মূল্যছাড় কারবারের উদ্যোগ ব্লুকার্ডবিডি ডটকম

Evaly in News page (Banner-2)

বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনার সময় ক্রেতারা যেন কিছু সুবিধা হিসেবে মূল্যছাড় পান সেই চিন্তা থেকেই শুরু ব্লুকার্ডবিডি ডটকম। উদ্যোগটি নিয়েছেন আলী ফিদা একরাম তোজো। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন

সাধারণ মানুষ যেন কেনাকাটায় কিছুটা হলেও সুবিধা পায় সেই চিন্তা থেকে শুরু ব্লুকার্ডবিডি ডটকম উদ্যোগটির। উদ্যোগটির মাধ্যমে একটি কার্ড করা হয়েছে, যেটি কেনাকাটার সময় দোকানে প্রদর্শন করলে নির্দিষ্ট পরিমাণ ছাড় পাবেন ক্রেতারা। এটি তারা পাবেন বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে।

উদ্যোগের শুরু

‘ব্লুকার্ডবিডি উদ্যোগটির শুরুর সময় বলতে গেলে ২০১৫ সালের কথা বলতে হবে। কারণ, ধারণাটি সেই সময়ের। তখন আমরা কয়েকজন মিলে বেশকিছু উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করতে মাঠে নামি। কিন্তু একে একে ব্যর্থ হই। বলা যায় সেই ব্যর্থতার সর্বশেষ ফল এই ব্লুকার্ডবিডি ডটকম’ বলছিলেন উদ্যোগটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আলী ফিদা একরাম তোজো।

অবশ্য তার সঙ্গে আরও দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা রয়েছেন উদ্যোগটির। আহসান কবীর এবং আন্‌নূর রহমান শুরু থেকেই রয়েছেন এই উদ্যোগের সঙ্গে।

তবে অনেক আগেই এটি নিয়ে কাজ শুরু হলেও ২০১৮ সালের জুলাই মাসে বাজারে নামে ব্লুকার্ডবিডি।  তোজো বলেন, যেহেতু এটি প্রযুক্তি নির্ভর কাজ, তাই আমরা এটি লঞ্চ করার পর বেশকিছু বাগ খুঁজে পাই। তখন আবার সেগুলো সারাতে কাজ করতে থাকি। এভাবে এসে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষে দেশে লঞ্চ করা হয় ব্লুকার্ড। একদিকে দেখতে গেলে উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক বয়স বলা যায় তিন মাস, বলেন তিনি।

যেভাবে কাজ করে ব্লুকার্ড

ব্লুকার্ড আসলে সাধারণ একটি কার্ড। বস্তুগতভাবে দেখতে গেলে এটি ডেবিট বা ক্রেটিড কার্ডের মতো। তবে এর ডিজিটাল ফরম্যাটও রয়েছে। সেই কার্ড নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ও সেবার আউটলেটে গিয়ে প্রদর্শন করলে গ্রাহকরা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্যছাড় পাবেন তার কেনা পণ্য বা সেবায়। কার্ড বলা হলেও এর জিডিটাল রূপ রয়েছে মোবাইল অ্যাপে। কার্ডের সেবা দিতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করে। আর সবগুলোই একদামের দোকান।

ব্লুকার্ড নিতে…

ব্লুকার্ড যেকেউই নিতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে মাত্র ২০০ টাকা দিয়ে এই কার্ড নেওয়া যাবে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটেই যোগাযোগ করা যাবে। এরপর কার্ডে থাকা ১৬ ডিজিটের একটি ইউনিক নম্বর রয়েছে সেটি এসএমএস করতে হবে ৬৯৬৯ নম্বরে। পরে একটি ফিরতি এসএমএস দিয়ে তার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। নিবন্ধন হয়ে গেলে কার্ডটি নির্দিষ্ট দোকানে দেখানে সেই ছাড় পাবেন ক্রেতারা। ২০০ টাকা দিয়ে কার্ডটি নিয়ে এক বছর ব্যবহার করা যাবে। এক বছর পর কেউ রিনিউ করতে চাইলে তাকে ১০০ টাকা দিয়ে রিনিউ করতে হবে।

