আগামীর বিদ্যুতের চমক

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অফিসের জানালাগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং তা জমা থাকবে দেওয়ালে। ফুটপাতে হাঁটার সময়ও তৈরি অল্প পরিমাণের বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে।

সোলার প্যানেলযুক্ত চালকবিহীন গাড়িগুলো সারাদিনের বিদ্যুৎ খরচের পর বাকিটুকু ফেরত দেবে রাষ্ট্রকে। শহরেও রাস্তার পাশের ছোট ছোট বায়ুকল দিনরাত নিরলস বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

ভাবনাগুলো অবাক করা হলেও এমন সব প্রযুক্তি নিয়েই কাজ চলছে। সামনের দিনগুলোতের দেখা যেতে এমন অনেক উদ্ভাবন।

ধারনা করা হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ শহরে বাস করবে। এত মানুষের জন্য শক্তির যোগান দেওয়াই হবে সবচেয়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীরা তাই বর্তমান অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে শক্তির নতুন উৎস আবিষ্কারে নিরলস কাজ করছেন।

সিমেন্টে আটকে থাকবে বিদ্যুৎ!
বিজ্ঞানীরা এক বিশেষ ধরনের সিমেন্ট আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন, যা দালানগুলোকে ব্যাটারিতে পরিণত করতে সক্ষম।

পটাসিয়াম জিওপলিমেট্রিক (কেজিপি) নামের একটি উপাদান বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য থেকে তৈরি করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিকরা মনে করেন উপাদানটি খুবই প্রতিশ্রুতিশীল। এটি দিয়ে তৈরি করা হয় বিশেষ এ সিমেন্ট।

কেজিপি দ্বারা নির্মিত একটি ছয় মিটারের ল্যাম্পপোস্টে একটি সোলার প্যানেল যুক্ত করা হলে সেটি সারাদিনে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ জমা করতে সক্ষম তা দিয়ে সারারাত আলো দিতে পারবে।

‘সেলফ সাস্টেইনিং’ ল্যাম্পপোস্ট বললেও ভুল বলা হবে না একে। ল্যাংক্যাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোহাম্মাদ সাফি এ গবেষণা পরিচালনা করছেন। তিনি মনে করেন, কোনও বিপদজনক রাসায়নিক ছাড়াই কেজিপি সিমেন্ট থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।

কেজিপি ব্যবহার করে যদি বড় স্থাপনা তৈরি করা যায়, তাহলে সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত শক্তি মজুদ করে প্রয়োজনের সময় যোগান দেওয়া যাবে। যার ফলে নগরের সবুজ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও টেকসই হবে।

হাঁটলেই তৈরি হবে বিদ্যুৎ!
হাঁটা শরীরের জন্য ভালো এটাতো সবাই জানে। তবে আগামী দিনে হাঁটাচলা করা পরিবেশ, এমনকি রাষ্ট্রের জন্যও লাভজনক হবে। কারণ যুক্তরাজ্যের পেভজেন নামে একটি প্রযুক্তি কোম্পানি এমন এক ধরনের ফুটপাত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা পায়ের চাপ থেকেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে।

প্রতি পদে পদে আপনি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাবেন। প্রতি পদে তিন জুল করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।

এ ধরনের ফুটপাত প্রতি বর্গমিটার নির্মাণের জন্য ব্যয় হবে ২৩৫০ ব্রিটিশ পাউন্ড। ইতিমধ্যে বিশ্বের ২০০ স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এটি স্থাপন করা হয়েছে। মার্কেটের ফ্লোরেও এ ধরনের প্রযুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

জালানায়ও ধরা পড়বে বিদ্যুৎ
সৌরবিদ্যুতের বিভিন্ন দিক নিয়ে জোরেশোরে গবেষণা চলছে। পেরভসকাইট নামে একটি উপাদান থেকে নির্মিত সোলার প্যানেলগুলো অনেক সরু হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিতিন পাটুর এ গবেষণা পরিচালনা করছেন।

এ ধরনের সোলার প্যানেল খানিকটা স্বচ্ছ। তাই সহজেই এগুলোকে জানালা হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। সমস্যা হচ্ছে এ উপাদানে বিষাক্ত লেড রয়েছে। অধ্যাপক পাটুর আশাবাদী তিনি এই উপাদানের লেডকে টাইটেনিয়ামের দ্বারা প্রতিস্থাপিত করতে পারবেন।

এদিকে সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয় হচ্ছে। সৌরশক্তির দামও কমে আসছে। ১০ বছর আগে যেখানে এক ওয়াট সৌরশক্তি উৎপাদনে গড়ে খরচ হতো তিন পাউন্ডের মতো, এখন তা ৪০ পেন্সে নেমে এসেছে। যুক্তরাজ্যে প্রতি তিনটি অফিসের একটি নিজেরা কিছু না কিছু বিদ্যুৎ উৎপন্ন করছে।

চলন্ত গাড়ির বাতাস থেকেও আসবে বিদ্যুৎ!
বায়ুকলের সম্ভাবনা নিয়েও ব্যাপক গবেষণা চলছে। এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হচ্ছে বায়ুকলগুলো বাতাসের পরিবর্তিত গতিপথের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না এখনও। এটির সমাধানে এগিয়ে এসেছেন নিকোলাস ওরেলানা ও ইয়াসিন নুরানি।

তাদের উদ্ভাবিত ও-উইন্ড টারবাইন যে দিক থেকেই বাতাস আসুক না কেন ঘুরবেই। ইতিমধ্যে ২০১৮ সালের জেমস ডাইসন পুরষ্কারও পেয়েছে তাদের উদ্ভাবন।

এদিকে তুরষ্কের ডেভিচি টেক নামে একটি প্রযুক্তি কোম্পানি চলন্ত গাড়ির বাতাসকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

তারা এমন এক ধরনের বায়ুকল তৈরি করেছে, যা রাস্তার পাশে বসানো থাকবে এবং চলে যাওয়া গাড়ির বাতাসে ঘুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

বিবিসি অবলম্বনে এমআর/আরআর/ডিসে ০২/১২.৫০

আরো পড়ুন ঃ-

বিদ্যুৎ চুরি রোধের প্রযুক্তি বানালেন ইউআইইউর চার বন্ধু

মহাবিশ্ব শুরুর সংকেত শনাক্ত করবে পারমাণবিক ঘড়ি

*

*

আরও পড়ুন