Header Top

বিপিও খাতে আয়ের সঙ্গে বেড়েছে কর্মসংস্থানও

Evaly in News page (Banner-2)

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে দিনকে দিন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আরও আলো ছড়াচ্ছে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও।

গত দুই বছরে খাতটিতে শুধু কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধ হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। আর তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যে ১০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে তার মধ্যে একটা বড় অংশ আসবে এই খাতটি থেকে।

দেশে বিপিও খাত নিয়ে কাজ করা একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং বা বাক্য। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন টেকশহরডটকমকে বলেন, ২০১৮ সালের শেষের হিসাব অনুযায়ী দেশে বিপিও খাতে কাজ করছে ৪৫ হাজার কর্মী। গত দুবছরে এই খাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধির হার দেখে এটা আমরা ধারণা করছি, এই সংখ্যা চলতি বছরের জুনে ৫০ হাজারে দাঁড়াবে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, এই হিসাবটা শুধু বাক্যতে যেসব বিপিও প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করেছে তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এর বাইরেও আরও অনেকেই বিপিও খাতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। অনেকেই দেখা যায় একেবারে কম সংখ্যক কর্মী নিয়ে ছোট পরিসরে কাজ করে চলেছেন। কিন্তু তারা কোন সংগঠনে নিবন্ধনই করেনি। তাদের হিসাব আবার আমাদের কাছে নেই।

বর্তমানে খাতটি থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় আসছে। তৌহিদ হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের শেষে যে হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে এটা বলতে পারি যে দেশে কল সেন্টার থেকে এখন আয় আসছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বা ২৫০০ কোটি টাকা।

২০২১ সালের মধ্যে খাতটি থেকে এক বিলিয়ন ডলার আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সেটি সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বাক্যর কর্তাব্যক্তিরা।

বাক্যর হিসাবে বিগত ২০১২ সালে এই খাত থেকে তাদের আয় ছিল মাত্র ১২ মিলিয়ন ডলার। যা পরের বছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ মিলিয়নে। এরপরের বছরগুলোতে আয় বেড়েছে খুব দ্রুত।

২০১৪ সালে ৮১ মিলিয়ন, ২০১৫ সালে ১৩০, ২০১৬ সালে ১৬০ এবং ২০১৭ সালে এই আয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

দেশে কল সেন্টারের কাজ দিন দিন বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সেবার জন্য এখন কল সেন্টার অনেকটা বাধ্যতামূলক করছে তাদের গ্রাহকদের সেবা দেবার জন্য। আর বড় একটি খাত হিসেবে এখন পরিচিত ব্যাংকিং। ব্যাকিংয়ে এখন কল সেন্টার খুব গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এতে করে বাড়ছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার।

বাক্যর সাধারণ সম্পাদক এবং ফিফোটেকের এই প্রধান নির্বাহী জানান, আয়ের হিসাবে যে বাজার আমরা ধরে রেখেছি তার ৭০ শতাংশ কিন্তু অভ্যন্তরীণ। তার মানে একটা বড় সম্ভাবনাময় বাজার রয়েছে দেশেই। অন্যদিকে ৩০ শতাংশ আয় আসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয়ের পরিমাণটা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা চাইলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের আয়ের পরিমাণ আরও বাড়াতে পারি। এজন্য দরকার হবে দক্ষ কর্মী।

ইতোমধ্যে অবশ্য বাক্য, সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বাজার বাড়াতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছে। ফলে আরও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং।

ইএইচ/ফেব্রু২২/২০১৯/১১২১

*

*

আরও পড়ুন