জিপির চোখে সম্ভাবনাময় যে ৭ প্রযুক্তি

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: চলতি বছর আলোচিত হবে এমন ৭টি উল্লেখযোগ্য ও সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্রামীণফোন।

মঙ্গলবার রাজধানীর জিপি হাউজে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টেলিনর রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিয়র্ন হ্যানসেন।

টেলিনর গ্রুপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিনর রিসার্চের বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা প্রতিবছর ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ও প্রভাব বিস্তারকারী সাতটি প্রযুক্তি নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকেন। এ বছরের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ডিপফেক, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ফাইভজি’র প্রসার, ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) উত্থান, বাসায় ব্যবহারে ভয়েস অ্যাক্টিভেটেড চ্যাটবটসের ব্যবহার বৃদ্ধি  ও মোবাইলচালিত গ্রীন টেকনোলজি ও স্ক্রিন টাইম  নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা।

টেলিনর রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, অতি উন্নত অ্যালগরিদম সহজেই জাল ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে পারবে। ডিপফেক কন্টেন্টগুলো এতোটাই অত্যাধুনিক হবে যে ডিজিটাল বিশ্বের কোনটা আসল কিংবা কোনটা নকল তা আলাদা করা কঠিন হয়ে যাবে। ২০১৯ সালে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, অপারেটর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ডিপফেক কন্টেন্ট হ্রাসে কাজ করবে।

এ বছরই বাণিজ্যিকভাবে ৫জি প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হবে। ২০১৯ সালে ফাইভজির অবাধ দ্বার উন্মোচিত হবে। ২০২০ সালে বাণিজ্যিকভাবে এ প্রযুক্তির নানা ব্যবহার গ্রাহকের জন্য বাজারে চলে আসবে।

এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে লো-পাওয়ার ওয়াইড-এরিয়া (এলপিডব্লিউএ) ইকোসিস্টেমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটির মাধ্যমে প্রোটোটাইপ থেকে বৃহৎ পর্যায়ে কমার্শিয়াল ডেপ্লয়মেন্ট (বাণিজ্যিক স্থাপনা) ঘটবে। বিশাল পরিসরে আইওটি শিল্প বিশেষ করে স্মার্টসিটি, শিল্প উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প যেমন- শিপিং, ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্ট মনিটরিং ও ফিশারিজ গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে,বাসার প্রতিদিনকার কাজের রুটিনগুলো অত্যন্ত সহজে ভয়েস-অ্যাক্টিভেটেড চ্যাটবটস নির্ভর স্মার্ট ভয়েস-রিকগনিশনের নানা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে করে ফেলা যাবে। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ ঘরের কাজে ব্যবহারের জন্য ভয়েস-অ্যাক্টিভেটেড চ্যাটবটস ব্যাপক পরিসরে বাজারে চলে আসবে।

এ বছর ডিজিটাল স্ক্রিনে টাইম নিয়ে সচেতনতা বাড়বে। এর ফলে স্ক্রিন টাইম ট্র্যাকিং অ্যাপ, ফোনে নাইট টাইম ও ডু নট ডিস্টার্ব মোড ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। কারণ ডেভলপাররা অ্যাপগুলো এমনভাবে তৈরি করছেন যেনো ডিভাইসে আমাদের ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়।

এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্জ্য হ্রাস ও বিশ্বজুড়ে মানুষের জন্য পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলায় বিশ্বাসী ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছে মোবাইলচালিত সবুজ প্রযুক্তি। ২০১৭-১৮ সালে কম খাবার নষ্ট করা, রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, সাইকেল দিয়ে খাবার ডেলিভারি সেবা এবং ইলেক্ট্রিক গাড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি আলোচনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল পি. ফোলি, ডাটাসফট ম্যানুফ্যাসচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান রহমান রতন, পাঠাওয়ের সিইও হােসাইন ইলিয়াস ও গ্রামীণফোনের হেড অব আইসিটি বিজেনেস রেদওয়ান হাসান খান।

প্রতিবেদনটি নিয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল পি. ফোলি বলেন,  নতুন প্রযুক্তি প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশব্যাপী শিল্প, প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপগুলোর কিভাবে প্রস্তুত হওয়া উচিৎ তা স্পষ্টভাবেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজেড/জানু ১৪/২০১৯/১৮

*

*

আরও পড়ুন