এবার গ্রাম হবে শহর

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বই নতুন করে পেয়ে নতুন লক্ষ্যে ছুটতে চান প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এই লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে টেকশহরডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান।

টেকশহর : অভিনন্দন। ৫ বছর ধরে পালন করে আসা একই দায়িত্ব আবার পড়েছে আপনার ওপর। এবার আরও ৫ বছর, নতুন লক্ষ্য?

জুনাইদ আহমেদ পলক : ডিজিটাল বাংলাদেশের চারটি পিলার চিহ্নিত করেছি। মানবসম্পদ উন্নয়ন, ইন্টানেটের সংযোগ দেয়া, ই-গভর্নেন্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পখাত গড়ে তোলা। এই চারটি পিলারে বাংলাদেশে দাঁড় করাতে চেয়েছিলাম। সেখানে গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে সেটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই হবে এবারের লক্ষ্য। যেখানে গ্রাম হবে শহর।

Techshohor Youtube

টেকশহর : কীভাবে বাস্তবায়ন করতে চান এই লক্ষ্য ?

জুনাইদ আহমেদ পলক : প্রতিটি গ্রামে শহরের মতো নাগরিক সেবা দেয়ার পথকে সম্প্রসারিত করা করা হবে। এই পথ সম্প্রসারিত হবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

এখন গ্রামের অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করে ইন্টারনেট পাচ্ছে। ইনফো সরকার-৩ এর মাধ্যমে দেশের ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। দেশের সকল ডিজিটাল সেন্টারে (ইউডিসি) বিপিও সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। ইডিসিতে দুই লাখ ফিক্স ব্রডব্যান্ড সংযোগ বসছে ।

আমরা গ্রামে বিদ্যুৎ ও পাকা রাস্তা দিয়েছি। সেখানে এবার এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত গতির, সুলভ মূল্যে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট দেয়া হবে। আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুরো দুনিয়াই গ্রামের মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসবে । তখন তারা শহরের মতো নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পারবে।

টেকশহর : তথ্যপ্রযুক্তিখাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে কী পরিকল্পনা ?

জুনাইদ আহমেদ পলক : তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে লার্নিং-আর্নিং ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং, সি পাওয়ার এবং শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর সেন্টার বিভাগ হতে জেলা, উপজেলা এবং গ্রাম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। আমরা এখন ৭টি শেখ কামাল আইটি ইউকিউবেটর সেন্টার শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য এটি ৬৪ জেলায় সম্প্রসারিত করা।

২৮টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ পরিকল্পনার মধ্যে ১২টির নির্মাণ কাজ শুরু করতে চাই এবং ৫ বছরের মধ্যে এগুলো শেষ করতে চাই। কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ২০-৩০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে, ট্রেন থামছে সেখানে। যশোরের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের কাজ শেষ। জনতা টাওয়ার আমাদের সাফল্যের গল্প, সেখানে ৭০০-৮০০ ছেলেমেয়ে কাজ করছে। রাজশাহীতে হাইটেক পার্কের একটি ভবন নির্মাণ প্রায় শেষ,আরেকটি নতুন ভবন সিলিকন টাওয়ারের কাজ শুরু হয়েছে।

১২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পেশালাইজড ল্যাব করতে চাই। ভবিষ্যতের ডিজিটাল বিশ্বের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এসব উদ্ভাবনী ল্যাব হবে। এখানে হার্ডওয়ার, সফওয়্যারের নতুন নতুন ইনোভেশন নিয়ে কাজ হবে।

টেকশহর : এই যে এত বিশাল কর্মযজ্ঞ করে চলেছেন এবং করবেন, এখানে দুর্নীতির মোকাবেলা কীভাবে হবে?

জুনাইদ আহমেদ পলক : দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে আমরা সরকারের সব সেবা হতে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে চাই।

আমরা ৩ হাজারের মতো সেবা চিহ্নিত করেছি যেগুলো ডিজিটাইজ হওয়া দরকার। তবে এরমধ্যে ১৫০০-এর মতো সার্ভিস যদি ডিজিটাইজ প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে পারি তাহলে দুর্নীতি প্রায়ই কমিয়ে আনতে পারবো। গত ১০ বছরে দেখেছি ই-জিপি, পোর্টের অটোমেশনের কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয়, টেন্ডারবাজি-অনিয়ম, দুর্নীতি কমেছে। তাই ই-সার্ভিসকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

টেকশহর : এই ব্যাপক সংখ্যক সেবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেয়ার যে পরিকল্পনা তা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে ?

জুনাইদ আহমেদ পলক : প্রতিটি সেবা তিন ধরনের নাগরিকদের জন্য পরিকল্পনা ও করা হয়েছে। একটি ডিজিটাল নেটিভ যারা ব্রন অ্যান্ড ব্রটআপ উইথ ইন্টারনেট। এ ধরনের নাগরিকরা ইন্টারনেটের সঙ্গে অভ্যস্ত, তারা ইন্টারনেট যুগেই জন্মগ্রহণ করেছেন।

দ্বিতীয়ত যারা অ্যাডাপটারস মানে যারা এনালগ ওয়ার্ল্ডের কিন্তু ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

আরেকটি আউটলায়ারস মানে যারা আমাদের দাদা-দাদী, নানা-নানী সময়ের সিনিয়র সিটিজেনরা যাদের অনেকেই ইন্টারনেট বোঝেন না বা বুঝতে চান না।

প্রথম ক্যাটাগরির জন্য আধুনিক কিছু মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ হবে। যেখানে হাতের মুঠোয় সব সেবা থাকবে। সব ধরণের ইউলিটি বিল, হেলথ, পেইমেন্ট, এডুকেশনসহ জীবন-যাপনের সব সেবা তারা সেখান হতে নিতে পারবেন।

দ্বিতীয় ক্যাটাগরির জন্য অ্যাডাপ ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং সেমি অটোমেশন পদ্ধতি রাখা হবে।

আর তৃতীয় ক্যাটাগরির জন্য থাকবে সার্ভিস প্রোভাইডার ও ডিজিটাল সেন্টারগুলো। যেখানে তারা গিয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার ও সাহায্যকারীর মাধ্যমে ডিজিটাল সার্ভিস প্লাটফর্মে সেবাগুলো পাবে।

আরো পড়ুন ঃ-

জাতিসংঘের ই-গভার্নেন্স সূচকে দুই ডিজিটে আসবো : পলক

স্টার্টআপদের ফান্ডিংয়ে পলিসি হচ্ছে : পলক

২ টি মতামত

*

*

আরও পড়ুন