vivo Y16 Project

এলজির বাঁকানো পর্দার ফোনের খুঁটিনাটি

lg g flex_techshohor

টেক শহর ডেস্ক : স্মার্টফোন তৈরিতে নতুন কিছু করার ঝোঁক এখন বাঁকা পর্দার হ্যান্ডসেটকে ঘিরে। এ নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে এ হাওয়ায় পুরোদমে পাল উড়িয়েছে দুই কোরিয়ান স্মার্টফোন নির্মাতা স্যামসাং ও এলজি। মাত্র কয়েকদিন আগেই স্যামসাং বিশ্বের প্রথম বাঁকানো ফোন গ্যালাক্সি রাউন্ড বাজারে এনেছে। এবার সেই তালিকায় যোগ দিচ্ছে এলজিও। ফোনটি বাজারে আসতে আরও সময় লাগলেও ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। 

শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোন নির্মাতা এলজি ৬ ইঞ্চি স্ক্রিনের ফোনটির নাম জি ফ্লেক্স। প্রথমে আগামী বছরের শুরুতে বাজারে আনার ঘোষণা দিলেও প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য আগামী মাসেই তারা বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাণিজ্যিক যাত্রার অংশ হিসাবে ইতোমধ্যে তারা কিছু সেট প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের কাছে সরবরাহ করেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটগুলোতে নতুন প্রযুক্তির এ ফোনের রিভিউ প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। অনেকেই কথা বলেছেন এ নিয়ে। টেক শহর পাঠকদের আগ্রহের কথা বিবেচনায় জি ফ্লেক্সের খুটিনাটি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এ রিভিউতে।

Techshohor Youtube

lg g flex_techshohor

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এলজির বেশিরভাগ ফোনের পর্দা আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে দিয়ে তৈরি হলেও এর পর্দাটি ওএলইডি। কেননা কেবল ওএলইডি-ই বাঁকানো যায়। রেজুল্যুশন ১২৮০*৭২০ পিক্সেল। গেইম খেলা কিংবা ভিডিও দেখা ভিন্ন মাত্রা পাবে বাঁকা পর্দার জন্য।

আকারটা ফ্যাবলেটের মতো হলেও আপাতত জি ফ্লেক্সকে স্মার্টফোন বলা হচ্ছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ঘণ্টার বিশেষ বাঁকানো ব্যাটারি। ফোনের পেছনদিকে ‘সেলফ-হিলিং’ কোটিং, যা স্ক্র্যাচ বা দাগ পড়া থেকে রক্ষা করবে।

ফোনের ভেতরে আছে ২.২৬ গিগাহার্জ কোয়াডকোর স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর, যা এলজি জি টুতেও ব্যবহার করা হয়েছে। টপ লেভেলের গ্রাফিক্স এক্সপেরিয়েন্স পাবেন অ্যাড্রেনো ৩৩০ জিপিইউ থেকে।

ফোনের মূল ক্যামেরাটি ১৩ মেগাপিক্সেল ও সেকেন্ডারি ক্যামেরা ২.১ মেগাপিক্সেল। মাইক্রোইউএসবি ৩.০, ওয়াফাই হটস্পটের পাশাপাশি এতে এলটিই (লংটার্ম ইভোল্যশন) প্রযুক্তিও রয়েছে। ইন্টারনাম মেমোরি ৩২ গিগাবাইট। তবে আলাদা মেমোরি কার্ডের স্লট নেই।

এলজি জি টুতে যেমন মূল কন্ট্রোল বাটনগুলো ফোনের পেছনে ক্যামেরার সাথে ছিল, জি ফ্লেক্সেও একইধারা অনুসরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রচলিত না হলেও বিশ্লেষকরা একে সুবিধাজনক হিসেবে মত দিয়েছেন। এ ছাড়া নক-অন ফিচারও রয়েছে ফোনটিতে, যার ফলে দু’বার পর্দায় টাচ করলেও ফোনটি জেগে উঠবে।

তবে ডিভাইসটি সাধারণ স্মার্টফোনের বদলে গ্যালাক্সি নোট বা সনি এক্সপেরিয়া জেড আল্ট্রার সঙ্গেই বেশি পাল্লা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  এ ক্ষেত্রে যদি নোটকে এগিয়ে রাখা যায় বিশেষ কিছু ফিচারের জন্য, তাহলে জি ফ্লেক্সের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়াচ্ছে এক্সপেরিয়া জেড। হার্ডওয়্যারের দিক দিয়ে সব ডিভাইসগুলোর কনফিগারেশন মোটামুটি একই হলেও ভোক্তারা কোনটিকে বেশি গ্রহণ করেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এক নজরে ভালো

–     বাঁকানো ও উচ্চমানের ডিসপ্লে

–     এলজির নিজস্ব নতুন ফিচার

–     শক্তিশালী ব্যাটারি

এক নজরে খারাপ

–     ডিভাইসের আকার স্বস্তিদায়ক নয়

–     ডিসপ্লেকে আরও সমৃদ্ধ করা যেত

 

– টেকরাডার ও দ্য ভার্জ অবলম্বনে শাহরিয়ার হৃদয় 

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project