ডিজিটাল প্রচারণায় তরুণ ভোটারদের মন পেয়েছি

Evaly in News page (Banner-2)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিজিটাল মাধ্যমে ভোটারের মন জয় করার মিশনে নেমেছিল আওয়ামী লীগ।

যে মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য, সফলতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্বাচনের আগের রাতে টেকশহরের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান।

নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে শুরু হয় এই মিশন। আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অধীনে গঠন করা হয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি। এই তথ্যপ্রযুক্তি কমিটির আহবায়ক হন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

৪৩ সদস্যের মূল কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিউশনের সভাপতি মো. আবদুস সবুর। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে এই মিশন সংগঠিত করতে ভুমিকা রেখেছেন তিনি।

কমিটিতে আরও রয়েছেন বুয়েটের শিক্ষক ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন, ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরামের সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুফি ফারুক, বেসিসের সাবেক পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ফারুকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী ব্যক্তিত্ব।

টেক শহর : নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের এই ডিজিটাল মিশন আসলে কী ?

মোস্তাফা জব্বার : আমাদের মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক ডিজিটাল জগতের বাসিন্দা। আওয়ামী লীগের নির্বাচন প্রচারণা  কমিটি এজন্য ধন্যবাদ প্রাপ্য যে, তাদের ভাবনায় এটি কাজ করেছে। এটা বড় বিষয় ছিল। দেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এটি অনুভবই করেনি।

জামাতশিবির  অনেক আগে হতে যেটা করেছে সেটা ছিল গুজব রটানোর কাজ। রামুর মতো ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে। জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাস করার জন্য।

আওয়ামী লীগ এই ডিজিটাল মাধ্যমকে সত্যিকারের ডিজিটাল প্লাটফর্ম হিসেবে দাঁড় করানো চেষ্টা করেছে। আমরা এর মাধ্যমে চেয়েছি আমাদের বক্তব্যগুলো নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে। দেশের উন্নয়নগুলো তাদের কাছে সুন্দর ও তথ্যবহুলভাবে উপস্থাপন করতে।

আমাদের ভোটাররা হয়ত এমনিতে অনুভব করেছে আমি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি, মোবাইলে টাকা ট্রান্সফার করতে পারি অথবা ভাতা পাচ্ছি, মোবাইলে অনেক নেয়া যাচ্ছে। কিন্তু সুসংগঠিত উপায়ে তাদের কাছে তুলে ধরার কাজটা, ডিজিটাল মিডিয়ায় সরকারের ইতিবাচক উপস্থাপনের কাজটাই মূল মিশন।

টেক শহর : কীভাবে করা হয়েছে এসব কাজ ?

মোস্তাফা জব্বার :  আমার ৭০ বছরের বয়সে ৩১ বছর আইটিতে কাটিয়েছি, এই সময়ে দেখেছি এবার যে পরিমাণ ডিজিটাল কনটেন্ট আমরা তৈরি করেছি তা কোনো কালেই আমরা তৈরি করতে পারিনি। একটি কেন্দ্র হতে নয়, সংঘবদ্ধভাবে সাত-আটটি কেন্দ্র হতে কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে। এসব কনটেন্ট দিয়ে আমারা ইতিবাচক ইমেজ তৈরির চেষ্টা করেছি।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ-কমিটি (এসটিএসসি) হতে জয় বাংলা অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপ এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকরা নিজেদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান, নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক, সাধারণ এলাকাভিত্তিকসহ পুরো বাংলাদেশে একে অপরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করছেন। এতে একদম তৃণমূল পর্যন্ত কার্যক্রম সক্রিয় হয়েছে। বিশাল কর্মী বাহিনীকে একটি নির্দেশনায় রিয়েল টাইম সক্রিয় রাখা যাচ্ছে। ভোটারদের চাওয়া-পাওয়াগুলো রিয়েল টাইম নির্দেশনা দেয়া যাচ্ছে।

টেক শহর : ভোটারদের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে কীভাবে ?

মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি সারাদেশের ভোটাদের সংযুক্ত করতে ডিজিটাল মাধ্যমের নানা উপায় উদ্ভাবন ও ব্যবহার করেছে। দলীয় কর্মীদের একটি ডিজিটাল প্লাটফর্মে সুসংগঠিত করেছে এবং প্রচারণায় সক্রিয় রেখেছে।

এটি সত্যিই বাংলাদেশ রাজনৈতিক প্রচারণার ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনের প্লাটফর্ম। আসলে কোনো দলই পুরোপুরি জানে না যে, কারা তাদের দল করে। গত তিনটি নির্বাচনের যারা ভোটার তারা ডিজিটাল। তারা ডিজিটাল মাধ্যমে চায়, এতে সহজাত ও স্বচ্ছন্দ্য তারা।

তাই আমরা কারও কাছে এসএমএস, কারও কাছে হোয়াটসঅ্যাপ, কারও কাছে ফেইসবুক ম্যাসেজ, কারও কাছে ফেইসবুকের পেইজের মাধ্যমে গিয়েছি। এভাবে স্বতন্ত্রপর্যায়ে প্রতিটি ভোটারের সঙ্গে সংযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মের এই প্রচার-প্রচারণা একদম ইউনিক।

টেক শহর : কতটুকু সফল হলেন বলে মনে করছেন ?