কার্ডের সেবা যেখানে পাওয়া যাবে

এই কার্ডের সেবা পাওয়া যাবে কয়েকটি ক্যাটেগরির পণ্য ও সেবা বিক্রির প্রতিষ্ঠানে। এসবের মধ্যে রয়েছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড, রেস্টুরেন্ট, টেইলরস, ফার্মেসি, হাসপাতাল, ইলেক্ট্রনিক্স, হেয়ার সেলুন, রেন্ট এ কার, পার্টি সেন্টার, সুইটস অ্যান্ড বেকারি, এগ্রো ফিশিং, বুকশপ, গ্রোসারি, সিরামিক্স, টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, হোটেল, জুয়েলারি, জিমনেসিয়াম, শিক্ষাসহ মোট ৪০ ক্যাটেগরিতে এই মূল্যছাড় সেবা পাওয়া যাবে।

তোজো বলেন, আমরা এমন একটা ব্যবস্থা করেছি যেখানে বাসা ভাড়া এবং স্কুল যাতায়াতের বাইরে একটা মানুষের যত ধরনের প্রয়োজন রয়েছে সব ক্ষেত্রেই এই কার্ড ব্যবহার করে সুবিধা পাওয়া যাবে।

যত স্থানে

এখন পর্যন্ত ব্লুাকার্ডবিডির সেবাটি ঢাকার অভ্যান্তরে প্রায় সব এলাকায় মূল্যছাড়ের এই সেবা দিচ্ছে। ঢাকা ছাড়াও এখন গাজীপুর, সাভার এবং নারায়ণগঞ্জে সেবাটি পাচ্ছেন ক্রেতারা। চলতি বছরের মধ্যে সারা দেশেই সেবাটি দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে এসব এলাকায় ১২৩৫ আউটলেটে মূল্যছাড় সেবা পাচ্ছেন আমাদের অন্তত ১৫ হাজার নিবন্ধিত গ্রাহকরা। আমরা চেষ্টা করছি, চরতি বছরের মধ্যেই দেশের অন্যান্য সব এলাকায় সেবাটি পৌঁছে দিতে, বলেন তোজো।

অ্যাপেই সবকিছু

কার্ডের সবধরনের সেবা পাওয়া যাবে প্রতিষ্ঠানটির মোবাইল অ্যাপেই। নিবন্ধন করার পর গ্রাহকরা এই ঠিকানা থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবেন। নিবন্ধনের পর গ্রাহকরা অ্যাপের মাধ্যমেই তখন কার্ড সেবা পাবেন। কারণ, কার্ডের যে নম্বর সেটা তখন অ্যাপেই পাওয়া যাবে।

এছাড়াও অ্যাপ থেকে গ্রাহক জানতে পারবেন কোন কোন শোরুমে তিনি ব্লুকার্ডবিডির ছাড় পাবেন।

এমনকি গ্রাহকরা যখন তার অ্যাপ ওপেন করবেন তখন তার তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোথায় কোথায় মূল্যছাড় নিতে পারবেন সেগুলো দেখাবে। এটা গুগল ম্যাপের সঙ্গে সিনক্রোনাইজ করা হয়েছে। ফলে তিনি চাইলেও সেই শপ বা আউটলেটের ঠিকানা, ফোন নম্বর, সেখানে যাবার রাস্তা দেখতে পাবেন। প্রয়োজনে অ্যাপ থেকেই কল করতে পারবেন সেই দোকানে। এর পাশাপাশি কিছু সেবা ওয়েবসাইট থেকেও পাবেন গ্রাহকরা।

পরিকল্পনা বড় কিছুর 

ব্লুকার্ডবিডি ডটকম নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা জানান আলী ফিদা একরাম তোজো। তারা এখন কর্পোরেট সেক্টরে বেশি নজর দিতে চান বলে জানান। এছাড়াও যেহেতু কার্ডটির ব্যাপারে সাধারণ মানুষ খুব কম জানেন, তাদের জানাতেও নানা ধরনের কাজ করতে চান। তারা চান, ভবিষ্যতে যেন একজন মানুষ দেশের যেকোন স্থানে গেলেই অন্তত তার পণ্য সেবা কেনায় যেন কিছু সুবিধা পান এই ব্লুকার্ডের সাহায্যে সেটা নিশ্চিত করতেই কাজ করছেন। চলতি বছরের তাদের ব্যবহারকারী লাখ পেরোবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ইএইচ/এপ্রিল১১/২০১৯/২০১৫

*

*

আরও পড়ুন