১২৫০০ কোটি টাকা পাওনাকে ভিত্তিহীন বলছে জিপি

GP-BTRC-TechShohor

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিটিআরসির নিরীক্ষা বেআইনি এবং পাওনা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ভিত্তিহীন দাবি করে গ্রামীণফোন যৌক্তিক সমাধানের আহবান জানিয়েছে।

গ্রাহক বিচারে শীর্ষ অপারেটরটি মঙ্গলবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে।

চিঠিতে তারা কমিশনের পরিচালিত নিরীক্ষাকে ভিত্তিহীন ও বেআইনী উল্লেখ করেছে।

একই সঙ্গে অডিটের ভিত্তিতে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা দাবি করাকেও আইনগতভাবে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে আয়ের বিচারেও সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটরটি।

গত ২ এপ্রিল ১০ কার্যদিবস সময় দিয়ে বিপুল এ অর্থ পরিশোধের চিঠি দেয় বিটিআরসি। বুধবার এ সময়সীমা শেষ হবে। এর আগেই কমিশনের নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে এ বিষয়ে যৌক্তিক সমাধানের পথ খুঁজতে আহবান জানায় অপারেটরটি।

চিঠি পাঠানোর পর এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠায় গ্রামীণফোন। এতে নিরীক্ষার বিষয়ে অপারেটরটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফোলি বলেন, নিয়ন্ত্রন সংস্থার সঙ্গে অনেকবার আলোচনা এবং অডিটরকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করার পরও তাদের যুক্তিগুলো নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়নি, যা খুবই দুঃখজনক।

সিইও জানান, তারা জিপিতে নিরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বারবার এটির প্রক্রিয়াগত ত্রুটিগুলো তুলে ধরেছেন। কিন্তু তাদের মতামতকে দাবিনামায় পুরােপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

এ নিরীক্ষার ভিত্তিতে বিটিআরসি নিজে গ্রামীণফোনের কাছে ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা পাবে বলে দাবি করে। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরও ৪ হাজার ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের বক্তব্য হলো -রাজস্ব বোর্ডের হয়ে টাকা দাবি করার কোনো এখতিয়ার কমিশনের নেই।

অন্যদিকে তারা বলছে, বিটিআরসির দাবি করা সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৭৩ শতাংশ বা ৬ হাজার ১৯৪ কোটি ৩০ লাখ টাকাই হলো সুদ, যা ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ধরা হয়েছে।

২০১৫ সালে বিটিআরসি তোহা খান জামান অ্যান্ড কোম্পানি নামের একটি অডিট ফার্মকে গ্রামীণফোনের শুরু থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের হিসাব অডিটের দায়িত্ব দেয়।

অডিট শেষে গত বছর আগস্টে কমিশন গ্রামীণফোনকে নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপর আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে বলে। অপারেটরটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও যুক্তি দাখিল করে।

তবে বিটিআরসি তাদের দাবিনামায় শুধু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেয়া গ্রামীণফোনের ব্যাখ্যা আমলে নিয়েছে, নতুন কিছুই আর গ্রহণ করা হয়নি বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে তারা নিরীক্ষার ভিত্তিতে দাবি করা পাওনা প্রত্যাহার করে বিটিআরসিকে একটি সুষ্ঠু সমাধানে আবারও আলোচনার দাবি জানান।

এর আগেও ২০১১ সালে একবার বিটিআরসি’র নিয়োগ করা অডিটর কোম্পানি শুরু থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়ে অডিট করে জিপি’র কাছে সরকারের ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা দাবি করে। 

ওই সময় গ্রামীণফোন উচ্চ আদালতে গেলে অডিটর নিয়োগের প্রক্রিয়া যথাযত হয়নি বলে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর ওই নিরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কমিশন কিছুই বলেনি। পরে নতুন অডিটর নিয়োগ দেওয়া হয়।

জেডএ/আরআর/এপ্রিল ১৬/২০১৯/১১.৫০/

*

*

আরও পড়ুন