সাধারণের কাতারে 'এলিট' আইএসপিএবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট সেবাদাতা সব কোম্পানির জন্য এতদিন দরজা খোলা ছিল না এই সংগঠনটির।

খাতটির অনেকের কাছেই শোনা যেত ‌‌‌ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন বা আইএসপিএবি  একটি ‘এলিট’ সংগঠন।

তবে এবার সেই ‘এলিট’ খেতাব ঘুচে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর ইন্টারনেট সেবাদাতা সব শ্রেণির কোম্পানির জন্য সদস্যপদের সুযোগ দিচ্ছে সংগঠনটি। শনিবার প্রথম দফায় সদস্য না হতে পারার শ্রেণিতে থাকা ৭৬টি কোম্পানি সদস্য হয়েছে। যদিও এদিন আবেদন পড়েছিল ১০৪ টি কোম্পানির।

দেশে ন্যাশনওয়াইড, সেন্ট্রালজোন, জোনাল এবং এ, বি, সি, এই ছয় ক্যাটাগরিতে ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানির লাইসেন্সের শ্রেণিকরণ রয়েছে। এরমধ্যে এতদিন প্রথম তিন ক্যাটাগরির লাইসেন্সধারী কোম্পানিরা আইএসপিএবির সদস্য হতে পারতেন।

তবে আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম টেকশহরডটকমকে বলছেন, তারা কোনো বিভক্তি করেননি। ১৯৯৭ সালে যখন সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয় তখন এই এ, বি, সি ক্যাটাগরিই ছিল না। ২০০৯-১০ সালে এই নতুন ক্যাটাগরিতে কোম্পানিগুলো ফর্ম করে। এরপর কোম্পানিগুলোকে কীভাবে সদস্য করা যায় তার প্রচেষ্টা চলছিল ।

‘অথচ এখন যখন তাদের সদস্য করে নেয়া হচ্ছে তখন আবার অনেকেই সদস্য হতে আগ্রহী হচ্ছে না’-এমনটি  বলছিলেন এম এ হাকিম।

‘আমরা সব-সময় একসঙ্গে, একই সংগঠনে থাকতে চেয়েছি। এজন্য এই ক্যাটাগরিগুলো সদস্য করতে সংগঠনের মেমোরেন্ডামও সংশোধন করা হয়েছে।’- টেকশহরডটকমকে বলছিলেন আইএসপিএবির সহ-সভাপতি এফ এম রাশেদ আমিন।

‘প্রতিটি খাতে কোম্পানির ব্যবসায়িক শ্রেণি ও পরিধি বিবেচনায় বড়-মাঝারি-ছোট ইত্যাদি আলোচনা ইনফরমালভাবে চলে আসে। সাইবার ক্যাফে ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িক পরিবর্তনের কারণে এক সময় আইএসপিতে আসে। যেখানে তাদের আলাদা একটি সংগঠনও রয়েছে। তখন হয়ত তারা ভেবেছে বড় আইএসপির সঙ্গে গেলে তাদের অবস্থান বা টিকে থাকাটা কেমন হবে। এমন পরিস্থিতিতে হয়ত কেউ কেউ আইএসপিএবি বড়দের সংগঠন, এলিটদের সংগঠন এমনটা ভেবেছেন, বলেছেন।’

এফ এম রাশেদ আমিন আরও বলছেন, এখন আইএসপিএবিতে এই ক্যাটাগরির সদস্যরা ইসিতে থাকার সুযোগও পাচ্ছেন। তারা অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে সদস্য হবেন এবং ইসির জন্য নিজেদের মধ্যে অন্তত দুইজন প্রতিনিধিকে মনোনীত করতে পারবেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ ক্যাটাগরির লাইসেন্সধারী এক কোম্পানির মালিক কিছুটা উষ্মা নিয়ে বলছেন, বিভেদ তো এখনও গেলো না। অামাদের জন্য আলাদা সদস্য ক্যাটাগরি করা হলো। আর পুরো ইসিতে আমাদের যে প্রতিনিধিত্ব রাখার কথা বলা হচ্ছে তা শুধু দেয়ার জন্য দেয়া।

সারাদেশে সব ক্যাটাগরি মিলে বিটিআরসির নিবন্ধন থাকা আইএসপি কোম্পানির সংখ্যা ৬২৫টি। এর মধ্যে আইএসপিএবির সদস্য ২০০ এর মতো।

এর মধ্যে ক্যাটাগরি এ  (ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা) কোম্পানি ২২৮ টি। বি ক্যাটাগরিতে (চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা) ৩১ কোম্পানি এবং ক্যাটাগরি সি’তে (অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকা) ৯১ টি কোম্পানি। এদের সবার লাইসেন্স সাইবার ক্যাফের।

এছাড়া ন্যাশনওয়াইড ক্যাটাগরিতে ১২৯ টি, সেন্ট্রাল জোন ৭০ টি, জোনালে দক্ষিণ-পূর্ব জোনে ২১, দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৮, উত্তর পূর্বে ১৭ এবং উত্তর পশ্চিমে ২০ কোম্পানির লাইসেন্স রয়েছে।

আইএসপিএবির সাধারণ  সম্পাদক এমদাদুল হক টেকশহরডটকমকে জানান, এখন হতে দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কেনো বিভক্তি নেই। এ খাতের সব কোম্পানির জন্য আইএসপিএবির সদস্যপদ খোলা। আইএসপিএবি এলিট এমন ভুল ধারণা আশাকরি ভেঙ্গে গেছে।

বিটিআরসি আইএসপি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আইএসপিএবির সদস্যপদ বা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। আর শনিবার হতে এ বি সি ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো সদস্য হতে শুরু করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে সবাই সদস্য হয়ে যাবেন বলে এই সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের আশা।

দেশে সর্বমোট ইন্টারনেট ব্যবহারের দুই তৃতীয়াংশই এই আইএসপিদের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

এডি/নভে০৪/২০১৮/১৯২০

*

*

আরও পড়ুন