অ্যাপে দেখছেন, চুক্তিতে যাচ্ছেন

ছবি : টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চাহিদা বেড়ে যাবার ‘সুযোগ’ নিয়ে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেল চালকরা অ্যাপে ভাড়া দেখে ‘চুক্তিতে’ নিয়ে যাচ্ছেন যাত্রীদের।

এমন চুক্তিতে যাবার বিষয়ে নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে জেনেও ‘বাধ্য’ হয়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা।আর এতে প্রতারণার শিকার হচ্ছে যাত্রী ও কোম্পানি উভয়ই।

সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে রোববার সকাল থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

রাস্তায় সকাল থেকেই কোন গণপরিবহন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন লাখ লাখ মানুষ। আর সেটাকেই ‘সুযোগ’ হিসেবে নেয় বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিবন্ধন করা চালকরা।

ধর্মঘটের প্রথম দিন সকালে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় এমন চিত্র ধরা পড়েছে। অনেক যাত্রীই বলছেন, হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাইক পাওয়া একটু কষ্টকর হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই এমন উপায়ে যেতে হচ্ছে তাদের।

রাজধানীর বাড্ডা থেকে কারওয়ান বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন আবদুর রউফ। দীর্ঘক্ষণ একটি অ্যাপ ওপেন করে বাইকের জন্য অনুরোধ করার চেষ্টা করেও পারেননি। একটা সময় এক বাইক তার সামনে এসে জানতে চান কোথায় যাবেন। গন্তব্য বলার পর ওই চালক প্রথমে অ্যাপ চালু করে সেখানকার ভাড়া দেখেন। তবে তিনি অ্যাপের ভাড়ায় যাবেন না। আবদুর রউফ উপায়ন্ত না দেখে সেই ‘চুক্তি’ ভাড়াতেই গেলেন নিজের গন্তব্যে।

আবদুর রউফ টেকশহর ডটকমকে বলেন, দেখছেন তো অবস্থা। এতো লোকের চাপ, আর তাড়া আছে বলেই চুক্তিতেই চললাম।

কিন্তু এতে ঝুঁকি আছে, তবুও কেন? তিনি বলেন, অফিস তো ধরতে হবে। তাই উপায় নেই আর।

কথা হয় আলমগীর হোসেন নামের এক বাইকারের সঙ্গে। যিনি সকাল থেকে বেশ কয়েকটি রাইড দিয়েছেন বিশ্বরোড থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত। তিনি বলেন, তার কয়েকটি অ্যাপেই নিবন্ধন করা আছে। আজ যাত্রীদের চাপ থাকায় অ্যাপে দেখে ‘চুক্তিতে’ যাচ্ছেন। তাতে কোন কমিশন বা অন্য কোন ‘ঝামেলা’ থাকছে না।

কিন্তু এটা তো বেআইনি? আলমগীর বলেন, অনেকেই তো এমন করেই যাচ্ছেন, তাই আমিও।

আলমগীর অবশ্য ঢাকায় নতুন এসেছেন। খুব একটা পথ ঘাটও চেনেন না তিনি বলে জানান।

এই প্রতারণায় সামিল হয়েছেন সহজ রাইড, ওভাই, পিকমি, পাঠাও, ইজিয়ার, উবারের চালকরাও।

সাফায়েত হাসান নামের এক যাত্রী বলেন, আমি সহজ রাইড নিই, সকালে ৪০ শতাংশ ছাড়ের কুপন পেয়েছি। কিন্তু আজকে তো সেটা ব্যবহারও করতে পারলাম না। অনেকেই অ্যাপে যেতে যাচ্ছেন না।

রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাও-এর লিড মার্কেটিং ম্যানেজার সৈয়দা নাবিলা মাহবুব টেকশহর ডটকমকে বলেন, অ্যাপে দেখে, ‘চুক্তিতে’ যাবার বিষয়টিতে আমরাও অবগত। কিন্তু এর জন্য যাত্রীদের সচেতনতা সবার আগে। আমরা উভয় পক্ষকে সচেতন করতে এসএমএস দিয়েছি। তারা যেন সচেতন হয়ে যাতায়াত করেন এবং অ্যাপের মাধ্যমেই করেন।

তিনি বলেন, কেউ যদি অ্যাপে না যায় তবে তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আমাদের কিছু করার থাকবে না। কারণ, তারা তো আমাদের প্লাটফর্ম ব্যবহারই করছেন না।

তবে অনেকেই অন্য রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্মে নিবন্ধন করার পরও পাঠাওয়ের নাম ব্যবহার করেন। যেটা আমাদের রেপুটেশনে জন্য অবশ্যই খারাপ বলে জানান তিনি।

এমন বিষয়ে আগেও অভিযোগ পেয়েছে পাঠাও এবং ব্যবস্থাও নিয়েছে বলে জানান নাবিলা মাহবুব। তিনি বলেন, এর আগেও অনেক রাইডার চুক্তিভিত্তিক ভাড়াতে যেতে চেয়েছেন। যাদের গাড়ির নম্বর ছবি তুলে আমাদের পাঠিয়েছেন যাত্রীরা। পরে তদন্ত করে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

এমন অভিযোগ পাবার পর পাঠাও তাদের বেশকিছু কর্মীদের রাজধানীর কয়েকটি স্থানে নজরদারির জন্যও পাঠিয়েছে বলে জানান নাবিলা মাহবুব।

ইএইচ/অক্টো২৮/২০১৮/১৬২৫

*

*

আরও পড়ুন