সেবার প্রশ্নে বাতিল হতে পারে মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্সও

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবার মান ঠিক না হলে শেষ পর্যন্ত লাইসেন্সও বাতিল করা হতে পারে।

টেলিযোগাযোগ খাতের ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ (কিউওএস) নীতিমালার মানদণ্ডে কেউ যদি গ্রহণযোগ্য সময় ও সুযোগের পরও সেবার মান ঠিক রাখতে ব্যর্থ হয় তাহলে সেই কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স থাকার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

‘আমরা কোয়ালিটি অব সার্ভিস গাইডলাইন তৈরি করেছি। ইতোমধ্যে অপারেটরগুলোকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে যন্ত্রপাতি আছে, আমরা এখন মাপজোক করবো, যাচাই করবে। সেবা ঠিকঠাক না হলে জরিমানা করবো। এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’-বলছিলেন মন্ত্রী।

‘কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে হবে, বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। আমরা শাস্তির ব্যবস্থা নেবো , এমনকি লাইসেন্সও বাতিল করতে পারি। আসলে কোনোমতেই- কোনোভাবেই দীর্ঘ এক বছরেও কেউ যদি সেবার মান ইম্প্রুভ না করে তাহলে সেই অপারেটর দিয়ে কী করবো ?’

মোস্তাফা জব্বার আরও জানান, ‘গত তিন মাসে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার বেড়েছে ৩০০ জিবিপিএস। এর মানে কী ? মানুষ ব্যাপকহাবে সেবা নিচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যন্ত কানেক্টিভিটি যাচ্ছে, তাহলে সেখানে তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করবে না ? অবশ্যই করবে। এই অবস্থায় সেবার মান ঠিক রাখতেই হবে।’

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ঘোষিত মানদণ্ড অনুসারে সেবা দেওয়া না হলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জরিমানা করতে পারবে বিটিআরসি। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার একটি কারিগরি পর্যবেক্ষণ দল মান নিশ্চিত করতে কাজ করবে। অপারেটরগুলো এ ক্ষেত্রে দোষী প্রমাণিত হলে তাদেরকে জরিমানা করা যাবে।

মোবাইল অপারেটর ছাড়াও আইএসপি, ওয়াইম্যাক্স, বিটিসিএলের (ল্যান্ডফোন) মতো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই  কিউওএস নীতিমালা মেনে চলতে হবে।

নীতিমালায় থ্রিজি প্রযুক্তির ইন্টারনেটে ডাউনলোডের সর্বনিন্ম গতি দুই এমবিপিএস আর টুজি ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে প্রতি সেকেন্ডে ১৬০ কিলো বিটস বা কেবিপিএস উল্লেখ করা হয়েছে।

ফোরজি প্রযুক্তির ইন্টারনেটের সর্বনিন্ম গতি আগে হতেই নির্ধারণ করা রয়েছে ৭ এমবিপিএস। আর ব্রডব্যান্ডের বর্তমান সর্বনিম্ন গতি হচ্ছে ১০ এমবিপিএস।

একই ভাবে নীতিমালায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) এবং মোবাইল ফোন অপারেটর- উভয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, একটি ওয়েবসাইট ডাউনলোড হতে হবে ৭ সেকেন্ডের মধ্যে।

নীতিমালায় মোবাইলে কথা বলার ক্ষেত্রে কলড্রপের হার সর্বোচ্চ দুই শতাংশ হতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এডি/নভে৫/২০১৮/২০২০

*

*

আরও পড়ুন