ডিজিটাল পেমেন্টের উদ্যোগ পেওয়েল

অনলাইন পেমেন্ট দিয়ে কাজ শুরু করে উদ্যোক্তা হয়েছেন আনিসুল ইসলাম। ক্লাউড ওয়েল লিমিটেডের পণ্য ‘পেওয়েল’ দিয়ে কাজটি করে চলেছেন তিনি। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন। 

পেওয়েল মূলত অনলাইনে ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা। তবে এখনো এটি সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করে না। অল্প সময়ের মধ্যে সেবাটি সরাসরি গ্রাহক পর্যায়ে শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের ৬৪ জেলায় এখন সেবাটি পৌঁছাতে কাজ করছেন এর কর্মীরা।   

শুরুটা অর্ধযুগের

ক্লাউড ওয়েলের শুরুটা অর্ধযুগের। ২০১১ সালে কাজ শুরু করলেও তখন জনসম্মুখে আসেনি ক্লাউডওয়েল। ২০১৩ সালের আগস্টে একেবারে ছোট পরিসরে জনসম্মুখে হাজির হয় ক্লাউডওয়েল লিমিটেড। তখন প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধনের পরে প্লাটফর্ম উন্নয়ন করা, বিভিন্ন ধরনের পার্টনারদের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন এগুলো করে তখন দেশে অপারেশন শুরু করে ক্লাউডওয়েল। আর কিছুদিন পর প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম পণ্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় পেওয়েলের সঙ্গে।

ক্লাউডওয়েল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আনিসুল ইসলাম বলেন, ছোট পরিসর থেকেই আমরা এখন চেষ্টা করছি দেশের সব এলাকায় এর সেবা পৌঁছে দিতে। ডিজিটাল পেমেন্টের একটা ইকো সিস্টেম দাঁড় করাতে কাজ করছি। 

যেসব সেবা পাওয়া যায় 

এখন পেওয়েল থেকে বেশ কয়েকটি সার্ভিস নিতে পারেন গ্রাহকরা। পেওয়েল ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে কাটা যায় বাস, লঞ্চ, ট্রেন, বিমানের টিকিট। ডেসকো, ডেসা ও পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, ওয়াসার পানির বিল পরিশোধ, কিউবির ইন্টারনেট বিল, রিয়েলভিউ এর সাবক্রিপশন বিল, ই-কমার্সে কেনাকাটা করতে পারেন। তবে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, পেওয়েলের সঙ্গে সব মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। ফলে একটি ফোন থেকে বা একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই দেশের সব ধরনের মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স রিচার্জ করতে পারেন।   

যে প্রক্রিয়ায় সেবা

গ্রাহকরা সেবাটি নিতে পারে দেশব্যাপী পেওয়েলের এজেন্টদের কাছ থেকে। মূলত সার্ভিস প্রোভাইাররা প্রথমে কিছু ডিলারদের তাদের সার্ভিস দেবার জন্য মনোনীত করেছে। এরপর একেবারে গ্রাহকদের সেবা দেবার জন্য সেই ডিলাররা বিভিন্ন দোকানদারদের এজেন্ট হিসেবে মনোনীত করে। এরপর তাদের অ্যান্ডয়েড ফোনের মাধ্যমে কিছু টাকা অ্যাকাউন্টে দেয়। শুরু হয় লেনদেন। 

আনিসুল ইসলাম বলেন, পেওয়েলের সেবাটি নিতে হলে প্রথমে আমাদের কাছ থেকে এজেন্টরা একটা কমন ফান্ড পায়। এরপর তারা সেই ফান্ড দিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। 

নিজেরাই বানায় নিজের প্রযুক্তি

পেওয়েলের যে সেবাটি এখন গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানো হচ্ছে তাতে ব্যবহার করা সব প্রযুক্তিই নিজেদের তৈরি বলে জানান আনিসুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা সেবাটি দিতে নিজেরাই প্রযুক্তি তৈরির কাজ করেছি। এর পিছনে আমাদের একটা ডেভলপার টিম কাজ করছে। যারা সবসময় অ্যাপটির হালনাগাদ করতে এবং ওয়েবে সার্ভিসগুলো সহজেই দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

আনিসুল ইসলাম বলেন, যেহেতু এটা অর্থ লেনদেনের বিষয়, তাই একে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিই। ফলে অন্যের উপর নির্ভর করা খুব একটা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে কিনা সেটা ভেবেই আমরা এমন পদক্ষেপ নিয়েছি।

