দিনভর রোবট নিয়েই ব্যস্ত শিশুরা

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মঞ্চে মানবাকৃতির বাংলাদেশী রোবট ‘নিনো’। গানের তালে তালে হাত-পা দুলিয়ে নাচছে। সামনে একদল ছেলেমেয়ে তাকে অনুকরণ করছে। আর সেখান থেকে বাছাই করে তিনজন হয়েছে বিজয়ী।

জাতীয় শিশু দিবস এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন উপলক্ষে ড্যফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সোবহানবাগ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু শিশু রোবটিক্স উৎসব ২০১৯’।

এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শতাধিক খুদে শিক্ষার্থী মেতে উঠেছিল এক অন্যরকম আয়োজনে। স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং দিয়ে গেইম বানানো, নিজের রোবট নিজে বানানো, মোবাইল ফোন দিয়ে সাপ-রোবটকে আঁকাবাকা পথে চালনা করা, রোবটিক্স ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন সমাধানের আইডিয়া প্রদানের মত সব প্রতিযোগিতায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট দুইজনের বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে আমরা শিশু দিবস হিসেবে পালন করি। দিবসটি পালন তখনই সার্থক হবে, যখন বঙ্গবন্ধু যেসব স্বপ্ন দেখতেন সেগুলো বাস্তবায়ন করি।

রোবটিক্স উৎসবে বিভিন্ন প্রজেক্ট দেখার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে পলক বলেন, আমি সত্যিই খুব অভিভূত হয়েছি যখন ক্লাস সেভেনে মাহাদি আলম মাশফির চিন্তা-ভাবনা দেখেছি। সে একটি ড্রোন তৈরি করেছে। যেটি নির্দিষ্ট ওজন বহন করে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখবে, ছবি তুলবে, আক্রান্তদের তথ্য জানাবে।

এতো অল্প বয়েসে মাশফি যা করেছে তা সত্যিই অনেক গর্বের। আমরা চাই এমন চিন্তা করার, এমন উদ্ভাবন আরও বাড়ুক। আমরা সবসময় এমন উদ্ভাবনের সঙ্গে আছি, বলেন প্রতিমন্ত্রী।

কৃষি জমির আর্দ্রতা পরিমাপ করে সেটাকে কৃষিকাজের উপযুক্ত করবে চিটাগাং গ্রামার স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া কাজী মোস্তাহিদ লাবিব এর ‘বেঙ্গল এর্গোবোট’। তার এই রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফসলকে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করবে এবং অধিক ফলনের নিশ্চয়তা দেবে। এছাড়াও একই স্কুলের তাফসিরের ‘রোবো-হোম’ ঘরের বৈদ্যুতিক পাখা,লাইট চালানোর পাশাপাশি সাহায্য করবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে। মাহাদি আলম মাসফির প্রেজক্টের নাম ‘সেভিয়র ড্রোন’ যা কিনা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

শিশুরা যেন নিজেদের পছন্দ আর ভালো লাগা থেকে পড়াশোনা করতে পারে সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখার অনুরোধ করেন। পলক বলেন, তারা যে বিষয়গুলো পড়তে চায় তাতেই উৎসাহ দেবেন। তাহলে তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনেক সফল হবে।

বঙ্গবন্ধু শিশু রোবটিক্স উৎসবটি যৌথভাবে আয়োজন করে ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানে জুনাইদ আহমেদ পলক আন্তর্জাতিক রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের প্রত্যেককে একটি করে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ল্যাপটপ উপহার দেবার কথা জানান। এছাড়াও আগামী বছর যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বা মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে তখন শিশুদের জন্য এই রোবটিক্স আয়োজনে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ থাকবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির পরিচালক শহিদ-উল-মুনির, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইউসুফ মাহবুবুল ইসমলাম, বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসানসহ আরও অনেকেই।

এর আগে সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন ডেটাসফটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব জামান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স ও মেকাট্রনিক্স বিভাগের চেয়ারপার্সন ড. লাফিফা জামাল।

দিনব্যাপী আয়োজনের সহ-আয়োজক ছিল ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার, বাংলাদেশ রোবটিক্স সোসাইটি, মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার ও সিরেনা টেকনোলজিস।

পৃষ্ঠপোষকতা করছে উইডেভস, ফাইবার অ্যাট হোম ও গিগাটেক।

মিডিয়া পার্টনার ছিল টেকশহরডটকম।

ইএইচ/মার্চ১৭/২০১৯/২০৪০

*

*

আরও পড়ুন