প্রোগ্রামিং ল্যাব নয়, যেন এটিএম বুথ

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : একটি ল্যাব পাল্টে দিচ্ছে শত শিক্ষার্থীর চিন্তা-চেতনা। মনকে একটা নির্দিষ্ট কাজে একাগ্র করে তুলছে। তাই সেখানে গিয়েই অংকের খেলায় মেতে উঠছেন শিক্ষার্থীরা।

দিন নেই রাত নেই আলো জ্বলে চলেছে ল্যাবটিতে। আর শিক্ষার্থীরা সেই আলোয় মেতে চলেছেন প্রোগ্রামিং করে। খুবই সাদামাটা এক রুমের ল্যাবটি শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দিচ্ছে বিশ্ব প্রোগ্রামিংয়ের সবচেয়ে বড় আসরে।

বলছিলাম সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রোগ্রামিং ল্যাবের কথা। যে ল্যাব শিক্ষার্থীদের দেখাচ্ছে প্রোগ্রামিংয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।

২০০০-২০০১ সালের দিকে ল্যাবটির যাত্রা হলেও তখন ল্যাবটিতে বিভিন্ন ধরনের কাজ হতো। কিন্তু ২০০৪-২০০৫ সালের দিকে সেটিকে প্রোগ্রামিং ল্যাব হিসেবে স্থানান্তর করা হয় সিএসই বিভাগের ভবনে। শুরু হয় প্রোগ্রামিংয়ে শিক্ষার্থীদের হাতেখড়ির কাজ।

শাবিপ্রবির প্রোগ্রামিং ল্যাবে প্রোগ্রামিং করছেন এক শিক্ষার্থী। ছবি : টেকশহরডটকম

কেন এমন প্রোগ্রামিং ল্যাব?

বিশ্বব্যাপীই কম্পিউটার প্রোগ্রামারদের চাহিদা বেড়েছে। দেশের শিক্ষার্থীরা কেন পিছিয়ে পড়বে? বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেন একটি ভালো পরিবেশ পায়, যাদের রুমে ইন্টারনেট সমস্যা, কম্পিউটারের সমস্যা তারা যেন সহজেই প্রোগ্রামিং করতে পারেন সে জন্যই এমন ল্যাব তৈরি বলে জানান সিএসই বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজা সেলিম।

ল্যাবটির দায়িত্বে রয়েছেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি টেকশহরডটকমকে বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং সহজেই কিছু রিসোর্স পায় সে জন্যই এটি তৈরি করা।

তিনি বলেন, যদিও ল্যাবটিতে আহামরি কিছু নেই। শিক্ষার্থীদের জন্য যে কম্পিউটার রয়েছে তারও স্বল্পতা রয়েছে।

যেভাবে ল্যাবে

বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন শিক্ষার্থীই ল্যাবে গিয়ে প্রোগ্রামিং করার সুযোগ পাবেন। তবে রিসোর্স হিসেবে কম্পিউটারের স্বল্পতা থাকায় সবাইকে জায়গা করে দেওয়া সম্ভব হয় না বলে জানান ল্যাবটির দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে একটি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা করি। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৩০ জনকে নির্বাচন করি যারা ল্যাবে প্রোগ্রামিং করতে পারে। তবে এর বাইরেও যেকোন শিক্ষার্থী তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পান।

ল্যাব নয়, যেন এটিএম বুথ

প্রায় সবগুলো এটিএম বুথের পাশে লেখা থাকে ২৪/৭। মানে যে কোন দিন, যে কোন সময় এটিএম থেকে টাকা উঠানো যাবে। তেমন একটি প্রক্রিয়াতেই কার্যক্রম চলে এই প্রোগ্রামিং ল্যাবের। যেন কখনো দরজা বন্ধ হয় না। রাতের আটটা কি ভোর চারটা, দুপুর দুটা কি সন্ধ্যা ছয়টা, সবসময় খোলা থাকে ল্যাবটি।

সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মওদুদ খান শাহরিয়ার বলেন, বলা চলে ল্যাবটির দায়িত্বে থাকে শিক্ষার্থীরাই। কেউ কেউ এখানে বসেই এক-দু-তিনদিন কাটিয়ে দেন শুধু প্রোগ্রামিংয়ের জন্যই।

সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলামও একই কথা বলেন, অনেকেই দেখা যায় বৃহস্পতিবার ল্যাবে প্রবেশ করে। হয়তো তার ক্লাস রোববারে সেদিন সে বের হয়ে ক্লাসে যায়। এমন দৃশ্য হরহামেশাই চোখে পড়ে।

আপনকালীন কিংবা বড় কোন ছুটি-ছাটা ছাড়া ল্যাবটি কখনো বন্ধ হয় না।

সাদামাটা সেই ল্যাবে প্রোগ্রামিংয়ের খেলায় ব্যস্ত কয়েক শিক্ষার্থী। ছবি : টেকশহরডটকম

লক্ষ্য এসিএম-আইসিপিসি জয়

শাবিপ্রবির সিএসই বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজা সেলিম টেকশহরডটকমকে বলেন, এমন প্রোগ্রামিং ল্যাব তৈরি করার অন্যতম উদ্দেশ্য বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা এসিএম-আইসিপিসিতে ভালো করা। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বজয় করুক, দেশের নাম বিশ্বের কাছে তুলে ধরুক প্রোগ্রামিং দিয়ে। আর সেটি করতে গিয়ে যে প্রোগ্রামিং নিয়ে লেখাপড়া, চর্চা তা এই ল্যাবে করতে পারে।

প্রত্যাশার কাছাকাছি শিক্ষার্থীরা

গত কয়েক বছর থেকে এসিএম-আইসিপিসির বৈশ্বিক আসরে ভালো করতে শুরু করেছে বাংলাদেশের দলগুলো। গত বছরও দেশ থেকে যে দলগুলো অংশ নিয়েছিল তাদের মধ্যে ছিল শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরাও। ২০১৮ সালের প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেবে সিএসই বিভাগের তিন শিক্ষার্থী। যারা ইতোমধ্যে দেশের প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা এবার অন্তত দক্ষিণ এশিয়া এবং ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হারিয়ে দেয়া।

ইএইচ/নভে২২/২০১৮/১৬০০

১ টি মতামত

  1. মোঃ রাশেদুল ইসলাম রনি said:

    এমন মহান উদ্যোগই আমাদের দেশকে একদিন অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। এমন মহৎ কাজে জরিতদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা রইল ।

*

*

আরও পড়ুন