চট্টগ্রামকে তথ্যপ্রযুক্তির হাব হিসেবে গড়ার আহবান

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চট্টগ্রামকে তথ্যপ্রযুক্তির হাব হিসেবে গড়ার আহবান জানিয়েছেন সেখানকার ব্যবসায়িক নেতারা। 

দ্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও ই-জেনারেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘চট্টগ্রামকে তথ্যপ্রযুক্তির গন্তব্যস্থল এবং বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানির প্রদর্শন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহবান জানানো হয়। 

বুধবার মহানগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম তথ্যপ্রযুক্তি খাতেরও হাব হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। চট্টগ্রামে অবস্থিত বন্দর, কাস্টম, ইপিজেড, শিপিং, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং, সিঅ্যান্ডএফ ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করছে।

তিনি বলেন, শিল্পায়নের জন্য এখানে তথ্যপ্রযুক্তি ভিলেজ স্থাপনের মাধ্যমে এ  খাতের বিশাল উন্নয়ন করা যাবে। সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে এটা করা সম্ভব। 

তিনি বলেন, এ খাতে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে আউটসোর্সিংয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্বল্প পুঁজিতে স্বনির্ভরভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই তথ্যপ্রযুক্তিকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার অন্তর্ভূক্ত করতে হবে ও ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। চেম্বার সভাপতি শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি আইটি খাতেও চট্টগ্রাম অদূর ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দিবে বলে প্রত্যাশা করেন।

ই-জেনারেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীম আহসান বলেন, ১৯৮৩ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে ইনফোসিস, উইপ্রো তাদের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করে, এরপর অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিও স্থানটি এখন ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানিরা তুলনামূলক কম বেতনে অধিক জনবলকে চাকরি দেয়ার সুযোগ পায়। আর এভাবেই গোটা আইটি আউটসোর্সিং মডেল তৈরি হয়েছে।

যথাযথ কৌশল ও উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দেশের তথ্যপ্রযুক্তির গন্তব্যস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এখনই সময়। বাংলাদেশের পুরাতন এবং বৃহৎ কর্পোরেশনগুলোর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে রয়েছে। ইউনিলিভার, রেকিট এবং আরও অনেক কোম্পানি এই শহর থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই এটা করা সম্ভব বলে বলেন তিনি। 

ই-জেনারেশন গ্রুপের নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান এসএম আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। সকল ব্যবসায় এবং এই খাতের উন্নয়নে বর্ধনশীল তথ্যপ্রযুক্তিতে সম্পৃক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। 

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে আইটি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এ খাতে পাবলিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং প্রশাসনিক ও কমার্শিয়াল রাজধানী পৃথকীকরণ করতে হবে। 

গোলটেবিল বৈঠকে সরকারি ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নীতিনির্ধারক, শীর্ষ প্রযুক্তি খাতের নেতৃবৃন্দ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামকে তথ্যপ্রযুক্তির পরবর্তী গন্তব্যস্থল হিসেবে তৈরি করতে প্রয়োজনীয় কৌশল, করণীয় ও ব্র্যান্ডিং নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন, চিটাগাং চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তফা, বিকেএমইএর সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান, ওয়েল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম কমু, সোসাইটি অব আইটি প্রফেশনালসের সভাপতি আবদুল্লাহ ফরিদ, এসএপি ইন্ডিয়ার সিনিয়র সলিউশন আর্কিটেক্ট সৌভিক দাশ, কেএসআরএমের আইটির প্রধান হাসান মুরাদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এসসিও মো. ওয়াকার খান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আইটি হেড ইকবাল হাসান, বিডি ভেঞ্চারের চেয়ারম্যান এহসানুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত হোসেন, বিআইপিসি’র চেয়ারম্যান আবুল কাশেমসহ আরও অনেকে। 

ইএইচ/ফেব্রু২১/২০১৯/১৭২৫

*

*

আরও পড়ুন