Techno Header Top and Before feature image

ভার্চুয়াল নগরে প্লট কিনবেন?

decentraland-techshohor

মিজানুর রহমান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভার্চুয়াল রিয়েলিটিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে ভার্চুয়াল নগর। যেখানে আসল টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্লট।

কৃত্রিম বিশ্বে রিয়াল এস্টেট ব্যবসার এই ধারণা নিয়ে এসেছে আর্জেন্টিনার একটি কোম্পানি। নতুন  প্রযুক্তিটির নানান দিক নিয়েই থাকছে এবারের প্রতিবেদন।

ভিআর হেডসেট আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম একটি বিশ্বের দরজা খুলে যায় মানুষের সামনে। যদিও এতোদিন এর ব্যবহার কেবল কিছু গেইম খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ব্যবহার নিয়ে এসেছে আর্জেন্টিনার ওই কোম্পানি।

‘ডিসেন্ট্রাল্যান্ড’ নামে একটি কৃত্রিম শহর তৈরি করেছে তারা। যেখানে মানুষ কৃত্রিম জমি কিনতে পারবে, সেই জমির ওপর যা ইচ্ছা তা নির্মাণ করতে পারবে। এভাবে বাস্তব বিশ্বের মতো আরেকটি বিশ্ব তৈরি হচ্ছে অনলাইনে, যা ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের লেনদেন হচ্ছে এই কৃত্রিম রিয়াল এস্টেটে। এসব কৃত্রিম জমি বেচাকেনা করে অনেকে হাজার হাজার ডলারও আয় করছেন।

ডিসেন্ট্রাল্যান্ড যেভাবে কাজ করে

বিষয়টিকে একটি খেলা হিসেবে চিন্তা করা যাক। ফেইসবুকে অনেকেই সিটিভিল গেইমটি খেলে থাকবেন। যেখানে জমি কিনে শহর নির্মাণ করা যেতো। ডিসেন্ট্রাল্যান্ডের ধারণাটিও অনেকটা এরকম। তবে এটি থ্রিডি প্রযুক্তির বিশ্ব। এখানে প্রতিটি প্লট ১০ বর্গমিটার আকারের। বাস্তব নগরের মতো সুপরিকল্পিতভাবে নকশা করা হয়েছে এই নগরের। প্রতিটি প্লটের আছে ভিন্ন ভিন্ন রকমের দাম। এমনকি পজিশনের গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে জমির দামও বাড়ে-কমে।

এই কৃত্রিম বিশ্বে ভূমি কেনাবেচার জন্য ‘মানা’ নামে একটি মুদ্রা ব্যবহার করা হয়। যেটি কেবলই একটি খেলো অনলাইন কয়েন নয়। এর আছে বাস্তব ডলার মূল্য। যা ডিসেন্ট্রাল্যান্ডের কার্যক্রম ও জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে ওঠানামা করে। এই বিশ্বে জমি কেনা যাবে ডলার ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে। এই পুরো কৃত্রিম বিশ্বে ঘুরে বেড়ানো যাবে কেবল ভিআর হেডসেট মাথায় দিয়ে।

সম্ভাবনা

প্রযুক্তিটি এমন সময়ে এসেছে যখন প্রচলিত সামাজিক মাধ্যম অনেকটা মূলধারা হয়ে পড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্রযুক্তিতে নতুন কিছু আসা এখন সময়ের দাবি। যারা ডিসেন্ট্রাল্যান্ডে প্লট কিনছেন তারা মনে করেন এই প্রযুক্তির সোশ্যাল মিডিয়াকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

বর্তমানে যেভাবে একটি ফেইসবুক প্রোফাইল খুলছেন ঠিক তেমনি ডিসেন্ট্রাল্যান্ডে একটি জমি কেনে বাড়ি তৈরি করতে পারবেন। যেখানে আপনার বন্ধুরা বেড়াতে আসতে পারবে আলাপ আলোচনা করতে পারবেন। গেইমিং রুমে গিয়ে দুজন খেলতে পারবেন গেইম। সেই সঙ্গে হাজার হাজার ডলার আয় করার সুযোগ রয়েছে। যা বর্তমানে প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই।

ধরা যাক, আপনি একজন শিল্পী। আপনি একটি জমি কিনে সেটিকে আর্ট গ্যালারি বানালেন এবং প্রদর্শন বাবদ কয়েক ‘মানা’ নিচ্ছেন। এভাবে আপনার পয়সা উপার্জন হতে পারে। আরেকটি উপায় হচ্ছে ‘জমির’ হাতবদল। প্রতিনিয়ত জমির দাম এখানে বাড়ছে-কমছে। কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রির সম্ভাবনাও আছে এখানে।

প্রযুক্তিটির ব্যাপক সম্ভাবনার আরেকটি কারণ হচ্ছে, অনলাইন স্ট্যাটাস। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি যত জনপ্রিয় হবে তত অনলাইনেও ছড়িয়ে পড়বে সামাজিক শ্রেণীকরণ। এখানে নিজেকে আলাদা করতে আপনার প্রয়োজন হবে আলাদা কিছু। ডিসেন্ট্রাল্যান্ডের মাধ্যমে কৃত্রিম জগতে নিজেকে আলাদা করার সুযোগ থাকছে। অনলাইনে সামাজিক মর্যাদার একটি ফ্যাক্টর হতে পারে এটি।

ঝুঁকি

ইতিমধ্যে ডিসেন্ট্রাল্যান্ডে জমি বেচাকেনার মাধ্যমে অনেকেই হাজার হাজার ডলার কামাচ্ছেন। টেক ব্লগারদের ধারণা, এটি ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো একটি হাইপ তৈরি করবে। যখন অনেক মানুষ এই কৃত্রিম পৃথিবীতে জড়িত হবে এবং আর্থিক আকার বাড়বে তখন এর কিছু সমস্যা দেখা দেবে।

বর্তমানে এই ব্যবসার মডেল ব্লকচেইনে হলেও নিয়ন্ত্রণ থাকছে একটি কোম্পানির হাতে। বিশাল আকারের এসব লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো আইনও নেই। কৃত্রিম এই দুনিয়ায় বড় বিনিয়োগে তাই আছে ঝুঁকি। যে কোনো সময়ে নতুন কোনো প্রযুক্তি এসে ঝাঁকিয়ে দিতে পারে এই নগর।

ভিডিওতে দেখুন ভার্চুয়াল সিটি

বিবিসি অবলম্বনে/অক্টো২৭/২০১৮

*

*

আরও পড়ুন