মুখ দেখালেই মিলবে টাকা!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পাসওয়ার্ড মনে রাখার দিন শেষ হচ্ছে। কার্ড চুরি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগও থাকছে না।

ব্যাংকিং লেনদেনে ফেসিয়াল রিকগনিশন পদ্ধতি চালু হলে এই দুই ভয় দূর হবে। এ নিয়েই কাজ করছে এনইসি করপোরেশন।

তাইওয়ানের ব্যাংক ই-সানে এ প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে কথাবার্তা পাকা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে তারা।

ব্যাংকটি ফেসিয়াল রিকগনিশন পদ্ধতিতে টাকা তোলা যায় এমন পাঁচটি এটিএম স্থাপন করেছে দেশটির বিভিন্ন জায়গায়। এটিই এটিএমে ফেসিয়াল রিকগনিশন পদ্ধতি ব্যবহারের প্রথম উদাহরণ।

এমন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা কেন?

বর্তমানে একজন মানুষকে গড়ে কয়টি পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয়? অর্থহীন প্রশ্ন মনে হলেও এটির গুরুত্ব আছে। পিউ রিসার্চের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত দেশে গড়ে প্রতিজন মানুষকে ২৭টি পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হচ্ছে।

সংখ্যাটা অনেক বড়, তবে অবিশ্বাস্য নয়। এই ধরুন সোস্যাল মিডিয়া, কয়েক ধরনের মেইল, রাইড শেয়ারিং অ্যাপ, অনলাইন শপিং, ব্যাংকিং ইত্যাদি মেলালে বাংলাদেশের একজন মানুষের মুখস্ত করা পাসওয়ার্ডের সংখ্যাও একেবারেই কম হবে না।

এত পাসওয়ার্ড মনে রাখার কারণে সচরাচরই ভুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তার উপর পাসওয়ার্ড যুতসই দিতে না পারলে সেটির নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকিতে থাকতে হয়। এ কারণে বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশনের উত্থান হয়েছে বিগত বছরগুলোতে।

জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফেইস আনলক, ফিংগারপ্রিন্টসহ আরও অনেক প্রযুক্তি। এনইসি ও ই-সান মনে করে এই ধরনের প্রযুক্তি সনাতনি পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।

যেভাবে কাজ করে?

এ প্রযুক্তি সেটাপের জন্য এটিএম মেশিনে কার্ড ঢুকিয়ে নিজের চেহারা তালিকাভুক্ত করতে হবে। কার্ডের ছবি আর ক্যামেরায় তোলা ছবির মিল পেলে ছবিটি কার্ডে জমা থাকবে। এরপর যতবার আপনি কার্ড ঢুকাবেন ততবার আপনার মুখটি ক্যামেরার সামনে ধরলেই আপনার কাজ শেষ।

এরপর আপনার মোবাইলে পাঠানো ওটিপি দিয়েই তুলে নেওয়া যাবে টাকা। পুরো প্রক্রিয়ায় মুখস্ত করার কোনও বিষয় নেই।

সমস্যা

প্রযুক্তিটি নিয়ে এনইসি বিস্তারিত কিছু জানায়নি। যেমন, সময়ের সঙ্গে চেহারার পরিবর্তন হলে কীভাবে এটিএম তাল মেলাবে। বড় কোনও দুর্ঘটনায় চেহারায় বড় পরিবর্তন আসলে ব্যবস্থা কী হবে।

এছাড়া পিনটি অনেকদিন ব্যবহার করা না হলে সেটিও ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। কেউ ছবি ব্যবহার করে জালিয়াতি করতে পারবে না তো?

সম্ভাবনা

বায়োমেট্রিকের যেভাবে উত্থান হচ্ছে বলাই বাহুল্য যে নিকট ভবিষ্যতেই সব বায়োমেট্রিক হতে যাচ্ছে। তাই এই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠলে ব্যাংকিং আরও নিরাপদ হবে এটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও আছে

এনইসি কেবল ব্যাংকিংয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশন নিয়েই কাজ করছে না। তারা চালকহীন গাড়ির কমিউনিকেশন ডিলে কমাতেও নিয়েও কাজ করছে।

রাস্তার মোড়গুলোতে ক্যামেরা বসিয়ে একটি গাড়ির অবস্থান অন্যটিকে দ্রুত জানিয়ে দিতে কাজ করছে। তাদের পদ্ধতিতে কমিউনিকেশন ডিলে ১০০ মিলি সেকন্ডে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ফাইভজি ও ড্রাইভারলেস কারের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তি বেশ উপকারে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এমআর/আরআর/৩ মার্চ/২০১৯/১৫০০

*

*

আরও পড়ুন