ই-কমার্সেও পেওয়েল

ই-কমার্স থেকে পণ্য কেনাকাটায় দেশে এখনো জনপ্রিয় ক্যাশ অন ডেলিভারি। সেই প্রক্রিয়া থেকে বেরুতে কাজ করছে অনেক কয়েকটি ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস। সেগুলো যে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে তা বলাই যায়। আনিসুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই, ক্যাশ অন ডেলিভারি থেকে বের হয়ে প্রত্যান্ত গ্রামের মানুষজনও যেন তাদের পছন্দেন পণ্য অনলাইন থেকে কিনতে পেওয়েল ব্যবহার করেন সেদিকে। ইতোমধ্যে আমরা ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আজকের ডিলের সঙ্গে কাজ শুরু করেছি।

তিনি বলেন, আমরা সিস্টেমটিতে নতুন কছু যুক্ত করার চেষ্টা করেছি।

তিনি জানান, গ্রাম থেকে কেউ যদি আজকের ডিলের পণ্য কিনতে চান তবে আমাদের এজেন্টের মাধ্যমে তা অর্ডার করতে পারবেন। এজন্য পেওয়েল অ্যাপে গেলে আজকের ডিলের পণ্য দেখতে পাবেন। অ্যাপে ঢুকে যেকেউ আজকের ডিলের পণ্যের অর্ডার করলে অর্ডারটি পাঠিয়ে দেয়া হয় আজকের ডিলে। এরপর সেই পণ্যটি তারা পাঠিয়ে দেয় যে পয়েন্ট থেকে এজেন্ট অর্ডার করেছে সেই এজেন্টের ঠিকানায়। তখন এজেন্টের কাছ থেকেই গ্রাহক সেটি গ্রহণ করতে পারেন।

আনিসুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দেশের লিডিং ই-কমার্স সাইটগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছে আমাদের কাছ থেকে সেবা নিতে। যদি সবকিছু ঠিক থাকে তবে খুব শিগগির আমরা আরও ই-কমার্সকে আমাদের প্লাটফর্মে যুক্ত করতে পারবো।

যত এলাকায় পেওয়েল

পেওয়েলের লক্ষ্য সারা দেশে তাদের সেবাকে মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে যাওয়া। এজন্য শহরের পাশাপাশি মফস্ফল, প্রত্যন্ত গ্রামেও আমরা এজেন্ট দিয়েছি। বর্তমানে আমরা দেশের ৫৬ জেলায় পেওয়েলের সেবা পৌঁছাতে পেরেছি বলেন, আনিসুল ইসলাম। এখন পেওয়েল দেশে ২৭ হাজার এজেন্ট পেয়েন্ট করেছে। যেগুলো থেকে পেওয়েলের সেবা নেওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পেওয়েল

কাজ হচ্ছে বিটুবি প্রক্রিয়ায়

পেওয়ের প্লাটফর্মটা মূলত বিজনেস টু বিজনেস। আমরা অন্যান্য বিজনেস এনটিটিকে একত্রে করে তাদের তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এক করে। যেমন অ্যাপ বা অন্যান্য আইটি সেবা থেকে তাদের সংযুক্ত করার পর তারা সার্ভিসটিকে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়। এখন একটি অ্যাপের মাধ্যমে এই লেনদের সম্পন্ন করতে পারেন আমাদের এজেন্টরা।  

এসেছে অনেক বিনিয়োগ

প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই দেশের ভিতরের বিনিয়োগ পায়। দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সিড ফান্ড দেয়। এরপর ২০১৪ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিনিয়োগ আসে পেওয়েলে। সিঙ্গাপুরের ইন্টেলিজেন্ট ইমেজ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা আইআইএমআই। এর এক বছর পর ২০১৬ সালে ভারতের মুম্বাইভিত্তিক আভিশকার ফ্রন্টিয়ার ফান্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠান পেওয়েলে দুই মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।

যত জন কাজ করছেন

পেওয়েলে এখন সরাসরি ৮৫ জন কর্মী কাজ করছেন। যারা এর বিপণন, প্রযুক্তি উন্নয়নসহ অন্যান্য বিষয় দেখাশোনা করেন। এছাড়াও আমাদের এজেন্টরা রয়েছেন তালিকায়। 

ইএইচ/মার্চ১৪/২০১৯/১৭০০ 

*

*