Techno Header Top and Before feature image

নতুন পথে টাওয়ার ব্যবসা

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চার কোম্পানিকে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স তুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে দেশে নতুন খাত হিসেবে টাওয়ার ব্যবসার আনুষ্ঠানিক শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে কোম্পানিগুলোর কাছে লাইসেন্স হস্তান্তর করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: জহুরুল হক।

এর আগে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো নিজেদের টাওয়ার নিজেরা তৈরি করতো এবং তা পারস্পরিক ভাড়া দিতো।  এখন অপারেটরগুলো নতুন করে আর কোর্নো টাওয়ার স্থাপন করতে পারবে না, ভাড়াও দিতে পারবে না। তবে লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানির কাছে তাদের টাওয়ার বিক্রি করতে পারবে।

টাওয়ার ব্যবসার লাইসেন্স পেয়েছে ইডটকো বাংলাদেশ, টিএএসসি সামিট টাওয়ার, আইএসওএন টাওয়ার বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড ও এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে ইডটকোর কান্ট্রি ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল চৌধুরী, টিএএসসি সামিট টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আরিফ আল ইসলাম, এবি হাইটেক কনসোর্টিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান মোল্লা এবং আইএসওএন টাওয়ার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান করিম নিজ নিজ কোম্পানির পক্ষে লাইসেন্স নেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ অপারেটররা এখন টাওয়ার খাতের বিনিয়োগ নিজেদের সেবার মান বাড়াতে কাজে লাগাতে পারবে।

লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ফি হিসেবে ২৫ কোটি ও বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা দেবে। রাখতে হয়েছে ২০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি।

প্রতিটি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা রয়েছে ৭০ শতাংশ। লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রথম বছর কোম্পানিটিকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে।

দ্বিতীয় বছর জেলা শহর, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে টিএএসসি সামিট টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আরিফ আল ইসলাম টেকশহরডটকমকে জানান, বাংলালিংকের টাওয়ার কেনার বিডিং প্রক্রিয়ার মধ্যে তারা রয়েছেন। প্রক্রিয়াটি এক বছর ধরে চলছে।

এছাড়া গ্রামীণফোনের টাওয়ার কেনার প্রক্রিয়ার প্রথম বিডিং তারা করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে প্রক্রিয়াটি থেমে রয়েছে-বলছিলেন কোম্পানিটির এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

দেশের যেসব এলাকায় কোনো অপারেটররেই  টাওয়ার নেই সেখানে অপারেটরগুলো কেউ টাওয়ার চাইলে কী করবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনো অপারেটর যদি চায় তাহলে সেখানে তারা তা করে দেবেন।

৫ আগস্ট বিটিআরসির এক সভায় এই চার প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেবার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দিতে জানুয়ারি মাসে গাইডলাইন জারি ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিটিআরসি।

এই লাইসেন্স পেতে আটটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল।

আট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯১ নম্বর পেয়ে যোগ্যতাক্রমে প্রথম হয় ইডটকো বাংলাদেশ। ৮৮ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে টিএএসসি সামিট টাওয়ার, ৮৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আইএসওএন টাওয়ার বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড, এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ৮২ নম্বর পেয়ে ৪র্থ হয়েছে।

এছাড়া ৮০ নম্বর পেয়ে যমুনা টাওয়ার লিমিটেড পঞ্চম, এফটিএ বাংলাদেশ লিমিটেড ৭৫, বিডি টাওয়ার বিজনেস কো লিমিটেড ৬৯ সপ্তম হয়েছে। অন্যদিকে বিদেশি অংশীদার না পাওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিকমিউকেশন কোম্পানি লিমিটেড -বিটিসিএল কোনো নম্বরই পায়নি।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের জয়েন্ট ভেঞ্চারের কোনো একটি কোম্পনির নূন্যতম পাঁচ হাজার সাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি অনেক জনবল লাগছে টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে। এ ছাড়া টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা, ভূমি ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব রয়েছে। এসব কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টাওয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে নিজেদের সরিয়ে আনছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সেবা নিয়ে থাকে তারা।

ফলে একই অবকাঠামো ভাগাভাগির মাধ্যমে তা থেকে সেবা পেতে পারে একাধিক অপারেটর। এবার দেশেও তা চালু হলো।

নীতিমালা অনুসারে, লাইসেন্স পাওয়া কোম্পানিকে আয়ের সাড়ে ৫ শতাংশ বিটিআরসির সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করতে হবে। অন্যদিকে ১ শতাংশ দিতে হবে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে।

দেশে এখন ৩০ হাজারের বেশি টাওয়ার রয়েছে।

লাইসেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের কমিশনার মোঃ রেজাউল কাদের, স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মোঃ আমিনুল হাসান।

এডি/অক্টো১/২০১৮/১৮৩০

*

*

আরও পড়ুন