গ্রাহককে মুগ্ধ করতে হুয়াওয়ের এত আয়োজন!

Evaly in News page (Banner-2)

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্যারিসে ওয়ার্ল্ড লঞ্চিংয়ের পর কুয়ালালামপুরে  পি৩০ এর সবচেয়ে জমকালো ল্যান্ডিং দেখে আমরা ক’জন সাংবাদিক আর কোনো কাজ দেখছিলাম না, অন্তত সিডিউলে কিছু নেই।

ঠিক হলো পেট্রোনাস টাওয়ার দেখতে যাবো। মালয়েশিয়ার রাজধানীতে এসে এক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে উচু এই টুইন টাওয়ার না দেখলে হয় নাকি !

যেই ভাবা সেই কাজ। সানওয়ে সিটির হোটেল হতে পড়ন্ত বিকালে রওয়ানা দিলাম আমরা।৩০ মিনিটের পথ। যেতে যেতে পথের দু’পাশে দেশটির বিশাল বিশাল স্থাপনা দেখিয়ে  আমাদের মালয় ট্যুর গাইড হামিদা কাকা বলছিলেন, এক সময় এগুলো সব কয়লা খনি ছিল। আজ সেখানেই এই শহর । আমরা মালয়েশিয়ার উন্নতির গল্প শুনছিলাম আর কেউ কেউ বাংলাদেশের তুলনা করছিলাম।

এদিকে আমাদের পথ আর শেষ হয় না। ৩০ মিনিট পেরিয়ে ঘন্টা, আমরা জ্যামে পড়েছি। ঢাকার মতো এলোমেলো জ্যাম নয়, পথে অনেক গাড়ি তাই গতি স্লো।

দুই ঘন্টা শেষে সময় নষ্টের একরাশ বিরক্তি নিয়ে কাঙ্খিত টুইন টাওয়ারে। টাওয়ার বিল্ডিংয়ে বেড়ানো, ছবি তোলা ও খাওয়া শেষ। এবার ফেরার সময় হুয়াওয়ের কনজ্যুার বিজনেস গ্রুপ বাংলাদেশের পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার সুমন সাহা বললেন কাল (৩ এপ্রিল) এই এলাকার প্যাভিলিয়ন এলিট টাওয়ারে আবার আসবো আমরা। কারণ তাদের একটি ‘আউটলেট বা ব্র্যান্ড শপ’ এমন কিছু একটা দেখাতে।

এবার আমাদের বিরক্তি, ‘সামান্য’ আউলেট দেখাতে এই জ্যাম ঠেলে আবার এদিকে আসতে হবে। আমাদের বিরক্তি হয়ত একটু বুঝতে পারলেন তিনি কিন্তু বিষয়টি চেপেই গেলেন তিনি।

কে বুঝেছে হুয়াওয়ে যেমন নতুন নতুন ইনোভেশন এনে বিশ্বকে চমকে দেয় কোম্পানিটির কর্মকর্তারাও হয়েছে তেমন। পরদিন ঠিকই চমকে গেলাম আমরা। একটা চোখ ধাঁধানো এলাকায় ঢুকে পড়েছি। হুয়াওয়ের কনজ্যুমার বিজনেসের সব ইনভেশন এখানে এনে কোনো এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে মনে হয়।

এইবার মুচকি মুচকি হাসেন সুমন সাহা। মনে মনে হয়ত বলছেন, কী খুব তো বিরক্ত হয়েছিলে। না আসলে এমন আয়োজন দেখতে পেতে ! চমক আরও আছে বাছা, অপেক্ষা করো আরেকটু !

৪ হাজার ৪ শত ৭৬ স্কয়ার ফিটের পুরো জায়গাটিকে দারুণ উপভোগ্য ইন্টেরিয়র করা হয়েছে। সব ফ্লাগশিপ ফোন এখানে, ল্যাপটপ এখানে, স্মার্টওয়াচ, হেডফোনসহ কত কিছু যে সাজিয়ে রেখেছে। আছে ড্রোনও।  এমনকি নিজেদের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ফিলিপসের সঙ্গে মিলে তৈরি করা ঘরের বাল্বও (স্মার্টলাইট) এখানে, পাওয়া যাবে ডিভাইস সম্পর্কিত তাদের প্রিমিয়াম নিউজ লেটারও।

