কেন তারা চলে গেলেন?

instagram-systrom
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হরহামেশাই বড় কোম্পানিগুলো ছোট কোম্পানিগুলোকে কিনে নিচ্ছে। মালিকানা বদল হলে নেতৃত্বেও আসে পরিবর্তন। যদিও এতোদিন ইনস্টাগ্রামের বেলায় তা খাটেনি।

৬ বছর আগে ফেইসবুকের কাছে একশ’ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে গেলেও এতোদিন পর্যন্ত সিইও কেভিন সিস্ট্রম (৩৪) ও মাইক ক্রিগারই (৩২) ছিলেন মূল নেতৃত্বে। নিজেদের মতো করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করলেও ফেইসবুকের প্রকৌশলী দল ও অবকাঠামো তাদের প্রয়োজন হতো।

কিন্তু সম্প্রতি ফেইসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গ এক মন্তব্যে ইনস্টাগ্রামের এই দুই কাণ্ডারির অবদান এড়িয়ে যান। এই মন্তব্যে তিনি বলেন, ইনস্টাগ্রামকে অধিগ্রহণ করার ফলেই তা দ্বিগুণ গতিতে বড় হয়েছে। এ কথাটি কোনো প্রমাণ ছাড়াই বলেছেন জাকারবার্গ। তাই ইনস্টাগ্রামের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি।

ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু ফেইসবুকের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত সিস্ট্রম ও ক্রিগারের মতের বিরুদ্ধে যায়।

কয়েক সপ্তাহ আগেই ইনস্টাগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার মারনে লেভিনকে ফেইসবুকে ফিরিয়ে আনা হয় গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব পালনের জন্য। মূলত লেভিনের কারণেই ইনস্টাগ্রাম ও ফেইসবুকের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় ছিলো। অন্যদিকে, ফেইসবুকের নিউজ ফিড দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা অ্যাডাম মিশৌরিকে দেওয়া হয় ইনস্টাগ্রামের হেড অব প্রোডাক্টের দায়িত্ব।

ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন আসায় সিস্ট্রোমের ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। চলতি বছর ফেইসবুক তাদের মূল সাইটে ইনস্টাগ্রামের প্রচারণাও কমিয়ে দেয়। স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়গুলোতে মর্মাহত হয়েছিলেন সিস্ট্রম ও ক্রিগার।

চলতি বছর কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ডেটা স্ক্যান্ডালের পর ফেইসবুকের আয় কমতে থাকে। তরুণরাও মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করে ফেইসবুক থেকে। অপরদিকে, ইনস্টাগ্রামে তরুণদের সময় কাটানোর হার বাড়তে থাকে। এটা সম্ভব হয়েছে ইনস্টাগ্রামের পরিচ্ছন্ন ইমেজের কারণে। আর এই ইমেজ পরিচ্ছন্ন রেখে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করার মূলে ছিলো সিস্ট্রোম ও ক্রিগারের নেতৃত্ব।

শুধু তাই নয়, গত ৬ বছরে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী সংখ্যা তিন কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে একশ’ কোটি। ফেইসবুকের কাছে বিক্রি হওয়ার সময় তাদের তেমন কোনো আয় ছিলো না। কিন্তু এ বছর শুধু বিজ্ঞাপন থেকেই ইনস্টাগ্রামের আয় হয় আটশ’ কোটি মার্কিন ডলার।

সাফল্যের পাল্লাটা ভারি হওয়ার সত্ত্বেও ফেইসবুকের একনায়কতন্ত্র মনোভাবের কারণেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কেভিন সিস্ট্রম ও মাইক ক্রিগার। তাদের জায়গায় নতুন কে ফটো শেয়ারিং অ্যাপটির হাল ধরবেন সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ফেইসবুক।

আরও পড়ুন : সরে দাঁড়ালেন ইনস্টাগ্রামের ২ সহ-প্রতিষ্ঠাতা

বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে আনিকা জীনাত

*

*

আরও পড়ুন