হোয়াটসঅ্যাপ-ভাইবারের সামনে জমেছে দেশীয় কলিং অ্যাপ

call-techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আনুষ্ঠানিক চালুর প্রথম মাসে দেশীয় কলিং অ্যাপ ব্রিলিয়ান্টে কল হয়েছিল ১৮ লাখ মিনিট। আর ছয় মাসের ব্যবধানে তা বেড়েছে প্রায় ১৩ গুণ।

১৮ লাখের শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের জুলাইয়ে । ডিসেম্বরে এসে তা চলে যায় দুই  কোটি ২৪ লাখ ৯২ হাজার মিনিটের ওপরে।

হোয়াটস অ্যাপ-ভাইবার-ম্যাসেঞ্জারের আধিপত্য ও দেশের প্রচলিত মোবাইল কলিংয়ের বিপরীতে দেশীয় একটি অ্যাপের এমন এগিয়ে যাওয়ায় খানিকটা চমৎকৃত এর নির্মাতাই। 

২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে গ্রাহক নিরাপত্তা এবং নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর কলিং অ্যাপ চালুর অনুমতি পায় ইন্টারক্লাউড। অবশ্য তার আগেই কোম্পানিটি ব্রিলিয়ান্ট নামে এই অ্যাপ তৈরি করে নানা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল। প্রথমে ২০১৪ সালে অ্যাপ টু অ্যাপ সেবার চালুতে কোম্পানিটিকে অনুমতি দেয় বিটিআরসি।  

ইন্টারক্লাউডের চিফ ইনফরমেশন অফিসার রেজাউল কবীর টেকশহরডটকমকে জানান, প্রথম দিকে মোবাইল ডায়ালার সঙ্গে কিছু কিছু ওটিটি ফিচার নিয়ে অ্যাপটি আনা হয়।  ভাইবার-হোয়াটসঅ্যাপ ওরা কিন্তু মোবাইল ডায়ালার না। ডায়ালার অ্যাপগুলোতে ডায়াল প্যাডটি সামনে চলে আসে। এতে যেকোনো নাম্বারে কল করা যায়। ডায়ালার অ্যাপ নিয়ে যখন এগুচ্ছিলাম তখন দেখা গেলো এটি কাজ করছে। 

‘এরপর এটিকে উল্টো করা হলো। তৈরি করা হলো একটি ওটিটি অ্যাপ যার মধ্যে মোবাইল ডায়ালার ফিচার আছে। এতে ওটিটি অ্যাপ ভাইবার-হোয়াটসঅ্যাপের সব ফিচারই রাখা হলো। সঙ্গে এমন কিছু যুক্ত করা হয়েছে যা এই অ্যাপগুলোতে নেই। এখানে অনেক বাংলাদেশি ফ্লেভারের অনেক ফিচার আছে। বাংলা ভাষা, বাংলাদেশি স্টিকার বাজার রয়েছে। এগুলো ইমপ্যাক্টের কারণ।’ বলছিলেন তিনি। 

রেজাউল কবীর বলেন, ব্রিলিয়ান্টে মোবাইল অপারেটর হতে কলরেট প্রায় অর্ধেক। ব্রিলিয়ান্টে নেটে অথবা নেট ছাড়া সবভাবেই কানেক্ট থাকা যাচ্ছে। আরেকটি বিষয় হলো ডেটা ব্যবহারের বিষয়। হোয়াটসঅ্যাপ ভাইবারের চেয়ে ৪-৬ গুণ, ম্যাসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপের চেয়ে ৬ গুণ কম ডেটা ব্যবহার হয় ব্রিলিয়ান্টে। এসব বিষয় আসলে মানুষের আগ্রহের অন্যতম কারণ। 

 ‘শুধু কম খরচের জন্য ব্রিলিয়ান্ট ব্যবহার করবে এটাও কিন্তু লয়্যাল কারণ নয়। আমরা এই অ্যাপে অনেক সেবা দিতে কাজ করছি। স্টিকার মার্কেট শিগগির উম্মুক্ত করা হবে। এখানে দেশের শিল্পীরা তাদের কাজ বিক্রির জন্য তুলতে পারবেন। এরপর ছোট ছোট ই-কমার্স, মিউজিক ভিডিওর জন্য একটি মার্কেটপ্লেস হিসেবে তৈরি হবে। একটি ইকোনোমি তৈরি করতে চাই। যেকোনো অনেক মানুষ লাভবান হয়। মূল লক্ষ্য ভয়েস কল ফ্রি করে দেয়া।’ বলছিলেন ইন্টারক্লাউডের এই কর্মকর্তা। 

