অবৈধ মোবাইলের দখলে ৪ হাজার কোটি টাকার বাজার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অবৈধ নকল এবং রিকন্ডিশনের দাপটে বৈধ ও আসল মোবাইল ফোনের বাজারে ধস নামতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দেশের মোবাইল ফোনের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমপিআইএ এর সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, আগে শুধু কয়েকটি বিভাগীয় শহরে অবৈধ, চোরাই ও নকল মোবাইল কেনাবেচা হতো। এখন গ্রামেগঞ্জে সারাদেশে ব্যাপকভাগে ছড়িয়ে গেছে তা।

‘মূলত স্মার্টফোনই অবৈধ পথে আমদানি হচ্ছে। এ বছর নয় মাসে এভাবে আসা স্মার্টফোনের সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি, যার বাজার মূল্য ৩ হাজার কোটি টাকা। সরকার এতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে’,বলছিলেন বিএমপিআইএ সভাপতি।

দেশে স্যামসাংয়ের কারখানা স্থাপনের দেশীয় অংশীদার ফেয়ার গ্রুপের এই চেয়ারম্যান জানান, স্যামসাংয়ের ৩৫ শতাংশ স্মার্টফোন অবৈধ উপায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বন্দর দিয়ে দেশে আসছে।

সংগঠনটির  যুগ্ম সম্পাদক  মেজবাহ উদ্দিন জানান, দেশে এখন মোবাইল ফোনের বাজার ১০ হাজার কোটি টাকার। এবারে বাজারের এই নিম্নমুখিতা পর্যবেক্ষণে বলা যায় ৪ হাজার কোটি টাকার বাজারই অবৈধ ও নকল ফোনের দখলে।

সংবাদ সম্মেলনে টেকনো ও আইটেলের কারখানা স্থাপনকারী ট্র্যানশান বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও রেজওয়ানুল হক বলেন, এই অবৈধ ও নকলের আধিপত্যের কারণে প্রথমবারের মতো মোবাইল ফোনের বাজারে ধস দেখলেন তারা।

আইফোন ও নোকিয়া হ্যান্ডসেট আমদানিকারক ইউনিয়ন গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টও রকিবুল কবির জানান, দেশে ৯০ শতাংশ আইফোনই অবৈধ পথে আসা, ক্লোন বা নকল। তারা মোট বাজারের মাত্র ১০ শতাংশ আমদানি করতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শাওমির সিংহভাগই ফোনই দেশে অবৈধ পথে আসা।

২০১৭ সালে দেশে ফোন আমদানি হয়েছিল ৩ কোটি ৫০ লাখ সেখানে ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্মার্টফোন আমদানি হয়েছিল ৬০ লাখ। সেখানে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ এর পরিমাণ ৫০ লাখ।

চলতি বছর (২০১৮) গত বছরের (২০১৭) এই সময়ের তুলনায় এই কারণে সামগ্রিক মোবাইল ফোনের বাজার নেমে গেছে ১৭ শতাংশ। এটি হার মোবাইল ফোনের সংখ্যায়। আর বাজার মূল্যে তা কমেছে ১১ শতাংশ।

যেখানে ফিচার ফোনের সংখ্যা হিসেবে এই হার ১৬ শতাংশ, বাজার মূল্যে এটি ২০ শতাংশ। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে তা ১৮ ও ৭ শতাংশ।

আমদানিকারক  ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, রাইফেল স্কয়ার, ইস্টার্ন প্লাজা ও মোতালেব প্লাজাসহ বিভিন্ন অভিজাত শপিং মলে অসংখ্য দোকান রয়েছে শুধু এই অবৈধ ও নকল ফোনের যোগানের উপর ভিত্তি করে।

এছাড়া ফেইসবুকে পেইজ খুলে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ব্যাপকহারে এসব ফোন বিক্রি হচ্ছে।

কয়েকভাবে এই অবৈধ ও নকল বাজার চলছে।

থার্ড পার্টি রপ্তানিকারক ও  আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউরদের মাধ্যমে নির্ধারিত দামের কম মূল্য দেখিয়ে দেশে পণ্য আনা। দামি হ্যান্ডসেটগুলো কয়েকটি অংশে খুলে ব্যাপক পরিমাণে যংন্ত্রাংশ হিসেবে এনে এখানে লাগিয়ে বাজারে দেয়া। একইভাবে বিদেশে কয়েকমাস ব্যবহার করা হ্যান্ডসেট এনে এখানে একদম নতুনের মতো করে বিক্রি করা।

এছাড়া কেজি হিসেবে যন্ত্রাংশ এনে এখানে ক্লোন ও নকল ফোন তৈরি করে বাজারে ছড়িয়ে দেয়া।

এডি/নভে২৭/২০১৮/১৯০০

*

*

আরও পড়ুন