বাংলাদেশের মহাকাশ ইতিহাসে ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বছরটির ১২ মে দিবাগত রাত ২ টা ১৪ মিনিট, যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার হতে মহাকাশের পথে উড়ে যায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। যে যাত্রার গন্তব্য মহাকাশে বাংলাদেশের ঠিকানায়।

আর এর মধ্যে দিয়ে পৃথিবীর স্যাটেলাইটের এলিট ক্লাবে ঢুকে যায় বাংলাদেশের নাম। সেই সঙ্গে ২০১৮ সাল জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের মহাকাশ ইতিহাসে।

বিশ্ববিখ্যাত স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলার প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেন মাস্কের মহাকাশ যান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস কর্পের তৈরি রকেট বা স্পেস শাটল কার্গো বে ফ্যালকন-৯ এ চেপে এ যাত্রা করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। আর স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে কোম্পানি ফ্রান্সের থ্যালাস এলেনিয়া স্পেস।

Techshohor Youtube

ওই সময় পুরো বাংলাদেশ তাকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টারে। চোখ একবার কাউন্ট ডাউন বোর্ডে, একবার লঞ্চ প্যাডের রকেটে। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস কাউন্ট ডাউন ০৩, ০২, ০১, ০০ এবং ঐতিহাসিক যাত্রার শুরু।

ইতিহাসের এই সাক্ষী হতে মুখিয়ে ছিলো পুরো বাংলাদেশের মানুষ। ইন্টারনেট মাধ্যমে, টিভিতে যে যেভাবে পেরেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মহাকাশ যাত্রা দেখেছে। দেশের প্রতিটি জেলার বিভিন্ন স্থানে, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে, অনেক পাড়া-মহল্লায় বড় পর্দায় এই উৎক্ষেপণ সরাসরি দেখেছেন নাগরিকরা।

সরাসরি উৎক্ষেপণ দেখতে কেনেডি স্পেস সেন্টারে উপস্থিত বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

উৎক্ষেপণ স্থান থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে যায় এই স্যাটেলাইট। যাত্রার ১০ দিন পরে ২২ মে স্যাটেলাইটটি ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় নিজ কক্ষপথে অবস্থান নেয়। এরপর ইন অরবিট টেস্ট (আইওটি) শেষে কক্ষপথে চূড়ান্তভাবে স্থাপিত হয়ে যায়। এটি কক্ষপথের ১০৪ ডিগ্রী নর্থ ইস্ট দিয়ে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে শুরু করে । এখন ২৪ ঘন্টায় একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে।

কক্ষপথে স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হয় বাংলাদেশের গাজীপুর এবং রাঙ্গমাটির বেতবুনিয়ায় স্থাপিত দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন।

জয়দেবপুরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশনে সিগনাল আদান-প্রদানে ১০ টন ওজনের দুটি অ্যান্টেনা রয়েছে। কক্ষপথে স্যাটেলাইটটির ফুয়েল লাইফ ১৫ দশমিক ৬ বছর। আর ডিজাইন লাইফ ১৮ বছরের মতো।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সফল সম্প্রচারের মাধ্যমে সেবা সক্ষমতার প্রমাণ দেয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। বিটিভি ও চানেল নাইন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এই সাফ ফুটবলের সরাসরি সম্প্রচার করে। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অন্তত ২০টি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন পরীক্ষামূলক সম্প্রচার করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের তিনটি চ্যানেলসহ আরও বেসরকারি সাতটি চ্যানেল বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তাদের ট্রান্সমিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এরমধ্যে বিটিভির তিন চ্যানেল হলো বিটিভি ওয়ার্ল্ড, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশিন এবং বিটিভি চট্টগ্রাম। আর সাত বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল–সময় টিভি, ডিবিসি নিউজ, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি, এনটিভি, একাত্তর টিভি, বিজয় বাংলা এবং বৈশাখী টিভি।

স্যাটেলাইটটিকে ব্যবসায়িকভাবে সফল করতে ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের কোম্পানি থাইকমের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিসিএসসিএল। সব মিলে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করতে সরকারের খরচ হয়েছে দুই হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। আগামী সাত বছরের মধ্যে এ খরচ উঠবে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে নিরবিচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এ ছাড়া টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্সিংয়সহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এটি।

স্যাটেলাইটটিতে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটির মধ্যে ২০টি বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমানে দেশে টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবা দাতা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কাজে বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করায় বছরে এক কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে এই অর্থও সাশ্রয় হবে।

নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বুঝে নেয় বাংলাদেশ কমিউনেকশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটিড (বিসিএসসিএল)।

এডি/ডিসে২৬/২০১৮/১৯১৭

আরো পড়ুন ঃ-

বন্ধ হলো যেসব প্রযুক্তি সেবা

দশ টিভি চ্যানেল ব্যবহার করছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

*

*

আরও পড়ুন