ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ৮০০ জিবিপিএস ছাড়িয়ে

free internet-techshohor

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ৮০০ জিবিপিএস ছাড়িয়ে গেছে।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে এই ল্যান্ডমার্ক অতিক্রম করে তা ৮২০ জিবিপিএসে পৌঁছায়। গত ১০ দিনে সেটি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের শেষে দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার প্রথমবারের মতো পাঁচশ জিবিপিএস ছাড়িয়ে যায়।

এরপর মাত্র আট মাসের মধ্যে আরও তিনশ’ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউথের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে দেশে ফোরজি চালু, ফাইবার অপটিক সংযোগের প্রসারসহ সামগ্রিক ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়াকেই কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা ।

এর আগে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার তিনশ’ জিবিপিএস পেরুয়।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বৃদ্ধির এই গতিটা স্বাভাবিক পরিণতি ছিল। কারণ ২০০৯ হতে যে অবস্থাতে ইন্টারনেটের প্রসার চেয়েছি এবং মানুষের ডেটা ব্যবহারের বিষয়টাকে দেখেছি তার ফলাফল এটি।’

তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে দেশে সাবমেরিন ক্যাবল এসেছে। ২০০৬ হতে ২০০৮ পর্যন্ত এটি মাত্র ৮ জিবিপিএস পর্যন্ত হয়েছিল। সেখান হতে আজ এই ব্যবহার ১০০ গুণ বেড়ে গেছে।’

‘উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যন্ত ঘরে ঘরে ফাইবার অপটিক সংযোগ দেয়া হয়েছে। থ্রিজি-ফোরজি আনা হয়েছে। দেশের ৮৮ ভাগ ডেটা ব্যবহার এখন মোবাইলের মাধ্যমে। সেখানে এই ফেব্রুয়ারিতে যখন ফোরজি লঞ্চ করা হয় তখন এক মাসের মধ্যে ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার বেড়ে গিয়েছিল।‘

মন্ত্রী জানান, ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে দেশের  দ্বীপ, ছিটমহল, প্রত্যন্ত এলাকা হতে কোনো জায়গা বাদ থাকবে না যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে না। যেখানে কোনোভাবে ফাইবার অপটিক দেয়া যাবে না সেখানে স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হবে, কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ যাবেই। আর এসব অবকাঠামোই ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।‘

বিটিআরসির হিসাব অনুসারে আগস্টের শেষে দেশে নয় কোটি পাঁচ লাখ ইন্টারনেট সংযোগ হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৬০ লাখ ব্রডব্যান্ডের সংযোগ। তবে এই সংযোগেই সবচেয়ে বেশি ব্যান্ডউইথ খরচ হয় বলে জানায় ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক টেকশহরডটকমকে জানান, দেশে ব্রডব্যান্ডের গ্রাহক এখন ৬৫ লাখ। যেখানে তাদের মোট ব্যান্ডউথের ব্যবহার ৪৫০ জিবিপিএসের বেশি হবে।

চলতি বছরের শুরুতে এটি ২৫০ জিবিপিএসের কাছাকাছি ছিল। এই ক’মাসে সেটি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।  এটি দ্রুত আরও বাড়বে বলে মনে করছেন এই ইন্টারনেট ব্যবসায়ী।

দেশে প্রায় সাড়ে আট কোটি মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগের মধ্যে ৬৫ লাখ আছে ফোরজির গ্রাহক। সেখানেও মোবাইল ডেটার ব্যবহার বেশি বলে বলছে অপারেটরগুলো।

বিভিন্ন হিসাব অনুয়ায়ী, মোট ব্যবহৃত ডেটার মধ্যে এখন ৫০০ জিবিপিএসই আসছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির মাধ্যমে। বিএসসিসিএলের এখন দুটি বিকল্প সংযোগ থাকায় তাদের ব্যন্ডউইথের চাহিদা বাড়ছে।

তাছাড়া ইন্টারনেট টেরিস্টোরিল ক্যাবলের মাধ্যমেও ভারত থেকে আরও প্রায় তিনশ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেশে আসে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে দেশে ইন্টারনেট সংযোগ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আর সে কারণেই ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বৃদ্ধির হারও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

তাছাড়া দেশে অনেক ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে যা কেবল ইন্টারনেট ব্যবহার করেই পাওয়া সম্ভব। সরকারের অনেক সেবাও এখন ইন্টারনেটর মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ইন্টারনেট গ্রাহক এবং ব্যবহার দুই-ই বাড়ছে।

এসজেড/এডি/অক্টো১১/২০১৮/১৪৩০

৪ টি মতামত

  1. মারুফ said:

    দেশের দুই সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যাণ্ডউথের পরিমাণ প্রায় ১৫০০ জিবিপিএসের মত। চাহিদা ৮০০ জিবিপিএস। তাহলে ভারত থেকে ব্যাণ্ডউইথ আমদানির কারণ কি? বিএসসিসিএল কেন পুরোটা সরবরাহ করছে না?

  2. মো,সুজন said:

    ভাই আমরা বাংগালি সাদা মনের মানুষ, আমরা অন্ন দেশ থেকে ব্যান্ডউইথের ভাড়া আনলে সমস্যা কি আমার দেশেটাত মজুত রইয়ে গেছে, আমরা বিশ্বের যেই কোনু দেশকে মাথা উচু করে বলতে পারবো আমাদেশে ব্যান্ডউইথের মজুত আছে।

*

*

আরও পড়ুন