চোখ রাখুন ২০৫০ সালের প্রযুক্তি বিশ্বে

Pictures circling around Pacific Islander woman's head
Evaly in News page (Banner-2)

মিজানুর রহমান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ফাইভজির মতো অবকাঠামোগত প্রযুক্তির উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব। কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে ২০৫০ সালে, একটু কল্পনা করুন তো?

প্রযুক্তি বিশ্বের খোঁজ খবর রাখেন এমন যে কেউই অনুমান করতে পারেন আগামী তিন দশকে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। নতুন সব উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে বিপ্লব ঘটতে পারে মেডিক্যাল, লাইফস্টাইল, যান্ত্রিক ও কারিগরি ক্ষেত্রে।

তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে এখনই। মাত্র দিন দুয়েক আগে খবর পাঠ করেছে এআই। এমন কত কিছুই দেখা যাবে সামনের দিনে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক বর্তমানের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কেমন হবে –

ফাইভজি

পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল ইন্টারনেট। এই প্রযুক্তি মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পুরো ঢেলে সাজাবে। ফোর জি থেকে ১০০-১০০০ গুণ বেশি দ্রুত এই নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় ডেটা স্পিড হবে কয়েক গিগাবাইট পার সেকেন্ড।

লেটেন্সি নেমে আসবে প্রায় শুন্যের কোঠায়। যার কারণে নির্মাণ সম্ভব হবে অনেক ধরনের নতুন নতুন প্রযুক্তি, যেমন-সেলফ ড্রাইভিং কার। বিকশিত হবে ইন্টারনেট অব থিংস ইন্ডাস্ট্রি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং 

এই দুটি প্রযুক্তি ইতিমধ্যে প্রায় ম্যাচুরিটিতে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে এসব প্রযুক্তির ব্যবহারের সীমা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটির কল্যাণজনক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মানুষের জন্য জীবনযাপন অনেক সহজ হবে। সব জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো যাবে রোবট দিয়ে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার 

সময়ের সঙ্গে কম্পিউটার পদ্ধতির অনেক পরিবর্তন এসেছে। বলা হয়ে থাকে, ২০০৭ সালে উন্মোচিত প্রথম আইফোন নাসার সর্বপ্রথম কম্পিউটার সিস্টেম থেকে শক্তিশালী ছিল।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার বাণিজ্যিকভাবে সুলভ হলে সেটি হবে আজকের একটি সুপার কম্পিউটারের সমান সক্ষমতার। এ কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর দাঁড়াবে পরবর্তী প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, অগমেন্টেড রিয়েলিটি ও ইন্টারনেট অব থিংস।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি 

এ অবকাঠামোগত প্রযুক্তিটি ইতিমধ্যেই অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এর ওপরে দাঁড়িয়ে সামনের দিনগুলোতে নির্মিত হবে অনেক ধরনের অ্যাপ যেগুলো বাস্তব ও কৃত্রিম বাস্তবের সমন্বয়ে এক নতুন বিশ্ব চোখের সামনে হাজির করবে।

এসব অবকাঠামোগত প্রযুক্তি আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে সুলভ হবে, যার কারণে বিপ্লব আসবে মেডিক্যাল, লাইফস্টাইল ও মেকানিক্যাল ক্ষেত্রে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক কেমন হতে পারে আগামীর এসব প্রযুক্তিগুলো

ড্রোন : ২০৫০ সালের মধ্যে ড্রোন একটি মেইনস্ট্রিম প্রযুক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। ডেলিভারি ড্রোন এমনকি মনুষ্যবাহী ড্রোনও দেখা যাবে আকাশে। অ্যামাজন, আলিবাবাসহ বিশ্বের সব বড় রিটেল কোম্পানি ডেলিভারি ড্রোন ব্যবহার করবে।

নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব : ২০৫০ সালের মধ্যে নতুন নকশার ঘরবাড়ি দেখা যেতে পারে। ফ্লেক্সিবল সোলার প্যানেলে মোড়ানো থাকবে এসব বাড়ি। যেগুলোর মধ্যে একটি ব্যাটারি চেম্বারও থাকবে।

