তথ্যপ্রযুক্তিতে পোক্ত হচ্ছে নারীর অবস্থান

ছবি : ইন্টারনেট

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের তথ্যপ্রযুক্তিখাতে নারীদের অবস্থান ধীরে ধীরে পোক্ত হচ্ছে। নতুন করে নারীরা আসছেন খাতটিতে, উদ্যোক্তা হচ্ছেন অনেকেই। সব ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেই তথ্যপ্রযুক্তিতে উদ্যোক্তা হওয়া যায় বলেই এই হার দিন দিন বাড়ছে।

দেশের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নারী তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন যেসব উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে সেখানে কোন না কোন ভাবে নারীর অংশগ্রহণ থাকছেই। পুরুষের পাশাপাশি এখন সমান তালেই তারা এগিয়ে যাচ্ছেন।

ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী এবং বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান টেকশহরডটকমকে বলেন, বিশ্বের সব দেশেই তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ কম। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে গত কয়েক বছর থেকে দেশে নারীরা খাতটিতে আসতে শুরু করেছেন।

তথ্যপ্রযুক্তির এই উদ্যোক্তা বলেন, নারীদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা হবার প্রধান বাধা হচ্ছে পরিবার। কারণ, সবাই মনে করেন উদ্যোক্তা হলে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু দিন শেষে কতটা পাচ্ছে সেটাও তারা দেখেন। পাশাপাশি সামাজিক বাধা তো আছেই।

ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে প্রথম যে সমস্যাটায় পড়তে হয় তা হলো পুঁজি। সরকার নারীদের একটা ঋণের কথা বললেও সেটা পাওয়া খুবই কঠিন। দীর্ঘসূত্রিতা এবং যেসব ডকুমেন্ট দিতে হয় সেটাই অনেকে দিতে পারেন না। ফলে সেটাও অধরাই থেকে যায়। এগুলো নারীদের উদ্যোক্তা হবার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করে বলে জানান তিনি।

দেশে সফটওয়্যার খাতের একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বা বেসিসে সদস্য কোম্পানি রয়েছে এক হাজার ২০০টি। এর মধ্যে ৬০টি কোম্পানিতে শেয়ার ও কোম্পানির বোর্ডে রয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা।

বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান বলেন, বারোশোর মধ্যে মাত্র ৬০টি প্রতিষ্ঠানে নারীদের শেয়ার। এটাকে একেবারেই সেই তুলনায় সামান্য বরা যায়। কিন্তু এই নারীদের বেশিরভাগই কিন্তু আজকের দিনের উদ্যোক্তা নন। এরা বেশ কয়েক বছর আগেই এই খাতে কাজ শুরু করেছেন। যাদের কেউ কেউ দুই দশকে পা দিয়েছেন।

নতুন করে যেসব সদস্য হতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বেসিসে আবেদন করছে সেসব কোম্পানিতে নারীদের আধিক্য বেশি বলে জানান তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ই-কমার্সে উদ্যোক্তা হচ্ছেন অনেক নারী। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়ে<ন অব  বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আক্তার নিশা টেকশহডটকমকে বলেন, ই-কমার্সে নারীদের অংশগ্রহণ এখন বেড়েছে। ঢ়রে বসেও অনেকেই এই খাতে উদ্যোক্তা হতে পারেন।

ই-ক্যাবের হিসাবে সংগঠনটির সাড়ে আটশো সদস্যের মধ্যে ১২০ জন নারী। এছাড়াও নারী-পুরুষ উভয়ের শেয়ারে রয়েছে কিছু কোম্পানি রয়েছে।

ই-কমার্সের পাশাপশি এফ-কমার্সেও আধিপত্য নারীদের। রাজধানী কেন্দ্রিক এফ-কমার্সে অন্তত ৬০ শতাংশ নারী জড়িয়ে আছেন। বিক্রি করছেন তাদের নিজেদের তৈরি পণ্য ও সেবা। স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে অন্যতম একটি খাত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও। খাতটিতে কাজ করছে এখন অন্তত ৩৫ হাজার তরুণ-তরুণী। এসব বিপিও কাজের অন্যতম একটি হচ্ছে কল সেন্টারের কাজ।

দেশের এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেশে অসংখ্য নারী কল সেন্টারে কাজ করেন। বিপিও খাতের একজন উদ্যোক্তা এবং খাতটির সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্য আউটসোর্সিং বা বাক্য’র সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন টেকশহরডটকমকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে যেসব খাতে নারীরা সবচেয়ে বেশি কাজের সুযোগ পান তার অন্যতম বিপিও।

তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৩৫ হাজারের মতো তরুণ-তরুণী বিপিও খাতে জড়িত। তাদের ৪০ শতাংশের কিছু বেশি নারী কর্মী। দেশের ভিতরের কোন কোন প্রতিষ্ঠান আগেই শর্ত দেয়, তারা নারী কর্মী চান।

তার নিজের প্রতিষ্ঠান ফিফো টেকে ৪৫ শতাংশ নারী কর্মী রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি বা বিডাব্লিউআইটি’র সভাপতি লাফিফা জামাল টেকশহরডটকমকে বলেন, নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ছে এটা যেতমন সত্যি, তেমনি আবার প্রতিবন্ধকতাও বাড়ছে। অনেক দেশের মতো আমাদের নারীরাও চায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিজেদের একটা অবস্তান তৈরি করতে। কিন্তু নানান প্রতিবন্ধকতার ফলে তা হয়ে উঠছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রনিক অ্যান্ড ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের সভাপতি ও অধ্যাপক জামাল বলেন, আমরা নারীদের প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে আগ্রহী করতে দীর্ঘদিন থেকেই কাজ করছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে খাতটির নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে অনেক নারীকেই দেখত পাবো।

ইএইচ/মার্চ০৮/২০১৯/২১১৫

*

*

আরও পড়ুন