বেসিসের সদস্যপদ চায় উবার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশে ‘অবৈধভাবে’ চলা উবার বেসিসের সদস্যপদ চাইছে।

কিছুদিন আগে বেসিসের সদস্যপদের জন্য উবার কর্তৃপক্ষ আবেদন নিয়ে গেলে তা গ্রহণ করেনি বেসিস।

ডিসেম্বরের ৭ তারিখ কলকাতায় ১৭তম ইনফোকম সম্মেলনে কিছুদিন আগে সাবেক হওয়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে বৈঠকে সদস্যপদের আবেদন গ্রহণ না করার বিষয়টি তোলে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিটি।

বৈঠকে উবারের ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক পলিসি কর্মকর্তা ঋধি দারোলিয়া বলেছেন, বাংলাদেশে আমরা নিবন্ধিত। বেসিসের সদস্য হওয়ার আবেদন নিয়ে গেলে তা গ্রহণ করেনি সংগঠনটি।

এদিকে বেসিস কর্তৃপক্ষ বলছে, সেই সময় সংগঠনের সদস্য প্রদান বিষয়ক নীতিমালার মধ্যে উবার পড়ে না বলেই তাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।

সংগঠনটির পরিচালক দিদারুল আলম সানি টেকশহরডটকমকে বলেছেন, ১৯ ডিসেম্বর এক অতিরিক্ত সাধারণ সভায় বেসিস সদস্যপদ প্রাপ্তি, প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, শর্তাবলী ও যথাযথ প্রতিষ্ঠানকে সদস্যপদ প্রদানে সংশোধিত নীতিমালা পাস হয়েছে। নতুন দুটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। এর কোনো একটিতে উবারসহ এমন কোম্পানির সদস্য হওয়ার সুযোগ আছে।

নীতিমালা সংশোধনের পর বেসিস কর্তৃপক্ষ বলছে, বাংলাদেশে ব্যবসার অনুমোদন বা নিবন্ধন থাকলে উবার এখন সদস্য পদের জন্য আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে জয়েন্ট স্টক নিবন্ধনের কোম্পানি মেমোরেন্ডাম ও ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।

‘বিদেশী কোম্পানির দেশীয় অংশীদার যদি ৫০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে ওই কোম্পানি ‘অ্যাফিলিয়েট’ ক্যাটাগরিতে সদস্য হবেন এবং ভোটাধিকারও পাবেন। কিন্তু যদি দেশীয় অংশীদার না থাকে তাহলে বা অংশীদারের শেয়ার ৫০ শতাংশের কম হয় তাহলে ‘ইন্টারন্যাশনাল’ ক্যাটাগরিতে সদস্য হওয়া যাবে’ জানিয়েছেন সংগঠনটির এক পরিচালক।

তবে দেশে উবারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।

কোম্পানিটির কর্মকর্তাদের দাবি তারা নিবন্ধিত। দেশে উবারের ২ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে কোম্পানিটির ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার হেড অব সেন্ট্রাল অপারেশন প্রদীপ পরমেশ্বরন গণমাধ্যমকে বলে গেছেন তারা বৈধ। কলকাতায় মন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকেও উবারের ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক পলিসি কর্মকর্তা ঋধি দারোলিয়া বলেছেন তারা বাংলাদেশে নিবন্ধিত।

কিন্তু কোন ধরণের নিবন্ধন তাদের রয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

বাংলাদেশে উবার কোথায় কীভাবে নিবন্ধিত এবং সেবা বৈধ কিনা তা জানতে চাওয়া হয়েছিল দেশে তাদের জনসংযোগ সহযোগী বেঞ্চমার্ক পিআর নামে একটি কোম্পানির কাছে।

কোম্পানিটি এ সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর জানাতে পারেনি।

দেশে কার্যক্রম চালু করেই আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোয় অবস্থিত নিজেদের মূল কোম্পানিতে বাংলাদেশে আয়ের অর্থ (মোট আয়ের ২০ শতাংশ) নিতে ২০১৬ সালে সিটি ব্যাংক এনএর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছিল উবার। তখন টাকা বিদেশে নেয়ার অনুমতির জন্য কাগজে-কলমে সরকারি অনুমোদন এবং দেশে এই সেবার বৈধ নিবন্ধনের শর্ত ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

যদিও রাইড শেয়ারিং নীতিমালা হওয়ার পরও দীর্ঘ সময়ে নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করতে পারেনি উবার। ফলে বিআরটিএর নিবন্ধন পায়নি উবার। সে হিসেবে কোম্পানিটি তার সেবাই চালাচ্ছে ‌’অবৈধ’ হিসেবে।

বিআরটিএ এর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. নূরুল ইসলাম টেকশহরডটকমকে জানিয়েছেন, রাইড শেয়ারিং নীতিমালার অনেক শর্তই এখন পর্যন্ত তারা পূরণ করতে পারেনি।

‘নীতিমালা অনুযায়ী ডেটা সার্ভার বাংলাদেশে থাকতে হবে,  সেবার কোনো তথ্য দেশের বাইরে কোনোভাবেই পাঠানো যাবে না এবং সব তথ্য দেশে সংরক্ষণ করতে হবে। এগুলোর কোনটিই করতে পারেনি তারা।’

তিনি জানান, নীতিমালা অনুযায়ী তাদের অ্যাপে এসওএস অপশন থাকতে হবে।  যা দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে সেবা গ্রহণকারী সরাসরি ৯৯৯ এ সংযোগ পেতে পারে। পুলিশ যেন ট্রিপ মনিটরিং করতে পারে তার ব্যবস্থা , ২৪ ঘন্টা কল সেন্টার সেবার মতো বিষয়সহ কিছু বিষয় এখনও হয়নি।

আর এসব কারণেই উবার এই সেবা চালুর অনুমোদন পায়নি বলছিলেন বিআরটিএর এই কর্মকর্তা।

বিশ্বের উবার মটোর সবচেয়ে বড় মার্কেট এখন বাংলাদেশ।

দেশে এখন উবার এক্স, মটো, প্রিমিয়ার এবং হায়ার নামে চার ধরনের সেবা চালু রয়েছে। এখন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে এগুলো চালু রয়েছে। এছাড়া সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ গন্তব্যের জন্য ব্যবহার করা যায় উবার।

অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাক্সি সেবা নিয়ে কোম্পানিটি দেশে যাত্রা শুরু করে ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর। দেশে উবার চালুর দুই বছরে এর চালক সংখ্যা এক লাখের বেশি। ঢাকার ২২ শতাংশ মানুষ একবার হলেও উবার ব্যবহার করেছেন। দুই বছরে ১৬ কোটি কিলোমিটার পথে ঘুরেছে উবারের চাকা।

এডি/ডিসে২৭/২০১৮/২০২৯

*

*

আরও পড়ুন