vivo Y16 Project

জাতিসংঘের ডব্লিউএসআইএস ফোরামের চেয়ারম্যান হলো বাংলাদেশ

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের বহুমাত্রিক অংশিদারদের প্ল্যাটফর্ম ডব্লিউএসআইএস ফোরাম-১৯ এর চেয়ারম্যান হয়েছে বাংলাদেশ। 

দ্যা ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্যা ইনফরমেশন সোসাইটি বা ডব্লিউএসআইএসের এ বছরের ফোরাম হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। ৮ হতে ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওই ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে এই চেয়ারে বসছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। 

ডব্লিউএসআইএস ফোরাম যৌথভাবে আয়োজন করে থাকে আইটিইউ, ইউনেস্কো, ইউএনডিপি এবং ইউএনসিটিএডি।

Techshohor Youtube

এই ফোরাম বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নকেন্দ্রিক কমিউনিটির সম্মিলন। এর মধ্যে দশম বর্ষপূর্তি উদযাপনের মধ্য দিয়ে এবারে এই ফোরাম হচ্ছে। তাই একে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলা হচ্ছে। যার মূল প্রতিপাদ্য হলো, ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।’

গত এক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগে ইউনিয়ন (আইটিইউ) যোগাযোগ করছিল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে। মঙ্গলবার বিকালে জাতিসংঘের এই সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি কথা বলেন মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে। আর এরপরই বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। 

যদিও আইটিউ হতে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়নি। তবে এটি সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতোমধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলা হয়েছে। 

মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত নেই যে ডব্লিউএসআইএসের ফোরামের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ। এটি নি:সন্দেহে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বফোরামে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও নতুন পরিচয় তুলে ধরবে।  

তিনি বলেন, গত বছর আইটিইউয়ের মহাসচিব হাউলিন ঝাউয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল বার্সেলোনায়।  গত বছরই প্রথম ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছিলাম। এবারও মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে কিনোটে বলেছি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভিউলেশন বা ফাইভজি যাই বলছো পৃথিবীটা ফ্লাট নয়। একেক দেশের জন্য চ্যালেঞ্জটা একেক রকম। 

‘ইউরোপের জন্য বিষয়টা যত সহজ হবে বাংলাদেশের জন্য সেটা তত সহজ হবে না। আবার চ্যালেঞ্জটায় আমাদের যে সম্ভাবনা আছে সেটা ইউরোপের নেই। এই কিনোটে ছোট দেশগুলো ত্রিনিদাদ ট্যাবাকে, নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, উগান্ডার মতো দেশগুলো বেশ সাহস পেয়েছে। কারণ তাদের তো ভয়েস ছিল না’ বলছিলেন তিনি।

এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জানান, এগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে ইউরোপ আর অ্যামেরিকানরা। এবারে আমার কিনোটের আগে অ্যামেরিকা উঠেছে কিনোট দিতে। পরে আমি কিনোট দিতে উঠে শুরুই করেছি, আমি বাংলাদেশের মানুষ। যে বাংলাদেশের জন্মের পরে একে তলাহীন ঝুড়ির দেশ বলা হয়েছিল। আমি তাদের আমাদের বিভিন্ন অর্জনের তথ্য দিয়ে দেখালাম সেই তলাহীন ঝুড়ির দেশটা এখন কোথায় আছে। 

‘এখন সৌদিআরব বিনিয়োগ করতে চায়, চায়না বিলিয়ন ডলার নিয়ে বসে আছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক টাকা নিয়ে বসে আছে, কোরিয়ান কোম্পানি অপেক্ষায় আছে। এমন অনেক দেশ ও কোম্পানি শুধু আমাদের অনুমতির অপেক্ষায় আছে। যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে একটি কোম্পানি ছিল না। এখন এখানে ১৮টি কোম্পানি অফিস-কারখানা নিয়ে বসছে। আশাকরছি এক হতে দেড় বছরের মধ্যে যারা প্রডাকশনে যাবে।’ 

মন্ত্রী জানান, যে টেলিফোন শিল্প সংস্থা বদনামের ভাগিদার, সে সংস্থা ১৫ হাজার ল্যাপটপ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে সরবরাহ করেছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সরবরাহ করবে ৫৪ হাজার ল্যাপটপ।এমন অনেক অনেক পরিবর্তন ও সফলতার উদাহরণ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের কাছে এগুলোর ইমপ্যাক্ট আছে। 

টেলিকম  বিশেষজ্ঞ টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহরডটকমকে বলেন, গত ১০  বছরে বাংলাদেশের যে অর্জন, ডিজিটাল প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়া, নলেজ বেইজড সোসাইটি, ইনফরমেশন সোসাইটিতে সরকারের যে ভিশন ও কার্যক্রম এটা তার একটা স্বীকৃতি। আর এই স্বীকৃতিটি বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছে। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণে এই সোসাইটির বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকে।

দ্যা ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্যা ইনফরমেশন সোসাইটির বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে এর সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে কাজ করে জাতিসংঘের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। এরমধ্যে রয়েছে ইউএনডিইএসএ, এফএও, ইউএনইপি, ডব্লিউএইচও, ইউএন ওমেন, ডব্লুআইপিও, ডব্লিউএফপি, আইএলও, ডব্লুএমও, আইটিসি, ইউপিইউ, ইউএনওডিসি, ইউএনওডিসি, ইউএনআইটিএআর, ইউনিসেফ এবং জাতিসংঘের আঞ্চলিক কমিশন।

এই ফোরামে অংশগ্রহণকারীরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভাবনী সম্ভাবনাগুলো নিয়ে জ্ঞান আহরণ, পারস্পরিক তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতায় পথ তৈরি করে নেয়।

ফোরামটি জেনেভা প্ল্যান অব অ্যাকশনের মধ্য দিয়ে সোসাইটির সব অংশিদারদের একই রকম তথ্যভিত্তিক সমাজের প্লাটফর্ম তৈরি করে দেয়।

প্রতি বছরের এই ফোরামেই ডব্লিউএসআইএস পুরস্কার দেয়া হয়। যা বিশ্বে বেশ সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার এই পুরস্কার পেয়েছে।   

এডি/মার্চ১৩/২০১৯/০২৩০

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project