দেশ সেরা তিন প্রোগ্রামার

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশ সেরা প্রোগ্রামার হওয়া তো মুখের কথা নয়, রীতিমত একটা যুদ্ধ জয়। সেই যুদ্ধ জয় করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন তরুণ।

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রোগ্রামিং আসর ‘অ্যাসোসিয়েশন অব কম্পিউটিং মেশিনারি-ইন্টারন্যাশনাল কলিজিয়েট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার (এসিএম-আইসিপিসি) বাংলাদেশের সেরা হয়েছে ‘সাস্ট ডেসিফ্রেডর’দলটি। এর তিন সদস্য মওদুদ খান শাহরিয়ার, জুবায়ের আরাফ ও অভিষেক পাল এবার যাবেন পর্তুগালে ওয়ার্ল্ড ফাইনালে লড়তে।

শাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই তিন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন প্রোগ্রামিংয়ে দেশ সেরার রহস্য।

চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ তাই প্রোগ্রামিং

প্রোগ্রামিং মানেই একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাওয়া। কারণ নতুন নতুন সব সমস্যা আসবে সামনে, সেটাকে উতরাতে হয়। এটা মজার বিষয়ও হয়। অঙ্কের খেলাও বলতে পারি আমরা। প্রত্যেকটি সমস্যা সমাধান করে নতুন কিছু শেখা যায়, এসব কারণে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহী তিন তরুণ।

এসিএম-আইসিপিসির বাংলাদেশ ফাইনালে পুরস্কার হাতে চ্যাম্পিয়ন দলের তিন প্রোগ্রামার

শুরুতে হতাশা তবুও চ্যাম্পিয়ন

প্রোগ্রামিং করতে গিয়ে প্রথম দিকে অনেকেই যে সমস্যায় পড়েন সেটা হচ্ছে হতাশা যা আমরাও ফেইস করেছি। দলটির দলনেতা মওদুদ খান বলেন, আমি যখন প্রোগ্রামিং শুরু করছিলাম তখন অনেক সময় হতাশ হয়ে যেতাম। দেখা যেত অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও কোন একটা কোড লিখতে পারছি না বা কোন একটা প্রোগ্রাম কিভাবে কাজ করছে সেটা বুঝতেছি না, তখন হতাশা আসত। তখন সেটা সামলে নিয়েছেন তিনি।

দলটির সদস্যরা এজন্য বিভাগের শিক্ষক, জ্যেষ্ঠদের দিক নির্দেশনা নিয়েছেন। প্রোগ্রামিং ছেড়ে না দিয়ে ধৈর্য্য ধরে লেগে থেকেছেন। সেই ফল আজকের অবস্থান বলে জানান তারা।

আর কোন প্রতিযোগিতায়?

মওদুদ খান জানান, তারা এসিএম-আইসিপিসিতে অংশ নেবার আগেও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। মওদুদ অবশ্য এককভাবে ও অন্যান্যদের সঙ্গে অনেক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এছাড়া ২০১৭ সালের এসিএম-আইসিপিসি ঢাকা পর্বে অংশ নিয়ে রানারআপ হন। তবে সেবার তার দলমেট ছিলেন ভিন্ন দুজন। চলতি বছলের এপ্রিলে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এসিএম-আইসিপিসির ওয়ার্ল্ড ফাইনালেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

তবে দলের অন্য দুজন জুবায়ের আরাফ ও অভিষেক পাল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিংসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

প্রত্যাশা নিয়েই পর্তুগালে

সাস্ট ডেসিফ্রেডর দলটির তিন সদস্য মনে করেন তারা বড় প্রত্যাশা নিয়েই যাবেন এসিএম-আইসিপিসির আন্তর্জাতিক আসরে। দেশে যেহেতু চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চেষ্টা থাকবে সেখানে ভালো অবস্থানে যাবার।

তারা জানান, বেশ কয়েক বছর থেকে ওয়ার্ল্ড ফাইনালে বাংলাদেশের দল অংশ নিলেও একেবারে প্রথম দিকের অবস্থানে এখনো আসতে পারেনি। আমরা প্রত্যাশা করছি আগের চেয়ে এবার আরও ভালো ফল করার। লক্ষ্য থাকবে অন্তত দক্ষিণ এশিয়া ও ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম হওয়া।

ভবিষ্যতেও প্রোগ্রামিং

ভালো লাগা থেকেই প্রোগ্রামিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন এই তিনি তরুণ। বড় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন। পরে সেই অভিজ্ঞতায় দেশের জন্য কাজ করতে চান এই তরুণরা। এছাড়া তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চান তারা।

ইএইচ/নভে১৭/২০১৮/১৬৫৫

*

*

আরও পড়ুন