টেলিকম সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন : সমাধান কোন পথে

Evaly in News page (Banner-2)

সাহেদ আলম, চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার, রবি : আধুনিক জীবনব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগাযোগে যেহেতু এর ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, তাই মোবাইল ফোন বিষয়ক সামান্য একটি সমস্যাও ব্যবহারকারীদের জন্য বড় পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই মোবাইল ফোন সেবার মান নিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের নানা অভিযোগের কথা প্রায়ই শোনা যায়। যে কোনো গ্রাহকবান্ধব কোম্পানির জন্য এ সব অভিযোগের কোনোটিই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে এ জন্য প্রয়োজন সমস্যার মূল উৎসগুলো চিহ্নিত করা।

গ্রাহকদের কাংখিত সেবা দেওয়ার স্বার্থে, মোবাইল অপারেটরগুলো ইতোমধ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে । সেবার মান উন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও আমাদের চেষ্টার কমতি নেই। তারপরও সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের প্রশ্ন অনেক। মানসম্পন্ন সেবার সাথে বিনিয়োগের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে অবকাঠামোর দক্ষতার বিষয়টি জড়িত।

এ ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, প্রযুক্তিগত কারণে মোবাইল সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা বা বিঘ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কারণ পুরো সেবাটিই তারবিহীন বা ওয়্যারলেস প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই মোবাইল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কলড্রপ, কাঙ্ক্ষিত গতি না পাওয়ার মতো সমস্যা ব্যাপক হারে বিদ্যমান। প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হওয়া সত্ত্বেও মানসম্পন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছাতে বেশ কিছু সমস্যা এখনও আমাদের সামনে রয়েছে।

কাঙ্ক্ষিত মোবাইল সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো তুলে ধরার আগে একটু পেছনে ফিরে তাকাই। বাংলাদেশের মোবাইল ফোন শিল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ১৯৯৩ সালে হলেও এটি গতি পায় ১৯৯৭ সালে। আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগে মোবাইল ফোনের যে যাত্রাটি এ দেশে শুরু হয়েছিল, সেটি আজ ১৫ কোটি ৮৪ লাখ গ্রাহকের এক বিশাল পরিবার।

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের এ বিপ্লব সম্ভব হয়েছে মূলত তিনটি কারণে। প্রথমত, মোবাইল ফোনের প্রসারে বাংলাদেশ সরকারের সদিচ্ছা ও বাজার উন্মুক্তকরণ । দ্বিতীয়ত, উন্মুক্ত বাজার ব্যবস্থার কারণে এ খাতে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ, গ্রাহক উদ্বুদ্ধকরণে মোবাইল অপারেটরদের সিম ট্যাক্স ও অন্যান্য খরচে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি ।

সর্বোপরি মোবাইল ফোন সেবা সর্বসাধারণের যোগাযোগের সহজতর মাধ্যম হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে এবং এ সেবার মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে অন্যান্য সেবা, যেমন-টাকার লেনদেন, ই-কমার্স, ই-কৃষি, অ্যাপসভিত্তিক নানা রকমের সেবার মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত তৈরি হচ্ছে। সেবার এ বৈপ্লবিক বিবর্তনের কারণেই মোবাইলের এ বিপ্লব সম্ভব হয়েছে।

মোবাইল ফোন শিল্পের পথচলার শুরুতে ১৯৯৮ সালে এ শিল্পের জন্য ‘জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা ১৯৯৮’ নামের যে নীতিমালাটি তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে ২০১০ সালের মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। আনন্দের বিষয় হচ্ছে, ২০১০ সালে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারীর হার দাঁড়ায় ৬৭ শতাংশে, যা এখন ৯১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

সেই সময়ে সরকার যে তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়েছিল সেটি দিয়ে ৬০ লাখ গ্রাহককে সেবা দেওয়া সম্ভব ছিল। তরঙ্গ বরাদ্দের পরিমাণ কম থাকায় মোবাইল অপারেটরদের প্রচুর সংখ্যক টাওয়ার রোল আউট বা স্থাপন করতে হয়েছে। ১৯৯৮ সালে অপারেটরদের হাতে যে তরঙ্গ ছিল তার তুলনায় গত ২২ বছরে তরঙ্গ বরাদ্দ যেখানে দ্বিগুণ বেড়েছে, সেখানে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ২৬ গুণ। অর্থাৎ যে হারে আমাদের এখানে গ্রাহক বেড়েছে, সে হারে বেতার তরঙ্গের বরাদ্দ বাড়েনি।

সাধারণ মানুষের যোগাযোগের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ, সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে ওঠা ও প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য পরিবর্তন-সব মিলিয়ে এই শিল্পের প্রসার এত দ্রুত ঘটেছে যে নীতিমালায় যে অভিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল তা সময়ের অনেক আগেই পূরণ হয়ে যায়। এ পরিবর্তনগুলো এত দ্রুত হয়েছে যে এ খাতের নীতিনির্ধারক এমনকি বিনিয়োগকারীরাও মানুষের চাহিদা পূরণেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে, অবকাঠামোগত সুবিধাগুলোর বিষয়ে সেভাবে মনোনিবেশ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এর ফলে এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানসম্পন্ন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা আমাদের সামনে তৈরি হয়েছে।

