রাইড শেয়ারিংয়ের ফুলেফেঁপে ওঠার বছর

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ২০১৬ সালে দেশে উবার আসার আগে থেকে অন্তত দুটি প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারিং সেবা শুরু করে।

পরের বছর ছিল পথ খুঁজে নেওয়ার। আর চলতি বছর রাজপথ পেরিয়ে অলিতে গলিতে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন এ সেবা। চলতি বছরে এ সেবা দিতে আরও কিছু দেশীয় উদ্যোগ নাম লেখায়। বাসা থেকে রাস্তায় নামলেই মোটরসাইকেল এসে দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রী নেবার জন্য।

উবার বা পাঠাওয়ের প্রাইভেট গাড়িও পাওয়া যায় চাহিদা অনুযায়ী। মিলছে সিএনজি সেবাও। এক বছরেই যেন ফুলেফেঁপে উঠেছে অ্যাপভিত্তিক সেবাটি।

স্যাম (শেয়ার এ মোটরসাইকেল) ও পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল দিয়ে দেশে এ সেবার যাত্রা শুরু ২০১৬ সালে। উবার অনেক দেশে জনপ্রিয় হওয়ার পরই অবশ্য এ আইডিয়া নিয়ে দেশে নামেন তারা। একই বছর ২২ নভেম্বর উবারও দেশে গাড়ির মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং শুরু করে।

পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে দেশীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দেয় তারা রাইড শেয়ারিং নিয়ে কাজ করছে। তবে উবার আসার পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ নীতিমালা না থাকায় এমন সেবা নিষিদ্ধ করলে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে এই ট্রেন্ড। কিন্তু চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নীতিমালা প্রণয়ন কাজ হলে অনেক প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারিংয়ের জন্য আবেদন করে। তখন থেকেই শুরু হয় দেশে রাইড শেয়ারিং বিস্ফোরণ।

বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, দেশে এখন রাইড শেয়ারিংয়ে কয়েক লাখ মোটরসাইকেল নিবন্ধন করা হয়েছে। যদিও তাদের কার প্রতিষ্ঠানে কত নিবন্ধন করা আছে এমন হিসাব জানাতে চাননি।

নারীদের জন্যও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে নারী রাইডার। ছবি : সংগৃহীত

দেশের সবচেয়ে বড় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাও’য়ের মার্কেটিং লিড সৈয়দা নাবিলা মাহবুব টেকশহরডটকমকে জানান, তাদের প্লাটফর্মে মোরটসাইকেল এবং গাড়িসহ দেড় লাখের বেশি নিবন্ধিত চালক রয়েছেন। এছাড়াও প্রতি দিনই নতুন চালক নিবন্ধন করছেন।

আমিনুল ইসলাম নামের এক রাইডার টেকশহরডটকমকে জানান, পাঁচ মাস আগে ঢাকায় এসে তিনি রাইড শেয়ারিংয়ে নিবন্ধন করেন। তারপর থেকে এ সেবা দিতেই কাজ করছেন। যাত্রীদের সাড়া মিলছে বলে আয়ও বেশ।

আমিনুল ইসলাম একই সঙ্গে তিনটি প্লাটফর্মে নিবন্ধন করেছেন বলে জানান। যখন যেটাতে চাহিদা থাকে তখন সেটাতেই যান তিনি।

রাইড শেয়ারিংয়ে যত প্লাটফর্ম

দেশে এখন রাইড শেয়ারিং সেবার নাম করলেই সবার আগে আসে পাঠাও। পাঠাও, উবার ছাড়াও সেবাটি বর্তমানে দিচ্ছে স্যাম, সহজডটকমের সহজ রাইড, ইজিয়ার টেকনোলজিসের ইজিয়ার রাইড, বাহন, ওভাই, আমার রাইড, মুভ, চলো অ্যাপে, ট্যাক্সিওয়ালা, চালাও, ওই খালি, পিকমি, লেটস গোসহ আরও কিছু কোম্পানি। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার নারীদের জন্য আলাদা অ্যাপ চালু করেও সেবাটি দিচ্ছে।

সিএনজিও রাইড শেয়ারিংয়ে

গাড়ি, বাইকের পাশাপাশি রাইড শেয়ারিংয়ে বিদায়ী বছরে যুক্ত হয়েছে আরেকটি মাধ্যম, সিএনজি অটোরিক্সা। বছরের শুরুতেই সেবাটি দেবার জন্য টপ আইডিয়া ইমপ্লিমেন্টেশন বা টপ আই আই নামের প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। তারা সেবাটি পরের মাস থেকেই শুরু করে। তাদের সিএনজি অটোরিক্সা রাইড শেয়ারিং এর নাম দেয় ‘হ্যালো’।

এরপর বছরের মে মাস নাগাদ ঢাকায় সিএনজি অটোরিক্সাকে রাইড শেয়ারিংয়ের নাম লেখায় দেশীয় ব্যবসায়িক গ্রুপ এমজিএইচ এর রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘ও ভাই সল্যুশন লিমিটেড’। পরে ‘ও ভাই’ তাদের সেবাটি চট্টগ্রামেও বিস্তৃত করেছে। এখন প্লাটফর্মটিতে হাজারের বেশি সিএনজি অটোরিক্সা যুক্ত রয়েছে।

বাইসাইকেলের জন্য জোবাইক

চলতি বছরের জুনে দেশে পরীক্ষামূলক শুরু হয় বাইসাইকেল রাইড শেয়ারিং জোবাইক। পরের মাসে অর্থাৎ জুলাইয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং কক্সবাজারে চালুর মাধ্যমে দেশে সেবাটি শুরু করে জোবাইক। এরপর ধীরে ধীরে সেবার পরিধি বেড়েছে। ডিসেম্বরে ওই দুটি ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জোবাইকের বাইসাইকেল রাইড শেয়ারিং সেবার বিস্তৃতি ঘটেছে। এরপর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই রাইড শেয়ারিং শুরু হবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মেহেদী রেজা।

তৈরি হয়েছে নীতিমালা, পেয়েছে বৈধতা

দেশে রাইড শেয়ারিং নীতিমালা না থাকায় প্রথম দিকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার এই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত তা প্রণয়ন করে কার্যকরও করে।

চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রীসভায় অনুমোদন করা হয় ‘রাইড শেয়ারিং নীতিমালা-২০১৭’। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালার গেজেট জারি করা হয়। নীতিমালায় আটটি অনুচ্ছেদ এবং ১১টি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালের জুনে এ নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই বছর অক্টোবরে হয় প্রথম খসড়া। এতে সরকারের ১৭টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত নেয়া হয়। ডিসেম্বরের ১৪ তারিখে খসড়াটি যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে।

এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাইড শেয়ারিংয়ে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নিতে বলে বিআরটিএ। আর এর মধ্য দিয়ে সেবাটির বৈধতাও পায়।

ইএইচ/ডিসে২৩/২০১৮/১৫২০

*

*

আরও পড়ুন