মোস্তাফা জব্বার : ডিজিটাল মাধ্যমে তিন মাস আগে আমরা কোনঠাসা অবস্থায় ছিলাম। বিশেষত জামাতশিবিরের কাছে, বিএনপির এই মাধ্যমে তেমন কিছুই নেই। জামাতশিবিরের পেইড কতগুলো কার্যক্রম ছিল যার পাল্টা ব্যবস্থাও আমরা তেমনভাবে নিতে পারিনি। এখন আমরা ওয়েল ইক্যুইপড। শুধু পাল্টা ব্যবস্থা নয়, এই ডিজিটাল মাধ্যমে নানাভাবে আমরা সফল জায়গায় এসেছি, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।

আমরা দেখি প্রচার বা অপ্রচারের দুটি প্লাটফর্মকে ব্যবহার করা হয়। একটি ফেইসবুক আরেকটি ইউটিউব। আমরা এখন সেগুলো মনিটরিং, আইডেন্টিফায়িং ও রিপোর্ট করতে পারছি। আমাদের কার্যক্রমের কারণে এমন বেকায়দায় তারা কখনও পড়েনি। আমাদের তরুণরা তাদের ঘাড়ে ধরে নামিয়ে দিয়েছে।

এই ফেইসবুক ও ইউটিউব তো সব কথা শোনে না। যেখানে শোনে না যেখানেও যাতে শোনানো যায় সেখানেও আমাদের তরুণরা দারুণভাবে কাজ করছে। আর এতে আমাদের কোনো কনসালটিং এজেন্সি লাগেনি।

টেক শহর : তাহলে এর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণায় ডিজিটাল মাধ্যমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।  এই প্লাটফর্মে অন্য দলগুলোর কার্যক্রম দেখছেন?

মোস্তাফা জব্বার : বিরোধীরা আমাদের ক্যাম্পেইনের কপি করার চেষ্টা করেছে। অন্য দলগুলোর মাথার মধ্যে যতক্ষণ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কাজ করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত নকল করেও কিছুক্ষণ করতে পারবে না। আমরা বুঝি ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কী, এটা কীভাবে জনগণকে উপকৃত করে। এটা ১০ বছরে ধরে করছে আওয়ামী লীগ।

ফাইভিজি, বিগডেটা, রোবোটিক্স ইত্যাদি  প্রযুক্তির যে গতি এগুলোকে ঠেকানো যাবে না। এগুলোকে নিয়ে বসবাস করতে হবে, এগুলো আয়ত্ত্ব করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশ প্রযুক্তির এই গতির কাছে অসহায়ত্ব দেখিয়েছে কিন্তু আমরা অসহায় না। আমরা এখানে সক্ষম আর এটিই আমাদের এবারের অর্জন।

টেক শহর : নির্বাচনের আগের রাতে বিশেষ কোনো কার্যক্রম ?

মোস্তাফা জব্বার : হ্যা, শেষ সময়ের জন্য পাঁচ সদস্যের ডিজিটাল অ্যাকশন সেল করা হয়েছে। এতে আমার সঙ্গে রয়েছেন মো. আবদুস সবুর, অধ্যাপক ড. মাহফুজুল ইসলাম, সুফি ফারুক ও দেলোয়ার হোসেন ফারুক। এই টিম ভোট শেষ হওয়া ও গণনা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা কাযক্রমে থাকছে।

এই সময়ে কোনো গুজব, মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচার রুখতে সজাগ থাকবে সেলটি।

টেক শহর : এই মিশনের গন্তব্য কি নির্বাচন পর্যন্তই ?

মোস্তাফা জব্বার : না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি প্লাটফর্ম এখন দাঁড় হয়ে গেছে। এই যে কার্যক্রম চালানো হলো এতে যে নাগরিক গোষ্ঠি সংযুক্ত হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যমে নির্ভর করছে তাদের কাজে লাগাবো। ডিজিটাল বাংলাদেশের চলার পথে এই রিসোর্স রাষ্ট্রের কাজে আসবে।

এবার এই উদ্যোগে যে তরুণ প্রজন্ম তৈরি হয়েছে তাতে আমাদের অনেক শক্তি বেড়েছে। এখন ফেইসবুক বা ইউটিউব সহায়তা করলো বা করলো না তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা সক্ষম বিষয়টি সামলাতে। আমাদের তরুণরা এগুলো পারে সেটা এবার প্রমাণ হয়েছে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য এটা জরুরি বিষয়।

২ টি মতামত

  1. Sarwardi Azam said:

    স্যার, তরুণদের অনেকেই ইন্টারনেটে ব্যবসা করে। এতে তাদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বার বার ইন্টারনেট বন্ধ করে তাদের উপরে এক প্রকার অন্যায় করা হচ্ছে।

    • tahmina tania said:

      প্রিয় পাঠক , আপনার মুল্যবান মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ । আজ বিকেল ৬ টা থেকেই মোবাইল নেট চালু হয়েছে । ভালো থাকুন । টেক শহরের সাথেই থাকুন ।

*

*

আরও পড়ুন