জানুয়ারি পর্যন্ত ব্রিলিয়ান্টের অ্যাপ ডাউনলোড হয়েছে ২০ লাখ বার। তবে সবাই যে এই অ্যাপ ব্যবহার করে কথা বলছেন তেমনও নয়।

তবে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ ইউনিক গ্রাহক এই অ্যাপের মাধ্যমে কথা বলছেন বলে সম্প্রিতি বিটি্আরসিতে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানিছেন ইন্টারক্লাউড কর্তৃপক্ষ।

ইন্টারক্লাউড বলছে, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সঙ্গে অন্যান্য তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করলেই একটি আইপিটিএসপি নম্বর পেয়ে যাচ্ছে। পরে সেখান থেকে যে কোনো ফোনে সেটি হোক মোবাইল বা ল্যান্ডফোন কথা বলা যাচ্ছে অ্যাপ থেকে।

আবার একইভাবে যে কোনো মোবাইল বা অ্যান্ডফোন থেকে অ্যাপের ওই নম্বরে ডায়াল করলেও অ্যাপ থেকে কল রিসিভ করা যাবে। এ জন্যে গ্রাহককে কেবল ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে থাকতে হবে।

হোয়াটসঅ্যাপ-ভাইবারের মতো অ্যাপগুলোতে শুধু ইন্টারনেটে অ্যাপ হতে অ্যাপে কথা বলা যায়। কিন্তু ইন্টারনেটভিত্তিক টেলিফোন বা আইপি টেলিফোনের অ্যাপে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কে বা ল্যান্ডলাইনে কথা বলা যাবে। এ অ্যাপে ইন্টারনেট, সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ল্যান্ডফোন যে কোনো মাধ্যমে কথা বলার সুবিধা রয়েছে। আর এই আইপি ফোন হতে আইপি ফোনে কথা বলতে কোনো খরচ লাগে না।

অ্যাপ হতে যেকোনো মোবাইল বা ল্যান্ড নাম্বারে কল করতে যে খরচ হয় তাও অনেক কম। এতে মূল খরচ ৩০ পয়সা। ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জসহ সেটি ৩৪ দশমিক ৫ পয়সা ।

প্রথম দেশীয় এই কলিং অ্যাপ ব্রিলিয়ান্ট ভালো করার পর বিটিআরসি আরও পাঁচটি অ্যাপের অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তও নিয়েছে সব আইপি টেলিফোনী কোম্পানির জন্যে এই সেবা উন্মুক্ত।

দেশের এখন ৪১ প্রতিষ্ঠানের রযেছে যাদের এমন লাইসেন্স আছে। তারা শুধু সেবাটি চালু করতে চাইলেই বিটিআরসি অনুমোদন দিয়ে দেবে। বলা হচ্ছে বিদেশী-অ্যাপকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতেই এই সিদ্ধান্তে গেল বিটিআরসি।

এদিকে ডিসেম্বরে লাইসেন্স পাওয়া যার কোম্পানি আম্বার আইটি লিমিটেড, বিডিকম অনলাইন লিমিটেড, মেট্টোনেট বাংলাদেশ এবং লিংক থ্রি টেকনোলজি লিমিটেড অল্প দিনের মধ্যে সেবা নিয়ে আসবে বলে জানা গেছে।

তাছাড়া সদস্য লাইসেন্স পাওয়া আইসিসিও যতো দ্রুত সম্ভব তাদের অ্যাপ চালু করবে বলে জানিয়েছে।

আর দেশীয় ফ্লেভারে এতো প্রযোজনীয় ফিচার নিয়ে আসা অ্যাপগুলো স্থানীয় মার্কেটে হোয়াটসঅ্যাপ-ভাইবার বা ম্যাসেঞ্জারের সামনে খানিকটা চ্যালেঞ্জই তৈরি করবে বলে মনে করছে বিটিআরসি এবং খাত সংশ্লিষ্টরা।  

জেডআই/এডি/মার্চ৭/২০১৯/১৫৩০

৩ টি মতামত

  1. Hworld said:

    Hey, thank you very much for the information! Is there a way I can get more info on the matter? So I can make a post on my local university about this? Thank you very much in advance!

*

*

আরও পড়ুন