‘আসলে এটি হুয়াওয়ের একটি ফ্লাগশিপ স্টোর যাকে বলা হচ্ছে কনসেপ্ট শপ বা স্টোর। যেখানে রয়েছে হুয়াওয়ের সব ইনোভেশন পরখ করে দেখার সুযোগ, কেনার সুযোগ, ডিভাইস পরামর্শ, ডিভাইস রিপেয়ারসহ সব রকম কাস্টমার সার্ভিস’ বলছিলেন হুয়াওয়ে কনজ্যুমার বিজনেস গ্রুপ বাংলাদেশের জিটিএম ডিরেক্টর বিয়ন্ড ঝেং।

এই স্টোরে গ্রাহকের একটু স্বছন্দ্যের জন্য কী করেনি হুয়াওয়ে ! এখানে প্রবেশ করে একজন গ্রাহক মুগ্ধতা নিতে নিতেই তার সেবাটি পেয়ে যাবেন, এক কথায় ওয়ানস্টপ সেবা।

মুগ্ধতার প্রমাণ আমরা পেলাম হাতে নাতেই। আমাদের সফরসঙ্গী সাবরিনা জামান দেখতে দেখতে লাখ টাকার বেশি খরচ করে কিনে ফেললেন হুয়াওয়ের মেটবুক এক্সপ্রো। আমার অবশ্য ওদের লাইফস্টাইল সলিউশনগুলো হতে চোখ সরছিল না। তবে প্রেমে পড়ার আগেই ছুটেছি, না হলে পকেট ফাঁকা হতে সময় নিত না।

কুয়ালালামপুরেরর পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের কাছেই প্যাভিলিয়ন এলিট টাওয়ার। এটি মালয়েশিয়ার অন্যতম একটি ব্যয়বহুল শপিং মল। পৃথিবীর নামকরা সব ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতি জানান দেয় এখানে থাকাটা প্রেস্টিজিয়াস।

কুয়ালালামপুরে ২০১৭ সালের ২৫ মার্চ হুয়াওয়ে এই স্টোর উদ্বোধন করে। এই ধরণের স্টোর মালয়েশিয়ায় এখনও একটি। সারা বিশ্বেই সংখ্যায় হাতেগোনো এই স্টোর। আর এ পরিসংখ্যানই বলে দেয় এটি স্টোর কতোটা প্রিমিয়াম।

এদিকে মজার বিষয় প্যাভিলিয়ন মলের ৫ম তলায় হুয়াওয়ের কনসেপ্ট স্টোরের ঠিক সামনেই অ্যাপলের প্রিমিয়াম স্টোর। কাকতালীয় হলো, হুয়াওয়ের স্টোরের সামনে কেমন যেনো ম্রিয়মান উপস্থিতি অ্যাপলের। কাকতালীয় বলছি এই জন্যে যে, ২০১৮ সালে হুয়াওয়ের কাছে নিজেদের অবস্থানের সঙ্গে যেন খানিকটা আলোও হারিয়েছে এই অ্যাপল স্টোর।

স্টোরে আমরা বিভিন্ন ডিভাইসের অভিজ্ঞতা নিলাম, নানা রকম জিজ্ঞাসায় ব্যতিব্যস্ত করে তুললাম উপস্থিত হুয়াওয়ের রিপ্রেজেন্টিভদের। কেউ কেউ সেলফি তুললাম। শেষে বিদায় নেবো এমন সময় সুমন সাহার পরের চমক।

‘এমন প্রিমিয়াম ফ্লাগশিপ স্টোর বা কনসেপ্ট স্টোর বাংলাদেশে করার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে হুয়াওয়ে। হয়ত খুব বেশি সময় নেয়া হবে না এই দারুণ ঘোষণাটি দিতে’ বলেন হুয়াওয়ে বাংলাদেশের এই পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার।

আমাদের বুঝতে বাকি থাকে না যেখানে প্যারিস লঞ্চিংয়ের মাত্র এক সপ্তাহ পরে মালয়েশিয়ার লঞ্চিংয়ের সঙ্গে একইদিনে একইসময়ে বাংলাদেশের বাজারেও পি৩০ এর প্রিবুকিং শুরু করা হয় সেখানে গুরুত্বের পরিমাণটা কতখানি।

ও হ্যা, আপনাদের জানিয়ে রাখি ভারতে কিন্তু ফোনটি লঞ্চ হচ্ছে ৯ এপ্রিল। 

এবার ভিডিওতে মিলিয়ে নিন কেমন ছিল হুয়াওয়ের এই কনসেপ্ট স্টোর : 

এডি/ এপ্রিল ০৭/২০১৯/১২২২

আরও পড়ুন –

পারেও হুয়াওয়ে! 

দেশে হুয়াওয়ের ফোল্ডেবল ফাইভজি ফোন 

*

*

আরও পড়ুন