Samsung IM Campaign_Oct’20

পৃথিবীতে ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ আসবে ছোট 'সূর্য' থেকে

Evaly in News page (Banner-2)

মিজানুর রহমান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এলোন মাস্ক যেমন নিজের আগ্রহে স্পেস এক্স গঠন করে মহাকাশ গবেষণায় গতি এনেছেন, অ্যামাজনের জেফ বেজোসও নামছেন নতুন উদ্যোগ নিয়ে, তেমনি নতুন কেউ ফিউশন গবেষণায় গতি আনবেন।

পৃথিবীতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে নতুন শক্তির উৎসের গবেষণায় বেসরকারি খাতেও নতুন উদ্যোগ আসবে বলে এমন ধারনা অনেকের। বিদ্যুতের অসীম উৎস ফিউশন নিয়ে এমন গবেষণার আশা করছেন তারা।

ফিউশন পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি আহরণের ধারনা অনেক পুরোনো। তেল অর্থনীতি এই উদ্যোগে ঢিলেমি আনলেও গত কয়েক বছরে বেসরকারি খাতে অনেকে চেষ্টা করছেন অসীম শক্তির এ উৎসের জটিলতা কাটিয়ে উঠতে।

জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যহারের নেশা পুরো মানবসভ্যতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। এটিও সত্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর শক্তির এ নোংরা উৎসকে পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়ার মতো উপায় ও ইচ্ছার কোনওটিই মানুষের নেই।

সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুকল থেকে শুরু করে বিদ্যুতের নানান সবুজ উৎস হাতে থাকলেও গ্রাহক পর্যায়ে অভ্যস্ততা পৌঁছাতে এখনও অনেক সময় লাগছে। এর মধ্যে অনেক বিজ্ঞানী প্রস্তাব দিয়েছেন সূর্যের ফিউশন প্রক্রিয়া নকল করলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

ছবি : বিবিসি

তাদের যুক্তি একবার নিউক্লিয়ার ফিউশন থেকে শক্তি উৎপাদন শুরু হলে আর চিন্তা নেই। হাইড্রোজেনের তো আর ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। আর ফিউশনে কোনও প্রকার কার্বন নির্গমনের সমস্যা নেই। পুরোটাই পরিবেশবান্ধব যাকে ক্লিনা বা পরিচ্ছন্ন শক্তি বলা চলে।

সম্ভাবনা অনেক হলেও নিউক্লিয়ার ফিউশন শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি সবসময়েই ৩০ বছর পিছিয়ে ছিল। এর প্রধান কারণ উন্নত দেশগুলোর অনিচ্ছা ও প্রযুক্তির অভাব।

যে প্রক্রিয়ায় ফিউশন বিক্রিয়া ঘটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে কাগজে কলমে এমন পদ্ধতিতে ‘আয় থেকে ব্যয় বেশি’। অর্থাৎ যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যাবে তা ব্যয় করা শক্তির চেয়ে কম।

তবে আশার বিষয় হচ্ছে বেসরকারি খাতে নতুন কয়েকটি পদ্ধতি সম্ভাবনা দেখিয়েছে। অনেকেই আশাবাদী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটানো সম্ভব হবে।

সূত্র : বিবিসি

নিউক্লিয়ার ফিউশন কী?
নিউক্লিয়ার ফিউশন হচ্ছে দুটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসকে এক করে দেওয়ার প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতিতে জ্বালানি হিসেবে সাধারণত হাইড্রোজেনের দুটি আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম।

ডিউটেরিয়ামে একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন থাকে, ট্রিটিয়ামে একটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন থাকে। এ দুই আইসোটোপকে প্রবল চাপে একীভূত করা হলে হিলিয়াম তৈরি হয় এবং প্রচুর শক্তি নির্গত হয়।

এ পদ্ধতিকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। এই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য হিসেবে নিউট্রন তৈরি হয় যা পরে ট্রিটিয়াম গঠনে সহায়তা করে। এ প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিরাপদ।

বাধা কোথায়
বাধাটা হচ্ছে এই প্রক্রিয়ায় সূর্যের মতো অতি উচ্চ তাপমাত্রার প্লাজমা উচ্চ চাপে ধরে রাখতে হয়। তাপমাত্রাটা কত জানেন?

