হ্যান্ডসেট সংযোজনে 'ফাও' সুবিধা নেয়া বন্ধ

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হ্যান্ডসেট সংযোজনে কর ছাড়-প্রণোদনার অপব্যবহারের একটি ‘ফাঁক’ বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি। 

২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকার দেশে হ্যান্ডসেট যন্ত্রাংশ আমদানিতে এবং সংযোজনে ব্যাপক কর ছাড় দেয়। এছাড়া দেশে সংযোজিত হ্যান্ডসেট রপ্তানিতে ১০ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভও দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। 

আর সরকারের এত সুবিধা দেখে চীনের কিছু কোম্পানি স্থানীয় একাধিক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নামে-বেনামে হ্যান্ডসেট সংযোজন করিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন না করেই এই ব্যাপক ট্যাক্স-ইনসেনটিভ সুবিধা নিয়ে হ্যান্ডসেট সংযোজন করে নিয়ে যাওয়া। 

এবার এই ‘ফাও’ সুযোগ বন্ধ করে দিতে দেশে হ্যান্ডসেট সংযোজনের নীতিমালা সংশোধন করা হয়েছে। আগের নীতিমালায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর এভাবে হ্যান্ডসেট সংযোজন করে সরকারের কর ছাড়-প্রণোদনা সুবিধা নিতে কোনো বাধা ছিল না। 

সম্প্রতি বিটিআরসির সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিদেশি মোবাইল কোম্পানিরা নিজেরা কারখানা না করে স্থানীয় অন্য কাউকে দিয়ে হ্যান্ডসেট সংযোজন করেতে পারবে না।

তবে যেসব দেশি হ্যান্ডসেট কোম্পানির নিজস্ব কারখানা নেই তারা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অন্য কারখানা থেকে হ্যান্ডসেট সংযোজন করিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে ।

হ্যান্ডসেট আমদানিতে ট্যাক্স ৩২ শতাংশ হলেও স্থানীয় সংযোজনের ওপর ট্যাক্স আছে ১৮ শতাংশের কাছাকাছি।

বিটিআরসি বলছে, মূলত দেশে এ সংক্রান্ত শিল্প কারখানা স্থাপনকে উৎসাহিত করার জন্যেই সরকার এ সংক্রান্ত নীতিমালা করে ট্যাক্স সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু সেটির অপব্যবহার রোধ করতেই বিটিআরসি বিদেশি কোম্পানির আউটসোসিংয়ের বিষয়টি বন্ধ করে দিল।

এর আগে হ্যান্ডসেটের যন্ত্রাংশ আমদানিতে ২৪ শতাংশ ট্যাক্স থাকলেও ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেটে তা ১ শতাংশ করা হয়।অন্যদিকে সরাসরি হ্যান্ডসেট আমাদনির ওপর কাস্টমস শুল্ক বাড়িয়ে ৩২ শতাংশে নিয়ে যায় সরকার।

সরকারের এমন সুবিধার ফলে দেশে এখন বেশ কয়েকটি হ্যান্ডসেট কারখানা স্থাপিত হয়েছে এবং অন্তত পাঁচটি কারখানায় হ্যান্ডসেট সংযোজিত হচ্ছে ।

জেডআই/এডি/ফেব্রু৩/২০১৯/২০৩০

আরো পড়ুন ঃ- 

এক ফোন কতোদিন ব্যবহার করেন?

ইংরেজি হরফে বাংলা এসএমএস, অপারেটরদের সতর্ক করল বিটিআরসি

মোবাইল ফোন সংযোজনের কর কমল

*

*

আরও পড়ুন