একই প্রযুক্তি তবুও মানে আকাশ-পাতাল

Mobile-operator-Techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অন্যান্য দেশের মতো একই নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরও বাংলাদেশের গ্রাহক অপেক্ষাকৃত খারাপ টেলিকম সেবা পাচ্ছেন।

এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবার জায়গাকে সীমিত করে দেওয়াকে মূল কারণ বলে মনে করছে নেটওয়াকিং ও ফোন নির্মাতা হুয়াওয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার টেলিকম রিপোটার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি) ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) আয়োজিত যৌথ এক কর্মশালায় এমন অভিমত তুলে ধরেন কোম্পানিটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা জেরি ওয়াং।

কর্মশালায় আরও উঠে আসে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ উন্নতি করেছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের অগ্রগতিও চোখে পড়ার মতো। ডেটার ব্যবহার আগের চেয়ে বাড়লেও প্রতিবেশি ভারতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে।

হুয়াওয়ের প্রযুক্তি কর্মকর্তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছ জানান টিআরএনবির সদস্যরা : ছবি সংগৃহীত

ওয়াং বলেন, ভারতে একজন ইন্টারনেট গ্রাহক এখন মাসে গড়ে ১০ জিবি ডেটা ব্যবহার করছেন। সেখানে বাংলাদেশের গ্রাহকপ্রতি ব্যবহারের হার গড়ে ১ দশমিক ২ জিবি ডেটা।

ওই প্রযুক্তি কর্মকর্তা নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের অপারেটরগুলো যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে- সেই একই জিনিস ব্যবহার করছে ভারত, শ্রীলংকা ও সিঙ্গাপুরের অপারেটরগুলোও। তারপরও সেবার দিক দিয়ে বাংলাদেশের মান অনেক পেছনে।

কর্মশালায় গত বুধবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রকাশিত একটি জরিপ প্রতিবেদনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। কমিশন ওই দিন খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের টেলিকম সেবার ওপরে চারটি আলাদা জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এতে দেখা যাচ্ছে, কোনো অপারেটরই ফোরজির জন্য নির্ধারিত সাত এমবিপিএস গতিও দিতে পারছে না।

অনেক অপারেটর থ্রিজির জন্য নির্ধারিত দুই জিপিবিএস গতিও দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ বিষয়ে ওয়াংয়ের ব্যাখ্যা, ভেতরে আরও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। যে কারণে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছে না।

এ ক্ষেত্রে তিনি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর হাতে ফাইবার অপটিক কেবল নেটওয়ার্ক তৈরির ও বিস্তারের ক্ষমতা না থাকা কিংবা নিজেদের নেটওয়ার্ক নিজেরাই তৈরি করতে না পারার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

কর্মশালায় হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের (বাংলাদেশ) পরিচালক (বিপনন) নাজমুল হাসান বলেন, শ্রীলংকাতে রবির মূল কোম্পানি আজিয়াটার আরেকটি অপারেটর সব মিলে ২২ সেবা দিতে পারে। কিন্তু রবি বাংলাদেশে হাতে গোনা দুই থেকে তিনটির বেশি সেবা দিতে পারে না। এসব কারণেও সেবার মান পড়ে যায়।

এ দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে নিজেদের নেটওয়ার্কের জন্যও তৃতীয় পক্ষের অপর কোম্পানির ওপর নির্ভর করতে হওয়াকে খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের মাধ্যমে ভালো সেবা দিতে সরকারকে নীতিমালা সংশোধনের বিষয়ে পরামর্শ দেন।

টিআরএনবির সভাপতি মুজিব মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল আনোয়ার শিপুসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য বক্তব্য দেন।

জেডএ/আরআর/এপ্রিল ০৫/২০১৯/০১.৪০

*

*

আরও পড়ুন