কেমন হবে ভয়েস এআইয়ের যুগ?

Voice-AI-techshohor

আনিকা জীনাত, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যামাজনের অ্যালেক্সা, অ্যাপলের সিরি ও গুগলের গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট এখন পর্যন্ত যৎসামান্য কাজই করতে পারে।

এই যেমন আবহাওয়ার খবর জানানো, পণ্য অর্ডার করা বা গানের প্লেলিস্ট সাজানো পর্যন্তই তাদের দৌঁড়। শীঘ্রই ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টগুলো অত্যাধুনিক ভয়েস এআইয়ে পরিণত হবে।

আগামীতে তারা আবেগ বুঝে কাউন্সিলিংও করতে পারবে। ভয়েস এআই প্রযুক্তিটি ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের জীবন যে পরিবর্তনগুলো আসবে তা নিয়েই তৈরি হয়েছে এবারের ফিচার।

কী চিন্তা করতে হবে তা বলবে ভয়েস এআই

৯০ এর দশকের পর থেকে একই কায়দায় ব্যবহৃত হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন। কিন্তু ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট এই ধরণ বদলে দেবে। প্রশ্ন করলে ঠিক উত্তরটি জানাবে। যেমন সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা কতো? এর উত্তরে ‘২৭ মিলিয়ন ডিগ্রিস ফারেনহাইট’ বলবে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট। ধীরে ধীরে অন্যান্য সব বিষয়ে গুগলের মতোই সবজান্তা হয়ে উঠবে ভয়েস এআই। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ সার্চ করা হবে ভয়েস এআই ব্যবহার করে।

তবে এর একটি খারাপ দিকও আছে। এক কথায় কাঙ্ক্ষিত উত্তর জেনে ফেললে মানুষ আরও কয়েকটি আর্টিকেল খুঁজে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করবে না। এতে একই বিষয়ের বিভিন্ন দিক বা বিস্তারিত তথ্য তারা জানতে পারবে না। তথ্যটি ভুল না সঠিক তাও যাচাই করার হার কমে আসবে।

কি কিনতে হবে?

ইতোমধ্যে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করে অনেকেই পণ্য অর্ডার করছেন। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়বে। শুধু পণ্য অর্ডার করার মধ্যেই এর কাজ সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোন পণ্য কিনলে কি সুবিধা পাওয়া যাবে, কোন ধরণের ফার্নিচার ঘরের সঙ্গে মানানসই হবে সে সব বিষয়েও পরামর্শ দেবে ভয়েস এআই। ২০১৭ সালে ভয়েস এআইয়ের মাধ্যমে কেনা হয়েছিলো ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বাজার বিশ্লেষণকারী এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অনুমান ২০২২ সাল নাগাদ ভয়েস এআইয়ের মাধ্যমে কেনা হবে ৪০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

তবে ভয়েস এআইয়ের কাছে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যের নাম বলতে হবে। তা না হলে ভয়েস এআই যা বলবে সেটাই কিনতে হবে। 

ডিজিটাল অমরত্ব?

না, ভয়েস এআই মৃত মানুষকে জীবিত করবে না। তবে মৃত্যুর আগে রেকর্ড করে যাওয়া বিভিন্ন কথার ভিত্তিতে তাদের কণ্ঠস্বরের রেপ্লিকা তৈরি করতে পারবে। পুরো জীবনী বলা হলে একজন ব্যক্তির ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি হবে।

তাই কারও মৃত্যু হলে তার ডিজিটাল সংস্করণের চ্যাটবটের সঙ্গে ভয়েস চ্যাট করে কাটিয়ে দেওয়া যাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এটাকে বলা হবে ভার্চুয়াল ইমমোরটালিটি। ভবিষ্যতে এই খাতের ব্যবসাও হবে অনেক সম্ভাবনাময়। 

ভয়েস রেপ্লিকার সফটওয়ার তৈরির কাজও শুরু করেছে সোল মেশিন ও এভারলাইফ  নামের দুটি কোম্পানি।

থেরাপিস্টের কাজ করবে

খাবার টেবিল বুকিং দেওয়া বা পণ্য অর্ডার করা ছাড়াও মানুষের প্রতি সহমর্মীতা প্রকাশ করবে ভয়েস এআই। আগামীতে ভয়েস এআইয়ে এই একটি উপাদান যোগ করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করছেন গবেষকরা। আগামীতে ভয়েস এআই হয়ে উঠবে ভার্চুয়াল থেরাপিস্ট।

ইতোমধ্যে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক অ্যালিসন ডারসি ওয়েবট নামের একটি অ্যাপ চালু করেছেন। ভয়েস এআই ব্যবহার করে নয় বরং অ্যাপটি টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে আচরণগত সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, অনেকেই অন্য আরও কাছে নিজের সব গোপন কথা প্রকাশ করতে চান না। খোলামেলা আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত হতে পারেন না। সেসব ক্ষেত্রে সহায়তা দেবে অ্যাপটি।

যদিও অ্যাপের কাছে নিজের সব ব্যক্তিগত তথ্য দিলে তা সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা কম। খুব বড় ধরণের কোনো সমস্যা আসলে থেরাপিস্ট বাদে শুধু প্রযুক্তির দ্বারা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না।

কনজিউমার অবলম্বনে এজেড/ এপ্রিল ০৮ / ২০১৯ /১৩০৮ 

আরও পড়ুন – 

আমাদের এআই ব্যর্থ : ফেইসবুক 

ডব্লিউএসআইএসে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ৫ উদ্যোগ, চলছে সেরার লড়াই 

*

*

আরও পড়ুন