দেশি সফটওয়্যারে বিশ্ব মাতাচ্ছে পিএমঅ্যাস্পায়ার

Robi Before feture image

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শুধু একটি সফটওয়্যার দিয়েই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে পিএমঅ্যাস্পায়ার। এ সফটওয়্যার এখন ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ১০০ দেশে।

দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া সেই সফটওয়্যারটি মূলত প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বা প্রকল্প ব্যবস্থাপনার।

মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অনেকটা ‘মহীরূহ’ আকার ধারণ করেছে। দেশের পাশাপাশি এখন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে সিঙ্গাপুর ও কানাডা থেকে।

দেশে অনেকটাই অপরিচিত সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আল মামুন টেকশহরডটকমকে বলেন, ‍’আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্ববাজার। সেটাকে ধরার চেষ্টা করছি। অনেক দেশে বেশি পরিচিতি পেলেও দেশে খুব একটা নামডাক নেই। কারণ, আমরা প্রথম থেকেই বৈশ্বিক হবার চেষ্টা করে চলেছি।’

প্রায় এক যুগের প্রতিষ্ঠিত করপোরেট জীবন ছেড়ে নিজে কিছু করার জন্য সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন আবদুল্লাহ।

‘পিএমঅ্যাস্পায়ার’ নাম দিয়ে গড়ে তোলা সেই প্রতিষ্ঠান থেকে একটি মাত্র পণ্য তৈরি করেন ২০১৪ সালে। দেশে বসেই ছোট পরিসরে এমন কাজ শুরুর কিছুদিন পরই সাড়া পান তিনি।

আবদুল্লাহ বলেন, পিএমঅ্যাস্পায়ার মাত্র একটি প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করে। এর ফলে বড় সুবিধা হলো, এটিকে সবসময় উন্নয়নের কাজ করার সুযোগ থাকে।

বিশ্ব বাজারে তাদের অবস্থান কেমন সেটা আঁচ পাওয়া যায় তার কথায়। আবদুল্লাহ জানান, পিএমঅ্যাস্পায়ার সফটওয়্যারটি এখন শতাধিক দেশে ব্যবহার হচ্ছে। এখন পার্টনার ও ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে মিলে চেষ্টা চলছে একে আরও বেশি দেশে ছড়িয়ে দিতে।

পিএমঅ্যাস্পায়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আল মামুন

বর্তমানে পিএমঅ্যাস্পায়ার তাদের তৈরি পণ্যটি দুটি উপায়ে বাজারজাত করছে। একটি হচ্ছে, সরাসরি পার্টনার হিসেবে বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি রয়েছেন তাদের। আর আরেকটি হচ্ছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি সিস্টেম।

চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অন্তত ৪০০ পার্টনার কাজ করছে বলে জানান স্বল্প সময়ে সফল এ উদ্যোক্তা। এ ছাড়া আগামী ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত ২০০ ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশ্ববাজারে এমন অবস্থান তৈরি করা অবশ্য একদিনে সম্ভব হয়নি। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বলে জানান আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে নিজেদের তুলে ধরতে প্রথম যেটি করেছি, সেটি হলো পণ্যের মান; যাতে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।

তাদের এক্সাম সিমুলেটর অ্যাজ এ সার্ভিস (ই-সাস), ট্রেনিং সিমুলেটর এবং এমপ্লয়ি ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট (ই-টাস) বিশ্বের যেকোন প্রকল্প ব্যবস্থাপনার চেয়ে আলাদা এবং সহজ।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাবার আরও একটি প্রধান কারণ হচ্ছে, অঞ্চল ভেদে এটিকে ইংরেজি ছাড়াও আরও ভাষায় অনুবাদ করে দেওয়া হচ্ছে। মোট সাত ভাষায় এ সফটওয়্যার সরবরাহ করার ফলে এর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ, বলেন আবদুল্লাহ।

দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও এখন সময় এসেছে এন্টারপ্রাইজ এবং একটি নির্দিষ্ট পণ্য নিয়ে কাজ করার। একই সঙ্গে ব্র্যান্ডিংয়ে আরও বেশি নজর দেওয়া দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

শুধু বিশ্ব বাজারে ব্যবসা করা নয়, নিজেদের কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছে পিএমঅ্যাস্পায়ার। সিলিকন রিভিউয়ের জরিপে ২০১৭ সালের এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৩তম স্থান দখল করেছে এটি।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘করপোরেট ভিশন’ প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সিইও হিসেবে আবদুল্লাহর কথা তুলে ধরে। পেয়েছেন বেসিস আইসিটি অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক সম্মাননা ও পুরস্কার।

ইএইচ/আরআর/ফেব্রু. ২৫/২০১৯/১১৫৮

আরো পড়ুন –

দ্য সিলিকন রিভিউয়ের তালিকায় পিএমস্প্যায়ার

*

*

আরও পড়ুন