প্রথমেই আসা যাক বেতার তরঙ্গের মূল্য ও সেবার মানে এর প্রভাব প্রসঙ্গে। মোবাইল ফোন অপারেটরদের  বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর গবেষণার তথ্য বলছে, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন-সেবায় ব্যবহৃত বেতার তরঙ্গের দাম এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় তিন গুণ বেশি। বেশি দামের কারণে আমাদের বিনিয়োগের একটি বড় অংশ খরচ করতে হয় তরঙ্গ কেনায়।

এক হিসেবে দেখা যায়, বাংলাদেশে বেতার তরঙ্গের মূল্য ও তা ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে গিয়ে অপারেটরদের মোট খরচের ৭ থেকে ১০ শতাংশ ব্যয় করতে হয়, খরচের এই পরিমাণ যে কোনো বিবেচনাতেই অনেক বেশি। উপরোক্ত কারণে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন অপারেটররা কম তরঙ্গ দিয়ে অনেক বেশি গ্রাহককে সেবা দিতে বাধ্য হচ্ছে।

আমরা জানি,  গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সর্বশেষ তরঙ্গ নিলামের আয়োজন করেছিল। এতে তিনটি ব্যান্ডের মোট ৪৬ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৩৩ শতাংশ বা ১৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বিক্রি হয়। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ তরঙ্গ বিক্রি না হওয়ার মূল কারণ উচ্চমূল্য।

এখন সব ব্যান্ড মিলিয়ে বাংলাদেশে অব্যবহ্নত তরঙ্গের পরিমাণ ১৮৭ মেগাহার্টজ। প্রশ্ন হচ্ছে, দাম বাড়িয়ে এত বিপুল পরিমাণ তরঙ্গ অব্যবহ্নত রেখে আমরা কতোটুকু লাভবান হচ্ছি। অবিক্রিত তরঙ্গের কোনো মূল্য নেই। এর চেয়ে দাম কমিয়ে অপারেটরদের যদি সেই তরঙ্গ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়, তাহলে গ্রাহক, সরকারসহ সব পক্ষই লাভবান হবে এবং কলড্রপসহ অন্যান্য সকল অভিযোগের অনেকটাই সমাধান হবে।

এক দিকে বাংলাদেশে তরঙ্গের দাম সবচেয়ে বেশি, অপরদিকে গ্রাহক প্রতি গড় আয় (ARPU) বিশ্বে অন্যতম সর্বনিম্ন। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশে সব সেবার দাম বাড়লেও মোবাইল পরিষেবার দামই প্রতিনিয়ত কমেছে।

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন অপারেটরদের কর হারও বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। যার ফলে আমাদের প্রতি ১০০ টাকা আয়ের ৪৮ টাকাই সরকারকে বিভিন্ন রকমের কর হিসেবে দিতে হয়। সামগ্রিকভাবে এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হলে এটা পরিস্কার যে অপেক্ষাকৃত ছোট অপারেটরদের জন্য তরঙ্গের বিপুল ব্যয় ভার বহন করে সেবার মান দিয়ে সকল গ্রাহককে সব সময় খুশি করা বেশ কঠিন।

এ ছাড়া আমাদের তরঙ্গছাড়ের নীতিমালা বা রোডম্যাপেও অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। কখন কোন ব্যান্ডের তরঙ্গ বাজারে ছাড়া হবে সেটির পরিস্কার পরিকল্পনা থাকলে আমরাও জানতে পারবো কখন তরঙ্গের নিলাম হবে, সেটির দামই বা কেমন হবে? তরঙ্গের মূল্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।

তবে তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা বা টেকনোলজি নিউট্রালিটি ব্যবহারের সুবিধা প্রদানের অনুমতি দেওয়া ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তরঙ্গের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা এ ধরনের আরও ইতিবাচক উদ্যোগ দেখতে চাই।

btrc_techshohor

তরঙ্গের পরে আসা যাক ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের প্রসঙ্গে। একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য শরীরে সঠিক রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ফাইবার ততোটাই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি, সম্প্রসারণ, রক্ষণাবেক্ষণ-কোনোকিছুর সঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের সংশ্লিষ্টতার সুযোগ নেই। ২০০৮ সালে সালে এনটিটিএন (নেশনওয়াইড টেলিকমিউনেশন ট্রানসমিশন নেটওয়ার্ক) নীতিমালায় আকস্মিকভাবে অপারেটরদের ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরির অধিকার তুলে নেওয়া হয়।

