STE 2019 (summer) in news page

সফল হওয়া তো জিপির অপরাধ না!

Laptop fair 2019 (in page)

গ্রামীণফোনের ব্যবসার লাগাম টেনে ধরতে আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ। এসব নিয়ে বর্তমান ভাবনা এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে টেকশহরের মুখোমুখি হয়েছেন অপারেটরটির ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান। 

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে সুষ্ঠ প্রতিযোগিতার পরিবেশ রাখতে, একক কোনো কোম্পানির ‘আধিপত্য’ ঠেকাতে ২০১৮ সালের নভেম্বরে তৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা প্রবিধানমালা-২০১৮ বা সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) রেগুলেশন জারি  করে বিটিআরসি।

এরপর অপারেটরটিকে ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এসএমপি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গ্রাহক ও রাজস্ব দুই ক্যাটাগরিতেই এসএমপিতে পড়ে তারা । এসএমপি ঘোষিত হতে প্রবিধানমালার যে ৪০ শতাংশ বাজার শেয়ারের সীমা রয়েছে সেখানে এই দুই ক্যাটাগরিতেই জিপিকে ফেলা হয়।

একই মাসের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে এসএমপি হিসেবে অপারেটরটিকে বিধিনিষেধ দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, এমএনপিতে আসা গ্রাহক আটকে রাখার সীমা কমানো, কর্পোরেট সেবার ক্ষেত্রে এক্সক্লুসিভিটি বা একক অধিকার না রাখতে দেয়া, কলড্রপের হার কমিয়ে দেয়া, প্রচার-প্রচারণা চালাতে নিষেধাজ্ঞা।

টেকশহর : এসএমপি অপারেটর ঘোষিত হওয়ার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে গ্রামীণফোন ?

হোসেন সাদাত :  ইন প্রিন্সিপাল উই ওয়েলকাম এসএমপি রেগুলেশন। কিন্তু একইসঙ্গে শুরু হতেই আমরা বলে আসছি, এসএমপি ডিক্লেয়ার করা বড় জিনিস না। এসএমপির যে মূল লক্ষ্য মার্কেটে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং  তা যেন ঠিক থাকে। এখানে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, এসএমপি প্লেয়ার মার্কেটে প্রতিযোগিতায় কোনো বাধা সৃষ্টি করছে কিনা।

মোদ্দা কথা এটা মনে রাখাতে হবে যে, এসএমপি রেগুলেশনসের আলোকে যেসব কার্যক্রমের বিষয় আসবে সেগুলো যেনো প্রতিযোগিতার পরিপন্থী না হয়। একজন অপারেটর বড় হওয়ার কারণে তাকে এমন সব বিধিনিষেধ দেয়া হলো, যেখানে সে আর এগুতে পারবে না, বড় হতে পারবে না, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতার কোনো সম্পর্ক নেই।

এমন যদি কোনো বিষয় চিন্তা করা হয় তাহলে সেখানে অবশ্যই আমাদের কনসার্ন থাকবে।

টেকশহর : এসএমপি হিসেবে গ্রামীণফোনের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধে কোনো আপত্তি ?     

হোসেন সাদাত : যে চারটি শর্ত দেয়া হয়েছে এগুলোতে দেখতে হবে প্রতিযোগিতা কি প্রমোট করা হচ্ছে নাকি যে বড় হয়েছে তাকে বিধিনিষেধে আটকে ফেলা হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরোপিত নির্দেশনাগুলো প্রতিযোগিতাবিরোধী অবস্থান হিসেবে প্রতীয়মান হয়। তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিলো, একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা যেখানে যোগ্যতা হবে ব্যবসায়িক উন্নতির একমাত্র মাধ্যম। এখানে মার্কেট পর্যবেক্ষণে দেখতে হবে কোনো অপারেটর ডোমিনেন্ট বা অ্যান্টি কম্পিটিটিভ আচরণ করছে কিনা। 

এসএমপির প্রাথমিক এসব নির্দেশনা প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করতে করা হয়নি। এটি অন্য অপারেটরদের সুবিধা দিতে সহায়ক হয়েছে।

তাই আমরা বলতে চাই, এসএমপির যে মূল লক্ষ্য তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হচ্ছে।

টেকশহর : বৈশ্বিক মানদণ্ড বা দেশের বাজার প্রেক্ষাপটে এই এসএমপির মূল্যায়ন করবেন ?

হোসেন সাদাত : এসএমপির অনেক বিষয় রয়েছে। এখানে অনেক আলোচনার বিষয় আছে। কিন্তু প্রধান ইস্যু হলো, সেই ধরণের অ্যাকশন নিতে হবে, রেগুলেশন নিতে হবে যেগুলোর কারণে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় থাকবে। কিন্তু এমন করা উচিত না আরও একজন বা দুইজন অপারেটরকে সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য যে বড় হয়ে গিয়েছে, সফল হয়েছে, তাকে বাধাগ্রস্ত করলেন। এটা এসএমপির মূল লক্ষ্য না।

টেকশহর : এসএমপির কারণে গ্রামীণফোনের সেবায় কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা ?

হোসেন সাদাত : এসএমপির মূল লক্ষ্য মাথায় রেখে যদি নির্দেশনাগুলো থাকে তাহলে মনে করি সমস্যা হওয়ার কথা না। আমরা শুরু হতেই বলে আসছি, এসএমপি ফ্রেমওয়ার্ককে সহযোগিতা করতে চাই।

টেকশহর : এসএমপির কারণে গ্রামীণফোনের অভ্যন্তরীণ পলিসিতে কোনো প্রভাব পড়বে  ?

হোসেন সাদাত : এখন পর্যন্ত যে চারটি নির্দেশনা দেয়া হলো, এগুলো দিয়ে আসলে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করবে বা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখার সমর্থনে কাজ করবে বলে আমরা মনে করি না।

স্বাভাবিকভাবেই মনে হচ্ছে, আজকে আমরা বড় হয়ে গিয়েছি, ২২ বছর ধরে কাজ করছি এবং এই নিষ্ঠার সাথে কাজ করার কারণে, বড় হওয়ার কারণে এই বৈষম্যমূলক আচরণের সম্মুখীন হচ্ছি। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীর দিক হতে একটি অনিয়শ্চয়তা তৈরি হয়।  

এই গ্রামীণ যখন ৩৫ মিলিয়ন গ্রাহক ছিল তখনও লাভজনক ছিল। এখন যাদের ৩৫ মিলিয়ন গ্রাহক রয়েছে তারা কেন প্রফিট করতে পারছে না ? এখন গ্রামীণফোন বড় হয়েছে বলে তাদের জন্য এক রেট হবে আর অন্যদের আরেক রেট হবে-এটা তো স্বচ্ছ হলো না। এটা তো গ্রামীণফোনের অপরাধ না যে, বছর বছর সঠিক সময়ে সঠিক বিনিয়োগ করে এই পর্যন্ত এগিয়ে আসলো।

জিপি অ্যানুয়্যালি রিপোর্ট করে জানায় কী পরিমাণ  ইনভেসমেন্ট করছে। এখন অপারেটরটি বড় হয়ে গিয়েছে, আর বড় হতে দেবো না, তাহলে কী আর ইনভেস্টমেন্ট করবে তারা?’

আরো পড়ুন ঃ- 

গ্রাহকের গন্তব্য ডিজিটাল সার্ভিসে, টেলিকমেরও 

নতুন লক্ষ্যে বিটিআরসি 

হুমকির নাম গ্রে মার্কেট, অস্বস্তি উচ্চ করে 

*

*

আরও পড়ুন