এমন নয়। সে জন্য চাই নিজের প্রচেষ্টা।

জেমস পয়সান্ট তার উপস্থাপনায় তরুণদের উদ্দেশে বলেন, পেশা কি হবে সেটা নিজের কাছে। তবে যেটাতে আপনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন সেটাই পেশা হিসেবে নেয়া দরকার। বিপিওর কথা বলতে গেলে, এটা সম্পূর্ণই একটা আনন্দদায়ক মনভাবে থাকার পেশা।

তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইন্টারনেট আমরা সবাই ব্যবহার করি। কিন্তু সেটা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবহার করছি সেটাই মূখ্য। আমরা এখন সবকিছুই ইন্টারনেটেই পাই। তাই এটাকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

সিএনসি ডেটার এমডি রাজ মহান ভাইরামুথু বলেন, তরুণরা চাইলে যেকোন দেশ বদলে দিতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বাংলাদেশের তরুণরা এখন খুব ভালো কাজ করছে। বিপিও খাতটিও তাদের জন্য এগিয়ে যাবে।

একই সময়ে আরও দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দিনে। সেগুলো হলো ‘গভর্নমেন্ট প্রসেস আউটসোর্সিং স্টেপ ফরোয়ার্ড : এক্সপেরিয়েন্স শেয়ারিং অ্যান্ড কেস স্টাডিজ অব ডিফরেন্ট গভমেন্ট এজেন্সিস’ এবং ‘বিপিও খাতে আর্থিক সহযোগিতা’।

এর আগে দুই দিনের বিপিও সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

প্রথম দিনের আয়োজন শেষে দ্বিতীয় দিনেও থাকছে সেমিনার ও গোলটেবিল আলোচনা।

এবার সম্মেলন থেকে বেশ কিছু চাকরি দেবার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর। সেজন্য সিভিও সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। যেখান থেকে নির্বাচিতরা মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি পেয়ে যাবেন।

ইএইচ/এপ্রিল২১/২০১৯/১৯১৯

*

*

আরও পড়ুন