দুঃখের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের ব্যবসাটি এখন গুটিকয়েক কোম্পানির হাতে। এর ফলে একদিকে মোবাইল অপারেটররা ফাইবার স্থাপন করতে পারে না, অন্যদিকে অপারেটরদেরকে কোর ফাইবারও দেওয়া হয় না। বাজার ব্যবস্থার সংকোচন এবং প্রতিযোগিতা না থাকার কারণে ফাইবারের মূল্য অনেক অনেক বেশি, যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ইন্টারনেট সেবা সরবরাহের খরচে।

দেশের কোনো স্থানে এক মুহুর্তের জন্য ফাইবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে সেটির সরাসরি প্রভাব পড়ে অপারেটরদের সেবায়। অথচ অনেক সময় দেখা যায়, কোথাও ফাইবার কাটা পড়লে সেটি জরুরি ভিত্তিতে ঠিক করা হয় না। শুধু মাত্র সার্ভিস কনট্রাক্ট মাফিক সময় বা এসএলএ মেনে সেবা দিলে গ্রাহক সন্তুষ্ট হবে না। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ফাইবার দিয়ে কতো ব্যান্ডউইথ যাচ্ছে বা তার স্পিড কতো তার নিয়ন্ত্রণও মোবাইল ফোন অপারেটরদের নেই । এর ফলে তাদের সেবার মান নির্ধারণ করা অনেকটাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে সব এলাকায় অপারেটরদের ফাইবার প্রয়োজন, সেখানে ফাইবার পাওয়া যাচ্ছে না অথবা ফাইবার সংযোগ পেতে বেশ দেরি হচ্ছে। ফাইবার অপটিকের মান, সহজলভ্যতা ও সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা না হলে উচ্চমানের সেবা দেওয়া মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য প্রায় অসম্ভব।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ তিনটি বিষয়ের কোনোটির ওপর মোবাইল ফোন অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণ নেই। উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা ও এইচডি (হাই ডেফিনিশন) মানের ভয়েস কল কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হলে একটি শক্তিশালী নিরবচ্ছিন্ন ফাইবার নেটওয়ার্কের কোনো বিকল্প নেই।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবার মান নিয়ন্ত্রণে ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ (কিউওএস) গাইডলাইন বা নীতিমালা রয়েছে কিন্তু এনটিটিএন অপারেটরদের সেবার মান নির্ধারণে এমন কিছু নেই।  সম্প্রতি সংশোধিত আইএলডিটিএস নীতিমালাতেও এনটিটিএন অপারেটরদের কিউওএস নিয়েও কোনো মানদন্ড নির্ধারণ করা হয়নি। সেবা প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশের সেবার মানদন্ড যদি অনির্ধারিত থেকে যায়, তাহলে মোবাইল অপারেটরদের পক্ষে শতভাগ মানসম্পন্ন সেবা কী করে নিশ্চিত করা সম্ভব-এই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আমরা মনে করি, ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়নের স্বার্থে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতের একটি সামগ্রিক সংস্কার অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার এ খাতকে এগিয়ে নিতে নিঃসন্দেহে অনেক প্রশসংনীয় উদ্যোগ নিয়েছে, তবে আরও কিছু ক্ষেত্রে সরকার যদি তার সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে তাহলে সেবার মান নিয়ে যে সব প্রশ্ন এখন রয়েছে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ জন্য বেতার তরঙ্গ, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কসহ টেলিযোগাযোগ খাতের সেবার মান সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সংস্কারের কোনো বিকল্প এ মুহুর্তে নেই। সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ৫-জি এবং নিত্যনতুন প্রযুক্তির বিষয়গুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এ সংস্কারগুলো করতে হবে। সত্যিকার অর্থে যদি আমরা উন্নত মোবাইল সেবা চাই, সেই সেবা নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। নতুবা উন্নত সেবা শুধু কথার মধ্যে আটকে থাকবে।

লেখক ২০১৯ সালের জুলাই হতে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি রবির কোম্পানি সচিবের দায়িত্বও পালন করছেন।  এরআগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর হতে  কোম্পানিটির হেড অব করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের দায়িত্ব পালন করেছেন।  ২০১০ সালে তিনি হেড অব লিগ্যাল হিসেবে অপারেটরটিতে যোগ দেন।

প্রথাগত টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিজিটাল সেবাদাতা কোম্পানি হিসেবে রবির পথযাত্রায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেয়ার  পরে নর্থআম্ব্রিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে আইনে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন থেকে মাস্টার অব ল’জ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। রবিতে যোগদানের আগে যুক্তরাজ্যে আট বছরের বেশি সময় আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন 

আরও পড়ুনঃ- 

থ্রিজির গতি ২ এমবিপিএস, কল ড্রপ সর্বোচ্চ ২% 

কলড্রপের প্রায় ৫০ কোটি মিনিট গ্রাহককে দেয়নি অপারেটরগুলো 

লাফিয়ে বাড়ছে রবিতে ডেটার ব্যবহার 

 

*

*

আরও পড়ুন