মুখের ভাষায় বাংলা ষষ্ঠ, অনলাইনে খোঁজ নেই

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগে আমরা যে বাংলা ভাষা ব্যবহার করি তা এখন বিশ্বের ষষ্ঠতম ভাষা।

বাংলা মানুষের মুখের ভাষা হিসেবে শীর্ষ দশের  মধ্যে অবস্থান করলেও অনলাইনে এর অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। 

অনলাইনে শীর্ষস্থান এখনো ইংরেজির থাকলেও অন্যান্য কিছু ভাষা শীর্ষ দশে অবস্থান করছে। কিন্তু সেগুলো আবার ভাষাভাষী হিসেবে শীর্ষ দশে নেই। 

তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাজার গবেষণার অন্যতম প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিসটা তাদের এক জরিপে দেখাচ্ছে, চলতি মাসে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত  ভাষা ইংরেজি দখল করে আছে ৫৪ শতাংশ। রাশিয়ান ভাষা রয়েছে ঠিক তার পরেই। ৬ শতাংশ দখল করে আছে। জার্মান ভাষা অনলাইনে ব্যবহার হয় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ যা অবস্থান হিসেবে তৃতীয়। 

জরিপে দেখা যাচ্ছে, স্প্যানিশ ৫, ফ্রেঞ্চ ৪, জাপানিজ ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, পর্তুগিজ ২ দশমিক ৯, ইতালিয়ান ২ দশমিক ৩, পেরিশিয়ার ২ এবং পলিশ ১ দশমিক ৭ শতাংশ দখল করে আছে ওয়েবসাইটে।

অন্যান্য সব ভাষা মিলে ওয়েবসাইট বা অনলাইনে দখল করে আছে ১১ শতাংশ। এর মধ্যেই রয়েছে বাংলা ভাষা।

 

স্ট্যাটিসটা বলছে, বিশ্বে চীনা ভাষা কথা বলেন ১২৯ কোটি ৯৯ লাখ মানুষ। ঠিক এর বিপরীতে অনলাইনে ব্যবহার হয় মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ।   

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এখন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার সহজলভ্য হয়েছে। ইন্টারনেটও সহজলভ্য। কিন্তু প্রান্তিক মানুষ যখন সেগুলো ব্যবহার করতে যায় তখন ভাষা সমস্যায় ভোগে সবচেয়ে বেশি। কারণ, ইন্টারনেট বা ওয়েবে নিজেদের কনটেন্ট খুব কম পায়। ফলে তারা অনেকেই সেটার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। 

এমন অবস্থায় সেগুলো ব্যবহারের জন্য কিছু প্রযুক্তিগত টুলস রয়েছে কিন্তু সেগুলো খুব একটা জুতসই নয় বলে জানায় তারা। প্রতিষ্ঠানটির মতে, গুগল ট্রান্সলেট বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করতে সক্ষম হলেও এটি এখনো খুব ভালোভাবে কাজ করতে পারে না। এমনকি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা যায়নি। ফলে সেখানে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েই গেছে।   

বিশ্বের অন্তত ২৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বললেও অনলাইনে এর অস্তিত্ব নেই বললেই চলে যেটা স্ট্যাটিসটার জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে। 

তবে বাংলা ভাষাকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে একটা নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে নিতে ইতোমধ্যে দেশে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। 

‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইন্টারনেটে বাংলাকে সমৃদ্ধ করার কাজ করা হচ্ছে। এটি শেষ হলে বাংলাকে ইন্টারনেটে ব্যবহারে কয়েক ধাপ এগিয়ে নেওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

দেশে সরকারি সব ওয়েবসাইটের ভাষা বাংলায় করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অবশ্য ইংরেজিও করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ অন্যান্য যেসব ওয়েবসাইট রয়েছে সেগুলোর ভাষা ইংরেজিতে। ফলে সাধারণ মানুষ বা কম শিক্ষিত জনগোষ্ঠী সেটা সঠিকভাবে ব্যভহার করতে পারেন না। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর হবে বিসিসির সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে। 

ইএইচ/ফেব্রু২২/২০১৯/১৫২০

৪ টি মতামত

  1. বাংলা ডেস্ক said:

    সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প, দর্শন বা ইতিহাসের চর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গিয়েছে বাংলার কার্যকারিতা। কেউ বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চান, কেউ চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণা করতে চান, কেউ কারিগরি বা প্রযুক্তির দিকে যেতে চান, কেউ আইনজ্ঞ হতে চান। এঁদের কারও পক্ষেই কি বাংলায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব? বাংলা ভাষায় সব ধরনের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ কি আমরা এথনও তৈরি করতে পেরেছি? পারিনি।
    অন্য অনেক ভাষাতেই কিন্তু সে সুযোগ তৈরি হয়েছে। চিনে, জাপানে, রাশিয়ায়, ফ্রান্সে, জার্মানিতে মাতৃভাষার এই সঙ্কট কিন্তু নেই। কারণ নিজেদের মাতৃভাষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভাষা করে তুলতে পেরেছেন তাঁরা। চিনা বা জাপানি ভাষায় বিজ্ঞানের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। রাশিয়ায় বা ফ্রান্সে কোনও পড়ুয়া নিজের মাতৃভাষায় স্বচ্ছন্দে ম্যানেজমেন্ট বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারছেন। কারণ ভাষাগুলো সে সবের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে দিনে দিনে। বাঙালি নিজের মাতৃভাষাকে নিয়ে ওই পথে অগ্রসর হতে পারেনি।
    অনলাইনের উপকরণ হিসেবে বাংলার অবস্থান ৪১ তম । প্রায় ৩০ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে।
    ভাষা শহীদদের শুধু ফুল দিয়ে সম্মানের সাথে অন্তরে বাংলা ধারণ করে আমরা সকলে এগিয়ে আসলে একদিন বিশ্বের মানুষ বাংলা শিখবে বলে আশা করি।

    • tahmina tania said:

      প্রিয় পাঠক , আপনার মুল্যবান মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ । ভালো থাকুন । অসাধারন লিখেছেন আপনি । থাকুন আমাদের টেক শহরের সাথেই থাকুন ।

  2. বাংলা ডেস্ক said:

    সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতির চর্চায় বাঙালির কাছে আজও বাংলাই মূল ভাষা। সাহিত্য চর্চার বাংলা আজও প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে সমৃদ্ধ হচ্ছে, শব্দকোষ রোজ পরিমার্জিত হচ্ছে আপন ছন্দে। সাহিত্য-সংস্কৃতি বা শিল্প চর্চার বাইরে যে বৃহত্তর পেশার জগত, সেখানে বাংলা ভাষাকে খুব বেশি কাজে লাগাতে পারছি না আমরা। কারণ বাংলাকে আমরা তার উপযুক্ত করে তুলতেই পারিনি এখনও পর্যন্ত।
    বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে বাংলা ভাষা তথা শব্দকোষ তার মূল অবয়ব পেয়েছিল। জগদীশচন্দ্র বসু, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীদের লেখনি বাংলা ভাষাকে সেই সব সরণিতে হাঁটতে শিখিয়েছিল, যেখানে নিয়মিত হাঁটাচলার অভ্যাস থাকলে একটা ভাষা পুরোদস্তুর ‘কাজের ভাষা’ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা বহাল থাকেনি। বাংলাকে শিক্ষা ও পেশার প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহার্য করে তোলার প্রয়াসকে আমরা আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারিনি। ফলে সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প, দর্শন বা ইতিহাসের চর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে বাংলার কার্যকারীতা। কেউ বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চান, কেউ চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণা করতে চান, কেউ কারিগরী বা প্রযুক্তির দিকে যেতে চান, কেউ আইনজ্ঞ হতে চান। এঁদের কারও পক্ষেই কি বাংলায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব? বাংলা ভাষায় সব ধরনের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ কি আমরা এখনও তৈরি করতে পেরেছি? পারিনি।
    অন্য অনেক ভাষাতেই কিন্তু সে সুযোগ তৈরি হয়েছে। চিনে, জাপানে, রাশিয়ায়, ফ্রান্সে, জার্মানিতে মাতৃভাষার এই সঙ্কট কিন্তু নেই। কারণ নিজেদের মাতৃভাষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভাষা করে তুলতে পেরেছে তাঁরা। চিনা বা জাপানি ভাষায় বিজ্ঞানের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। রাশিয়ায় বা ফ্রান্সে কোনও পড়–য়া নিজের মাতৃভাষায় স্বচ্ছন্দে ম্যানেজমেন্ট বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারছেন। কারণ ভাষাগুলো সে সবের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে দিনে দিনে। আমরা নিজেদের মাতৃভাষাকে নিয়ে ওই পথে অগ্রসর হতে পারেনি।

*

*

আরও পড়ুন