সুপার এফিশিয়েন্ট ইলেক্ট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স বিদ্যুৎ খরচ করবে কম। ফলে অল ইলেক্ট্রিক সিস্টেম দাঁড়াবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট : শিল্প কারখানার প্রডাকশন লাইনে মানুষের চেয়ে রোবট বেশি দেখা যাবে। মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে নির্মিত বিশেষায়িত রোবট অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করবে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি : ২০৫০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বেশ বাড়বে। ফাইভজি সার্ভিসের কারণে লেটেন্সি কমে গেলে বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর বেশিরভাগই হবে ড্রাইভারলেস। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে স্মার্ট ভেহিকল সিস্টেম গড়ে উঠবে।

ফ্লেক্সিবল স্ক্রিন : ২০৫০ সালের মধ্যে ফ্লেক্সিবল স্ক্রিনের ব্যবহার মেইনস্ট্রিম হবে। বাড়ির ওয়ালপেপার হিসেবে ব্যবহৃত হবে এসব স্ক্রিন। ইউনিফাইড ইলেক্ট্রনিকস সিস্টেমে আপনি আপনার সব ধরনের ইলেক্ট্রনিকস সিস্টেমের তথ্য সেসব ওয়ালপেপারে দেখতে পাবেন। এই প্রযুক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে।

মেডিক্যাল রোবট : ওই সময়ের মধ্যে মানুষের নানান ধরনের অসুখ সারতে রোবটের ব্যবহার বাড়বে। ফাইভজির লো লেটেন্সিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সার্জারিও সম্পন্ন হবে রোবটের সাহায্যে।

রোবট কৃষক : কৃষিক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার বাড়বে। বিশ্বের নানান জায়গায় স্বয়ংক্রিয় খামার দেখা যাবে।

স্মার্টফোনের জায়গায় স্মার্ট গ্লাস : স্মার্ট গ্লাস বাজারে আনতে পারে বড় কোম্পানিগুলো। যেসব গ্লাসে অগমেন্টেড রিয়েলিটিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হবে নানান ধরনের অ্যাপ। বাস্তব ও কৃত্রিম বাস্তবের সমন্বয়ে এক নতুন পৃথিবী চোখের সামনে আসবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় অনেক কমবে : ২০৫০ সালের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহারের ফলে অনেক পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে। যার কারণে কমে আসতে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম।

ক্যাশ হয়ে যাবে সেকেলে : ক্যাশলেস লেনদেন সর্বক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। টাকা কেবল নম্বরেই দেখা যাবে। হাত দিয়ে ধরার সৌভাগ্য নাও হতে পারে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে।

থ্রিডি প্রিন্টিং : থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে অনেক জটিল মডেলের ডামি তৈরি করা যাবে। যার ব্যবহার আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। স্থাপত্যের শিক্ষার্থীদের আর রাত জেগে এটা সেটা জুড়ে মডেল তৈরি করতে হবে না।

সবশেষে বলা যায়, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রযুক্তি পৃথিবীকে আমূল পরিবর্তন করে দেবে এটা আশা করা যায়। দেশে দেশে গড়ে উঠবে স্মার্ট শহর। একই সময়ে এসব প্রযুক্তির অসাধু ব্যবহার থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি যেন মানুষের জন্য ক্ষতি বয়ে না আনে সেদিকে বেশি খেয়াল রাখতে হবে।

ভার্জ, ওয়্যারডসহ প্রযুক্তিভিত্তিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসরণে 

এমআর/আরআর/ইএইচ/নভে ১১/২০১৮/১০.৫৫

আরো পড়ুন ঃ-

ভাঁজ করা ফোনের দিন আসছে

মানুষের জন্য ঘোড়ার ব্লিংকার!

মনিটরের যত্নে যা করবেন

*

*

আরও পড়ুন