নাসায় যাবেন ওরা চারজন

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের একটি প্রকল্প ‘অলিক’ নাসা আয়োজিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে।

নাসায় এটি বাংলাদেশের প্রথম বড় কোন অর্জন। টিম অলিকের ‘লুনার ভিআর’ প্রকল্প ও তাদের নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন।

লক্ষ্য তাদের মহাকাশ জয়

একটা মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশের তরুণরা। সেই জয়ের স্বপ্ন সত্যি করার পথ শুরু মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আয়োজিত স্পেস অ্যাপস হ্যাকাথনের মাধ্যমে। দেশে চতুর্থবারের মতো নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ নামের ওই হ্যাকাথন আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বা বেসিস।

গত বছরের অক্টোবরে দেশে বসে সেই আসর। সেখানে সারাদেশ থেকে দুই হাজারেরও বেশি প্রকল্প থেকে ৪০টি প্রকল্প জাতীয় পর্যায়ে হ্যাকাথনে অংশ নেয়। সেখান থেকে আটটি দলকে চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয় যারা চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। সেই অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে দেশের একটি প্রকল্প ‘অলিক’ স্থান করে নেয় সেরা ২৫ প্রতিযোগীর মধ্যে। আর চূড়ান্ত ফলাফলে বিশ্বের ১৩৯৫টি প্রকল্পের মধ্যে শীর্ষস্থানে জায়গা পায় এটি।  

যেভাবে অংশগ্রহণ

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যাকাথন হিসেবে পরিচিত। দেশে এবারের আয়োজন ছিল চতুর্থবারের মতো। দেশে হ্যাকাথনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এমন জানার পর থেকেই আমরা সেখানে অংশ নেবার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠি। এখানে বলা দরকার যে, এর অনেক আগে থেকেই আমরা ভিআর নিয়ে কিছু কাজ করছিলাম, বলছিলেন দলটির সদস্য ও দলনেতা আবু সাবিক মাহদী।

তিনি বলেন, এই হ্যাকাথনে সমস্যাগুলো আগে থেকেই উল্লেখ করা থাকে। এমন সময় আমরা জানতে পারি এই প্রতিযোগিতায় ভিআর নিয়েই একটা সমস্যার সমাধান করতে বলেছে। তখন আমরা লুনার ভিআর আইডিয়াটি নিয়ে কাজ করা শুরু করি।

যেভাবে কাজ করে লুনার ভিআর

লুনার ভিআর মূলত একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অ্যাপ। এটি তৈরি করার সময় মাথায় রাখতে হয়েছে নাসার ডেটাগুলো। কারণ, নাসা প্রদত্ত বিভিন্ন ডটা ব্যবহার করেই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপটির মাধ্যমে নাসা আপোলো ১১ মিশনের ল্যান্ডিং এরিয়া ভ্রমণ, চাঁদ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা এবং চাঁদকে একটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ভার্চুয়ালভাবে আবর্তন করার কাজ করা যাবে।

মাহদী টেকশহরডটকমকে বলেন, এটার ব্যবহারকারীকে একটি মোবাইল ভিআর হেড সেটের মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশনটি চালু করতে হয়। এরপর ব্যবহারকারী তিন রকমের স্পেস অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। এটি মুলত একটি শিক্ষামূলক অ্যাপ। চাঁদের অবস্থানের অনুভুতিটা কেমন হতে পারে সেটা অনুধাবন করানো আমাদের মূল লক্ষ্য।

শিক্ষাটাই মূল

এই লুনার ভিআর হেডসেট নিয়ে কাজের আগেও দলটি আরও কাজ করেছে। মূলত শাবিপ্রবিতে ভর্তির পর থেকেই চারজন মিলে থ্রিডি এনিমেশন নিয়ে কাজ শুরু করে। পরে গেইম, ভিজুয়াল ইন্টারঅ্যাক্টিভ এবং শেষে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ে। দুই বছর ধরে গেইম নিয়ে কাজ করেছেন। এবার তারা গত এক বছর থেকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এর কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মাহদী জানান, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভিআর ব্যবহার করে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখা। আমরা চাঁদ নিয়ে অনেকেই আগ্রহী। সেটা সম্পর্কে জানতে চাই। তাদের জন্য আমাদের প্রকল্পটি যুতসই। কারণ এর মাধ্যমে যে কেউ খুবই অল্প খরচে চাঁদে ভ্রমনের একটা অভিজ্ঞতা পাবেন।

ওরা চারজন

লুনার ভিআর প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। তারা হলেন জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের আবু সাবিক মাহদী, কাজী মঈনুল ইসলাম, সাব্বির হাসান এবং পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম রাফি আদনান। তাদের মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী।

পরিকল্পনায় যত কিছু

দলটির সদস্যরা চান তারা ভবিষ্যতে ভিডিও গেইম তৈরি ও উন্নয়ন, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং ভিজুয়াল ইন্টারঅ্যাক্টিভ নিয়ে কাজ করতে। এসব নিয়ে নতুন কিছু করার তাগাদা অনুভব থেকেই কাজ করতে চান বলে জানান তারা। কারণ, বিশ্ববাজারে এসব প্রযুক্তির এখনো অনেক চাহিদা রয়েছে।

প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা

আবু সাবিক মাহদী বলেন, শিক্ষার্থীদের কাজ করার অনেক সুযোগ থাকে। তবে প্রধান সীমাবদ্ধতা থাকে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার। সেটা যদি তারা পায় তাহলে দেশের শিক্ষার্থীরা অনেক নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পারেন। এমনকি তারা নাসাসহ বিশ্বের সব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

দলটিও চায় নাসা থেকে ডাক পেলে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কাজ করতে। কারণ, এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ।

আয়োজকরা যা বলছেন

এখন কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। নাসা সেই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর অলিকের চারজন যাবেন নাসায়। দেখবেন নাসা। দেখা হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও। 

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের দেশের আয়োজক ছিল বেসিস। আয়োজনটির আহবায়ক বেসিস পরিচালক দিদারুল ইসলাম সানি বলেন, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যাকাথন। মানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেশ এখানে অংশ নেয়। সেখানেই বাংলাদেশ একটা ক্যাটাগরিতে সবাইকে পেছনে ফেলেছে। এটা আমাদের কত বড় একটা অর্জন তা না বললেও বোঝা যায়। 

তিনি বলেন, এটা বংলাদেশের জন্যও একটা ব্র্যান্ডিং। টিম অলিক বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছে। আমরা চাই সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগসহ অন্যান্যরা তাদের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা করে আরও উপরে নিয়ে যাবেন। 

বেসিসের এই পরিচালক বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য নাসায় যাবার একটি দুয়ার খুললো। 

আয়োজনের যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল হাসান অপু বলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এর মাধ্যমে আমরা নাসায় বড় একটা জায়গা করে নিতে সক্ষম হলাম। আমাদের ছেলেদের যোগ্যতা আছে তার প্রমাণ আমরা দিলাম। একদিন দেশের তরুণদের দিয়েই মহাকাশে রকেটসহ মহাকাশযান পাঠাতে সক্ষম হবো। 

ইএইচ/ফেব্রু১৭/২০১৯/১৬১০/এজেড/১০৩০

১ টি মতামত

Leave a Reply to বাংলা ডেস্ক Cancel reply

*

*

আরও পড়ুন