পলান সরকারের বিদায়ে ফেইসবুকে শোক ছায়া

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পলান সরকার। নাম শুনলেই যার প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়, তিনি শুক্রবার না ফেরার দেশে চলে গেলেন। 

৯৮ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তিনি মারা যান। 

ঘরে ঘরে গিয়ে বই বিলি করাই ছিল তার কাজ। নিজ টাকায় বই কিনে সেগুলো গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিলি করতেন। পড়া শেষে আবার নিয়ে আসতেন, আবারও সেটি অন্য কোন দারে নিয়ে হাজির হতেন। 

তার মৃত্যুতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। 

আবদুর রাজ্জাক সরকার নামের এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, কাঁধে ঝোলাভর্তি বই, গায়ে পাঞ্জাবী, চোখে চশমা। ‌‘বইওয়ালা দুলাভাই’ একজন সত্যিকার বই পাগলের প্রস্থান। শ্রদ্ধা…। 

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাদা মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন পলান সরকার। এছাড়াও তিনি আলোর ফেরিওয়ালা হিসেবে অনেকের কাছে পরিচিত।

অনেকেই আবার তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন ফেইসবুকে। তেমনই একজন মীর রাসেল। তিনি লিখেছেন, পলান সরকার। একুশে পদক প্রাপ্ত একজন সাদা মনের মানুষ। আমরা একই গ্রামের। সব মায়া কাটিয়ে ৯৮ বছর বয়সে আজ তিনি পরলোকগমন করেছেন।

আমার পড়ার ডেস্কে তাঁর দেয়া কয়েকটি বই এখনও আছে। কিন্তু তিনি নেই! এখনও মনে পড়ে, স্কুলে পড়ার সময় ভালো ফলাফল করার সুবাদে প্রতিবছর তাঁর থেকে বই পুরস্কার পেতাম। গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিনামূল্যে প্রতিজনকে একটি করে ফেরতযোগ্য বই দিতেন তিনি। আমি তাকে ‘দুলাভাই’ বলে ডাকতাম। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ ডাকটি পছন্দ করতেন।

‘অনেক বড় একটি অনুপ্রেরণার জায়গা ছিলেন তিনি। বই পড়াকে আন্দোলনে পরিণত করেছিলেন সাধারণ জীবনযাপন করা এই পলান সরকার।আল্লাহ তাকে জান্নাত নছিব করুন এই কামনা করি। ভালো থাকবেন প্রিয় পলান দুলাভাই।’

বিউটি আকবর যেমন একটি ছবি দিয়ে দুই শব্দে তাকে বুঝিয়েছেন, জ্ঞানের ফেরিওয়ালা। 

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর তার স্ত্রী রাহেলা বেগম (৮৫) মারা যান। 

পলান সরকারের জন্ম ১৯২১ সালে। তার আসল নাম হারেজ উদ্দিন। তবে পলান সরকার নামেই তাকে চেনে দশ গ্রামের মানুষ। জন্মের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তাঁর বাবা মারা যান। টাকাপয়সার টানাটানির কারণে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই পড়াশোনায় ইতি টানতে হয় তাঁকে। তবে নিজের চেষ্টাতেই চালিয়ে যান পড়ালেখা। স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন পলান সরকার। তিনি ছিলেন বইপাগল মানুষ। প্রতিবছর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যারা ১ থেকে ১০-এর মধ্যে মেধাতালিকায় স্থান পাবে, তাদের তিনি একটি করে বই উপহার দিতেন। এখান থেকেই শুরু হয় তার বই বিলির অভিযান।  

ইএইচ/মার্চ০১/২০১৯/১৬২৫

*

*

আরও পড়ুন