একটি উদাহরণ শুনলেই আপনার চোখ কপালে উঠবে। গত জুনে প্লাজমার তাপমাত্রা অর্জন করা গেছে দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস, নিকট ভবিষ্যতে প্লাজমার তাপমাত্রা ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী বৈজ্ঞানিকরা। সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা থেকেও ঢের বেশি!

চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে এ জন্য এমন একটি অবকাঠামো তৈরি করা, যেটি এতো উচ্চ তাপমাত্রার প্লাজমাকে উচ্চ চাপে ধরে রাখতে পারবে। প্লাজমাকে ধরে রাখার জন্য যে চৌম্বক অবকাঠামোটি নির্মাণ করা হয় সেটিকে তুকামাক রিঅ্যাক্টর বলা হয়।

আশাবাদী হওয়ার কারণ
নিউক্লিয়ার ফিউশন নিয়ে ভবিষ্যতে আলো দেখার কারণ হচ্ছে বেসরকারি খাতে অনেকেই এ খাতে বিনিয়োগ করছে। এ তালিকায় আছেন বিল গেটস, জেফ বেজোসের নামও।

একটি অতি সম্ভাবনাময় প্রকল্পের কাজ করছে অক্সফোর্ডশয়ারভিত্তিক ‘তুকামাক এনার্জি’ নামে একটি কোম্পানি। কোম্পানিটি উচ্চ তাপমাত্রার সুপারকনডাকটর বা এইচটিএস প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করেছে, যা অতি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চৌম্বকশক্তিতে প্লাজমাকে উচ্চ চাপে আটকে রাখতে সক্ষম।

এ ধরনের রিঅ্যাক্টর আকারে ছোট হয়, তাই নির্মাণ খরচ কম। ইতিমধ্যে এমন তিনটি রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করা হয়েছে। যেগুলো একেকটি ছোট ছোট সূর্যের মতো কাজ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রে এমআইটি কাজ করছে ডোনাট আকৃতির একটি তুকামাক নির্মাণের লক্ষ্যে। তাদের সঙ্গে রয়েছে কমনওয়েলথ ফিউশন সিস্টেম। অর্থায়ন করছে বিল গেটস, জেফ বেজোস, মাইকেল ব্লুমবার্গসহ অন্যান্য বিলিয়নিয়াররা।

বেসরকারি এসব উদ্যোগ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ফল আসবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিডে ফিউশন শক্তি যুক্ত করার কথাও বলছেন তারা। অনেকেই বলছেন এটি নিউক্লিয়ার ফিউশনের ‘স্পেস এক্স’ মুহূর্ত।

ছবি : বিবিসি

অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
ফিউশন শক্তি অর্জনে ২০০৭ সালে ৩৫ দেশ মিলে ইন্টারন্যাশনাল থার্মোনিউক্লিয়ার এক্সপেরিম্যান্টাল রিঅ্যাক্টর (আইটিইআর) গঠন করে। যার লক্ষ্য ছিলো শক্তির এ অসীম উৎকে ধরার জন্য কাজ করা। সংস্থাটি সবচেয়ে বড় রিঅ্যাক্টর নির্মানে কাজ করে যাচ্ছে।

যদিও ২০২৫ সালের আগে তাদের সাফল্যের কোনও সম্ভাবনা নেই। একজন মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এর কারণ হচ্ছে সদস্য দেশগুলোর একেকটির তাগিদ একেক রকম হওয়া। কোনটি ২০৫০ সালের মধ্যে নিউক্লিয়ার ফিউশন শক্তি চায়। কোনটি আবার এর পরে হলেও সমস্যা নেই। এই কারণেই কাজে কিছুটা ধীরগতি আছে।

এ ঢিলেমির কারণ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানীর অর্থনীতি- এটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে ফিউশনের ‘এলোন মাস্ক’রা কী নিজেদের কথা রাখতে পারেন কী না।

বিবিসি অবলম্বনে এমআর/আরআর/০১ ডিসে/১১.৩৭

*

*

আরও পড়ুন