Techno Header Top and Before feature image

অনুকরণ না করে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহবান জয়ের

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ-২০১৯’ এর উদ্বোধনকালে দেশের তরুণ প্রজন্ম ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের প্রতি এ আহবান জানান তিনি। 

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে এই সামিটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জয় । বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

দেশের অভ্যন্তরীণ  ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপিও খাতের অবস্থানকে তুলে ধরতে চতুর্থবারের মতো এই সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  

জয় বক্তব্যে বলেন, একেক দেশের সমস্যা ও সম্পদ আলাদা আলাদা। তাই প্রতিটি দেশকেই নিজের প্রয়োজন ও প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিতে হবে। এখানে নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে হবে, নতুন প্রযুক্তি বের করে আনতে হবে। অনুকরণ নয়, উদ্ভাবন করতে হবে।

আউটিসোর্সিং খাতে শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশসহ অনেকের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার প্রয়োজন মনে করেন না তিনি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের বিপিও সেক্টরে কাজ করা তরুণ-তরুণীদের নিয়ে গর্ব করা যায়। নিজেদের ভবিষ্যত নিজেরাই গড়ে নিচ্ছে স্মার্ট তরুণরা। সরকারি বা প্রচলিত চাকরির জন্য তারা বসে থাকে না।

‘এই তরুণরাই দেশের প্রযুক্তিখাতে আগামীর মূল চালিকাশক্তি হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে এদের হাতেই বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ’ বলেন জয়।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, আগে দেশের বেশিরভাগ এলাকা অবহেলিত থাকতো আর অধিকাংশ উন্নয়ন হতো ঢাকা-চট্টগ্রামে। কিন্তু তিনি দেখলেন উন্নয়ন শুধু ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। তাই সারাদেশে ২০টি ডিজিটাল হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা হলো। সারাদেশে ফাইবার অপটিক ক্যাবল ছড়িয়ে দেয়া হলো।

দশ বছর আগেও বাংলাদেশের এখনকার অবস্থা মানুষ ভাবতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন কোনো বিদেশি সাহয্যের জন্য সরকার বসে থাকে না। শুধু তথ্যপ্রযুক্তি খাত নয় দেশকে এগিয়ে নিতে নীতিমালা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সবকিছুই সরকার নিজেই করে নিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বিদেশিদের সহায়তা রয়েছে তবে  ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পুরো ব্যবস্থাপনা দেশের সরকারের হাতে।   

মোস্তাফা জব্বার বক্তব্যে বলেন, দেশে ২০১৯ সালের পরে কোনো ইউনিয়ন থাকবে না যেখানে ফাইবার অপটিক সংযোগ থাকবে না।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য বিপিও খাত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কাজ করার জন্য কাউকে কম্পিউটার বিজ্ঞানী হওয়ার দরকার পড়ে না। এখানে  মেয়েদের কর্মসংস্থান হচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। রয়েছে নিরাপদ ও উপযুক্ত কাজের পরিবেশ। একজন মা যিনি ঘরে বসে কাজ করতে চাইছেন তাকেও বিপিও খাত পুরো সুযোগ দিতে পারে। এখন অনেক ছেলেমেয়ে গ্রামে বসে আউটসোর্সিং করছে। পরিবারের দায়িত্ব পালন করছে।

বিপিও খাতে দেশেই অনেক বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের  ব্যাংকিং, টেলিকম, শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো এখাতে সেবা নিতে আসেনি।

মন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন যে বাংলাদেশের বিপিও খাত এখন তাদের চাহিদা অনুযায়ী সব সেবা দিতে প্রস্তুত। এতে তারা নিজেরা যেমন সাশ্রয় করতে পারেন তেমনি কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রাখতে পারেন।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বিপিও খাতে ভারত আয় করছে ১০০ বিলিয়ন ডলার। ফিলিপাইন করছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। এ দেশটির ১০ লাখ তরুণ খাতটিতে কাজ করে। এখানে বাংলাদেশের লক্ষ্য দেবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। আর সে লক্ষ্য অর্জনে কাজ করবে সবাই।   

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এন এম জিয়াউল আলম, টেলিযোগাযোগ সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক, বাক্যর সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ।

উপস্থিত ছিলেন বাক্যের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেনসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটি ও এর সদস্যরা, খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা।  

এবারের সামিটের আয়োজক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং বা বাক্য। 

দুই দিনের আয়োজনে দেশি-বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, সরকারের নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বিপিও খাতের সঙ্গে জড়িতরা অংশ নিচ্ছেন। প্রদর্শন করা হচ্ছে আউটসোর্সিং সেবা। খাতটিতে ২০২১ সালের মধ্যে এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এতে মোট ১২টি সেমিনার ও কর্মশালায় ৪০ জন স্থানীয়, ২০ জন আন্তর্জাতিক বক্তা অংশ নিচ্ছেন। 

 এডি/এপ্রিল২১/২০১৯/১৪২০

*

*

আরও পড়ুন