STE 2019 (summer) in news page

অপারেটরদের গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তিতে চাই যৌথ সেল

Robi Before feture image

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টেলিযোগাযোগ খাতের অপারেটরদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ সেল গঠনের কথা বলেছেন টেলিকম বিশেষজ্ঞ টিআইএম নূরুল কবীর। 

টেকশহরডটকমের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে নূরুল কবীর টেলিকম খাতের বিভিন্ন দিক ও সমস্যা নিয়ে কথা বলেন আল আমীন দেওয়ানের সঙ্গে। এতে উঠে আসে কলড্রপ, ডেটার ব্যবহার, এমএনপি, গ্রাহকের অভিযোগ, থ্রিজি, ফোরজি, ফাইভজি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসসহ আরও কিছু বিষয়।

এক সময় গ্রাহকদের টেলিযোগাযোগ সেবা নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে অধিদপ্তরে করা যেত। কিন্তু এখন আর সেখানে করা যায় না। এখন সরাসরি অপারেটর এবং বিটিআরসিকে করা যায়। কিন্তু তারও খুব একটা সুফল পাওয়া যায় না। 

বিশিষ্ট এ টেলিকম বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এ জন্য শুধু বিটিআরসি অভিযোগ নিয়ে তা সমাধান করতে পারবে না। এর জন্য বিটিআরসি, অপারেটর এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ মিলে যৌথ সেল গঠন করে সেই অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে কাজ করতে পারে।

শুধু এসব অভিযোগ কারও একার পক্ষে সমাধান সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। 

আলোচনার শুরুতেই বলেন, কলড্রপের যে পরিসংখ্যান সেটি আমাদের জন্য খুব সুখকর বলা যায় না। তার মানে হচ্ছে আমরা যে কোয়ালিটি অব সার্ভিস বা মানসম্পন্ন সেবা দেবার কথা বলছি সেটা ব্যহত হচ্ছে। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সেবার বয়স প্রায় ২২ থেকে ২৩ বছরের। সেটা কিন্তু আমাদের অনেক বড় পাওয়া। আমরা দেখেছি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সময় বিনিয়োগ এনেছে, এর গ্রাহক বাড়িয়েছে। টুজি থেকে শুরু করে থ্রিজি, ফোরজি হয়েছে। আমাদের যে গ্রাহক সেটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চেয়ে খুব বেশি। তার মানে আমাদের বড় বাজার আছে।

২০১৩ সালে থ্রিজি এসেছে, কিন্তু সেটা সফল করতে পারিনি। এর পিছনে অনেক কথা থাকে। ইকোসিস্টেম তৈরি হয়নি। ফলে সেই পরিমাণ সেবাদানকারীও তৈরি হয়নি। এখানে অনেক বড় প্রশ্ন, এটা অনেকটাই ঘোড়ার আগে লাগাম কেনার বিষয়টির মতো। নিড অ্যাসেসমেন্ট চালু না করেই সার্ভিস চালু করে দিলাম। এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। সে থেকে মনে হয়, আমরা পরিকল্পনাটা ঠিক মতো করি না, ফলে অনেক সময় ব্যর্থ হতে হয়। কিন্তু আমরা তো ব্যর্থ হতে চাই না, বলেন নূরুল কবীর।

টেলিকম সেবার জন্য পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়ন সহযোগিতা করার জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখার জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে জোর পদক্ষেপ নেবার কথাও বলেছেন তিনি।

আলোনায় উঠে এসেছে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার করা নিয়ে। বিভিন্ন সময় গ্রাহকদের যে অভিযোগ, তারা অনেক টাকা খরচ করে ডেটা কিনলেও সেটার প্রত্যাশিত ব্যবহার করতে পারেন না। অনেক সময় দেখা যায়, ডেটা অনেক থাকলেও ইন্টারনেটের গতি না থাকায় তা অব্যহৃত হয়ে পড়ে থাকছে।

কথা উঠেছে এমএনপি বা মোবাইল নম্বর পোর্টিবিলিটি নিয়ে। এমএনপি আসলে এসেছেই বাজারকে নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহককে তার প্রত্যাশিত সেবা দেয়া। আমাদের যে সময়টা এটা দরকার ছিল, সেটা আসতে অনেক দেরি  হয়েছে গেছে। আর এটা শুরু হলেও মনে হয় এখনো এক শতাংশ গ্রাহক এমএনপি সম্পর্কে জানে না। এর সঠিক প্রচার হয়নি। আসলে এই সেবাটিতেও সঠিকভাবে সবার কথা বিবেচনা করে এটা প্রয়োগ করা হয়নি বলেই মনে করেন এই টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ।

এছাড়াও তিনি কথা বলেছেন গত মাসে স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস নিয়ে আলোচনা করেন। এর বাইরেও তিনি কথা বলেছেন ফাইভজি নিয়ে।

তিনি বলেন, আমরা যদি ফাইভজিতে প্রবেশ করতে চাই তবে তার জন্য ইকোসিস্টেম কি কি দরকার তার প্রস্তুতি এখন নিতে হবে। কারণ, আমরা থ্রিজি, ফোরজি চালু করলেও তার জন্য পুরো প্রস্তাতি নিতে পারিনি। তাই তার গ্রোথটাও কম।

আর অনেকেই মনে করছেন, ফাইভজি আসলে গ্রাহকরা খুব সুবিধা পাবে। আসলে তেদমনটা নয়, ফাইভজি মূলত শুরুতেই গ্রাহক পর্যায়ে কেউ নেবে না। কারণ এটা হবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলেশন। আগে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে এটি ব্যবহার করা হবে। এর জন্য চাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, আইওটিসহ নানা ধরনের পণ্য।

বিস্তারিত কথোপকথন থাকছে ভিডিওতে। আর নিয়মিত আমাদের সঙ্গে থাকতে টেক শহরের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন। ফেইসবুক পেইজে লাইক দিয়েও সব আপডেট জানতে পারবেন।

ইএইচ/মার্চ২৪/২০১৯/১৬০০

*

*

আরও পড়ুন